ওমরাহ ইসলামে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল। তবে ওমরাহ ওয়াজিব বা অপরিহার্য কোনো আমল নয়, বরং মুস্তাহাব আমল। সামর্থ্য থাকলে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও সওয়াবের জন্য ওমরাহ করা যেতে পারে। কারো যদি যথাযথ সামর্থ্য না থাকে, ওমরাহ করলে পরিবারের ওয়াজিব হক আদায় করতে না পারার আশংকা থাকে, কেউ যদি ঋণগ্রস্ত হয় এবং ঋণ পরিশোধ না করে ওমরাহ করলে পরবর্তীতে ঋণ পরিশোধ করা কষ্টকর হয়ে পড়ার আশংকা থাকে বা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ঋণ পরিশোধ করতে না পারার আশংকা থাকে, তাহলে ইসলামের দৃষ্টিতে তার কর্তব্য হলো, নফল ওমরাহর চেয়ে পরিবারের ওয়াজিব হক আদায় ও ঋণ পরিশোধ করাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া।
আর যদি ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির কাছে এই পরিমাণ অর্থ থাকে যে, সে ওমরাহর খরচ বাদ দিয়েও সহজে ঋণ পরিশোধ করতে পারবে অথবা পাওনাদার যদি ঋণ পরিশোধের জন্য অবকাশ দিয়ে থাকে আর সে ওমরাহ থেকে ফিরে সহজে ঋণ পরিশোধ করতে পারে, তাহলে সে ওমরাহ পালন করতে পারে।
ইসলামে ঋণ পরিশোধের সামর্থ্য থাকার পরও ঋণ পরিশোধ করতে গড়িমসি করা জুলুম ও গুনাহের কাজ। ঋণ গ্রহণকারী ব্যক্তি যদি অভাবগ্রস্ত না হয়, তার যদি ঋণ পরিশোধের সামর্থ্য থাকে, তাহলে তার কর্তব্য নিজের কথার মর্যাদা রক্ষা করা এবং ঋণ পরিশোধের সময় অতিক্রান্ত হওয়ার আগেই ঋণ পরিশোধ করে দেওয়া। হাদিসে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে সক্ষম ব্যক্তির টালবাহানা করা অত্যাচারের শামিল। (সহিহ মুসলিম: ৩৮৫৬)
দুনিয়াতে বেঁচে থাকতে ঋণ পরিশোধের সামর্থ্য থাকার পরও ঋণ পরিশোধ না করলে পরকালে নিজের আমল দিয়ে এবং ঋণদাতার গুনাহের বোঝা নিজের কাঁধে নিয়ে ওই ঋণ পরিশোধ করতে হবে। বান্দার হক আল্লাহ ক্ষমা করবেন না। আল্লাহর পথে শাহাদাত বরণ করলেও ঋণ মাফ হয় না। নবিজি (সা.) বলেছেন, আল্লাহর পথে জীবন উৎসর্গকারী শহীদের সব পাপ ক্ষমা করা হলেও অপরিশোধিত ঋণ ক্ষমা করা হয় না। (সহিহ মুসলিম: ৪৯৯১)
আরেকটি হাদিসে, রাসুল (সা.) বলেন, কারো উপর তার ভাইয়ের কোনো দাবি থাকলে সে যেন তা থেকে মুক্ত হয়। কারণ কেয়ামতের দিন পাওনা পরিশোধের জন্য টাকা-পয়সা থাকবে না। তখন অন্যায়ের সমপরিমাণ সওয়াব পাওনাদারের জন্য নিয়ে নেওয়া হবে। সওয়াব না থাকলে পাওনাদারের গুনাহগুলো তার উপরে চাপিয়ে দেওয়া হবে। ( সহিহ বুখারি ৬৫৩৪)
আর ঋণ গ্রহণকারী যদি অভাবগ্রস্ত হয়, ঋণ পরিশোধ করতে না পারে, তাহলে তাকে ছাড় দেওয়া, ঋণ পরিশোধের তারিখ পিছিয়ে দেওয়া, সাধ্য থাকলে কিছু ঋণ বা সম্পূর্ণ ঋণ মাফ করে দেওয়াও অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ কাজ, আল্লাহর ক্ষমা ও সন্তুষ্টি লাভের কারণ। আবুল ইয়াসার (রা.) বলেন, আমি নবিজিকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি অক্ষম ঋণগ্রস্তকে সময় দেবে অথবা তার ঋণ মওকুফ করবে, আল্লাহ তাআলা কেয়ামতের দিন তাকে তার (আরশের) ছায়া দান করবেন। (সহিহ মুসলিম: ৩০০৬)
আবু হুরাইরাহ (রা.) থেকে বর্ণিত আরেকটি হাদিসে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, এক লোক মানুষের সাথে লেনদেন করত। সে তার কর্মচারীকে বলে দিত, তুমি যখন কোন অভাবগ্রস্তের কাছে যাবে তখন তাকে ক্ষমা করে দেবে। হয়ত আল্লাহ আমাদেরকেও ক্ষমা করে দেবেন। তারপর ওই ব্যক্তি যখন আল্লাহর সাথে মিলিত হলো, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিলেন। (সহিহ মুসলিম: ৩৮৯০)
বুরায়দা আল-আসলামী (রাঃ) থেকে বর্ণিত নবিজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, যে ব্যক্তি অভাবী ব্যক্তিকে ঋণের পরিশোধের ব্যাপারে ছাড় দেবে, সে ছাড় দেওয়া প্রতিদিনের বিনিময়ে সদকার সওয়াব পাবে। যে ব্যক্তি ঋণ শোধের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও সময় বাড়িয়ে দেবে সেও প্রতিদিনের বিনিময়ে সদকার সওয়াব পাবে। (সুনানে ইবনে মাজা: ২৪১৮)
ওএফএফ/এমএস