উপকারভোগীর তালিকায় বিএনপি নেতাসহ সচ্ছল ব্যক্তিরা

জামালপুরের বকশীগঞ্জে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলের অর্থ বিতরণে উপকারভোগীর তালিকায় বিএনপি নেতা, চাকরিজীবী ও সচ্ছল ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। এছাড়া কয়েকটি এলাকায় এখনো বরাদ্দের অর্থ বিতরণ করা হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। জানা গেছে, জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ ও বকশীগঞ্জ) আসনের দুস্থ ও অসহায় মানুষের সহায়তার জন্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে বকশীগঞ্জ উপজেলার জন্য বরাদ্দ রাখা হয় সাড়ে চার লাখ টাকা। নীতিমালা অনুযায়ী দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তি, দরিদ্র শিক্ষার্থী এবং চরম অর্থকষ্টে থাকা বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের এ অর্থ পাওয়ার কথা। তবে অভিযোগ উঠেছে, প্রকৃত উপকারভোগীদের পরিবর্তে বিভিন্ন ইউনিয়নে বিএনপির নেতাকর্মী ও সচ্ছল ব্যক্তিদের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। গত ২৬ মে নিলক্ষিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোমতাজুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান মজির স্বাক্ষরিত একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়। ওই তালিকায় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জ

উপকারভোগীর তালিকায় বিএনপি নেতাসহ সচ্ছল ব্যক্তিরা

জামালপুরের বকশীগঞ্জে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলের অর্থ বিতরণে উপকারভোগীর তালিকায় বিএনপি নেতা, চাকরিজীবী ও সচ্ছল ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। এছাড়া কয়েকটি এলাকায় এখনো বরাদ্দের অর্থ বিতরণ করা হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।

জানা গেছে, জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ ও বকশীগঞ্জ) আসনের দুস্থ ও অসহায় মানুষের সহায়তার জন্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে বকশীগঞ্জ উপজেলার জন্য বরাদ্দ রাখা হয় সাড়ে চার লাখ টাকা। নীতিমালা অনুযায়ী দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তি, দরিদ্র শিক্ষার্থী এবং চরম অর্থকষ্টে থাকা বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের এ অর্থ পাওয়ার কথা।

তবে অভিযোগ উঠেছে, প্রকৃত উপকারভোগীদের পরিবর্তে বিভিন্ন ইউনিয়নে বিএনপির নেতাকর্মী ও সচ্ছল ব্যক্তিদের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। গত ২৬ মে নিলক্ষিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোমতাজুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান মজির স্বাক্ষরিত একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়। ওই তালিকায় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম প্রিন্স এবং ইউনিয়ন কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও কোচিং ব্যবসার সঙ্গে জড়িত মানিক চৌধুরীর নাম অন্তর্ভুক্ত থাকায় স্থানীয়ভাবে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

তালিকার ৭ নম্বর ক্রমিকে রয়েছেন নীলাখিয়া ইউনিয়নের বিনোদের চর গ্রামের মৃত শুক্কর মিয়ার ছেলে মো. মামুন। তবে তার মোবাইল নম্বরের স্থলে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম প্রিন্সের ব্যবহৃত নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জাহিদুল ইসলাম প্রিন্স বলেন, সুবিধাভোগীর তালিকায় আমার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর ভুলবশত লেখা হয়েছে।

তালিকার ৩ নম্বর ক্রমিকে থাকা মানিক চৌধুরী ইউনিয়ন কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি পেশায় একজন স্কুলশিক্ষক এবং কোচিং সেন্টার পরিচালনা করেন। স্থানীয়দের দাবি, তার ৭ থেকে ৮ বিঘা জমি ও মাছ চাষের বড় প্রকল্প রয়েছে।

এ বিষয়ে মানিক চৌধুরী বলেন, ‘আমি প্রথমে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলাম না। পরে আমার কাছে টাকা আসার পর জানতে পারি যে নামটি নিয়ে সমস্যা রয়েছে। এরপর সেই টাকা আমি ১০ জন মানুষের মধ্যে বিতরণ করে দিই। বিষয়টি মূলত অনিচ্ছাকৃতভাবে ঘটেছে, এটি একটি ভুল বা ভুল বোঝাবুঝির কারণে হয়েছে।’

এদিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

উপকারভোগীর তালিকায় বিএনপি নেতাসহ সচ্ছল ব্যক্তিরা

বকশীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও উপজেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক জুবায়দুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আহ, ফেসবুক না থাকলে জানতামই না যে ত্রাণের টাকা আছে। আপনাদের নিয়ে মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথা বললে আমাদের খারাপ লাগে। দল এবং আমাদের প্রিয় নেতাকে ভালোবাসি বলেই লাগে। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের টাকা বণ্টনের তালিকাটা প্রকাশ করেন, সবাই জানুক কে কে পেল। তাহলে আপনাদের স্বচ্ছতাও থাকল, আর মানুষ নেতৃত্ব নিয়ে বাঁকা কথা বলতে পারবে না।’

একইভাবে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জাহিদুল ইসলাম ফেসবুকে লিখেছেন, ‘ফেসবুকের কল্যাণে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলের খবর জানতে পারলাম। প্রকৃত হকদারের কাছে পৌঁছলে সাধুবাদ জানাই।’ তবে পরে তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ওই পোস্ট আর দেখা যায়নি।

বকশীগঞ্জের ছাত্রনেতা ও জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি সাদ আহম্মেদ রাজু বলেন, এই টাকার বিষয়ে আমরা জানতাম। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপি নেতাদের নাম দেখে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। পরে তারা বলছেন এটি ভুল। কিন্তু এত বড় ভুল জনমনে সন্দেহ সৃষ্টি করে। তাদের উচিত পুরো বিষয়টি প্রকাশ করে জনগণের সামনে তুলে ধরা। শুধু একটি ইউনিয়ন নয়, উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে কারা এই অর্থ পেয়েছেন তার তালিকা প্রকাশ করা হোক। এটাই বকশীগঞ্জবাসীর দাবি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুরাদ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জামালপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ ইউসুফ আলী জাগো নিউজকে বলেন, বিষয়টি মাত্র জানতে পারলাম। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয়ভাবে অবগত করা হবে। অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তথ্যটি জানানোর জন্য ধন্যবাদ।

হৃদয় আহম্মেদ/এনএইচআর/এমএস

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow