এক দুর্ঘটনায় থেমে গেল ৪টি পরিবারের স্বপ্ন

সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে দারিদ্র্য, ঋণের চাপ ও জীবিকার কঠিন বাস্তবতার ভেতর দিয়ে বেঁচে থাকা ৪টি পরিবারের জীবন থেমে গেছে সিলেটের এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায়। গত রোববার (৩ মে) ভোরে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের তেলিবাজার এলাকায় ট্রাক ও পিকআপভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে উপজেলার চারজন নির্মাণ শ্রমিক নিহত হন।  নিহতদের মধ্যে ভাটিপাড়া ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের সুরুজ আলী সংসারের অভাব মেটাতে গিয়ে দাদন ব্যবসায়ীদের ঋণের জালে জড়িয়ে পড়েন। চড়া সুদে নেওয়া ঋণ ধীরে ধীরে চক্রবৃদ্ধি আকারে বেড়ে একসময় অসহনীয় হয়ে ওঠে। ঋণের চাপ সামাল দিতে না পেরে বাড়ি বন্ধক রেখে তিনি দুই লাখ টাকা নেন। কিন্তু তাতেও স্বস্তি মেলেনি, বরং সুদের বোঝা আরও বাড়তে থাকে। বাধ্য হয়ে তিন বছর আগে পরিবারসহ সিলেটে পাড়ি জমান। সেখানে ভাড়া বাসায় থেকে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করতেন।  সোমবার (৪ মে) তাদের গ্রামে গিয়ে দেখা যায় হৃদয়বিদারক দৃশ্য। সুরুজ আলীর স্ত্রী ছফিনা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আল্লাহ গো, এখন আমরা কী করমু? বাড়ি বন্ধক দিয়া দুই লাখ টেকা নিছি, সুদের লাভ দিয়া আর দুই লাখ দিছি, তাও আসল শেষ হয় না।’ পাওনাদার কামরুল ইসলাম বলেন, সুরুজ আলী প্রায় সাত লাখ টাকার ঋণ নিয়

এক দুর্ঘটনায় থেমে গেল ৪টি পরিবারের স্বপ্ন

সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে দারিদ্র্য, ঋণের চাপ ও জীবিকার কঠিন বাস্তবতার ভেতর দিয়ে বেঁচে থাকা ৪টি পরিবারের জীবন থেমে গেছে সিলেটের এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায়। গত রোববার (৩ মে) ভোরে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের তেলিবাজার এলাকায় ট্রাক ও পিকআপভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে উপজেলার চারজন নির্মাণ শ্রমিক নিহত হন। 

নিহতদের মধ্যে ভাটিপাড়া ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের সুরুজ আলী সংসারের অভাব মেটাতে গিয়ে দাদন ব্যবসায়ীদের ঋণের জালে জড়িয়ে পড়েন। চড়া সুদে নেওয়া ঋণ ধীরে ধীরে চক্রবৃদ্ধি আকারে বেড়ে একসময় অসহনীয় হয়ে ওঠে। ঋণের চাপ সামাল দিতে না পেরে বাড়ি বন্ধক রেখে তিনি দুই লাখ টাকা নেন। কিন্তু তাতেও স্বস্তি মেলেনি, বরং সুদের বোঝা আরও বাড়তে থাকে। বাধ্য হয়ে তিন বছর আগে পরিবারসহ সিলেটে পাড়ি জমান। সেখানে ভাড়া বাসায় থেকে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করতেন। 

সোমবার (৪ মে) তাদের গ্রামে গিয়ে দেখা যায় হৃদয়বিদারক দৃশ্য। সুরুজ আলীর স্ত্রী ছফিনা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আল্লাহ গো, এখন আমরা কী করমু? বাড়ি বন্ধক দিয়া দুই লাখ টেকা নিছি, সুদের লাভ দিয়া আর দুই লাখ দিছি, তাও আসল শেষ হয় না।’

পাওনাদার কামরুল ইসলাম বলেন, সুরুজ আলী প্রায় সাত লাখ টাকার ঋণ নিয়েছিলেন। তিনি নিজেও তার কাছে প্রায় ৩০ হাজার টাকা পাওনা আছে বলে দাবি করেন।
এ দুর্ঘটনায় নিহত ফরিদুল ইসলামের মৃত্যুতে তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী খাদিজা বেগম ও তিন সন্তান নিয়ে অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। 

স্থানীয় ইউপি সদস্য শামসুল ইসলাম বলেন, ফরিদুল ছিলেন অত্যন্ত দরিদ্র একজন মানুষ। দিনমজুরি করেই সংসার চালাতেন। নিজের ভিটায় একটি ঘর নির্মাণের স্বপ্ন ছিল তার। ঘটনার দুদিন আগে তিনি বাড়িতে এসে ধান কাটার কথা বলেছিলেন, কিন্তু স্ত্রীর অসুস্থতার কারণে দ্রুত সিলেটে চলে যান। সেখান থেকেই তিনি লাশ হয়ে ফিরলেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা শুধু চারটি প্রাণই কেড়ে নেয়নি, বরং চারটি পরিবারকে অনিশ্চয়তা ও দুঃসহ ভবিষ্যতের মুখে ঠেলে দিয়েছে। 

স্থানীয়দের মতে, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এভাবেই নিভে যেতে থাকবে আরও অনেক স্বপ্ন ও জীবন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow