‘এঙ্ক্যাই চলেল হামরা অ্যালা কী খেয়া বাঁচিম বাহে’
‘আয় রোজগার এমনিতে কম। বাজার করির আসি সাধ্যমত কোনো কিছু কিনিবার পাঁওছো না। একটা কিনলে তো আর একটা হইছেনা। বউ ছাওয়ার পেটত ক্ষিদাও সইছেনা। বাধ্য হওয়ায় মান্সেরঠে টাকা ধার করি সওদা কিনিবার বাজারত আসি দেখি সোগ কিছুর দাম বাড়তি। এঙ্ক্যাই চলেল হামরা অ্যালা কী খেয়া বাঁচিম বাহে।’ এভাবেই জানাচ্ছিলেন আব্দুল গনি নামে এক দিনমজুর। শুক্রবার (২৪ জুলাই) দুপুরে নীলফামারীর সৈয়দপুর পৌর সবজি বাজারে কথা হয় তার সঙ্গে। শাক সবজি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় আব্দুল গনির মতো দিশেহারা হয়ে পড়েছেন মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষ। আব্দুল গনির স্ত্রী ও চার সন্তানসহ মোট ছয় সদস্যের পরিবার নিয়ে থাকেন উপজেলর বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের পাঠানপাড়া গ্রামে। বাড়ির ভিটা ছাড়া চাষাবাদের কোনো জমি নেই তার। পৈতৃকসূত্রে পাওয়া যেটুকু ফসলি জমি পেয়েছিলেন অভাবের সংসারে সেটুকু বিক্রি করে দিয়েছেন। বড় মেয়ে রাজিয়া বেগম সপ্তম শ্রেণি, মেঝো ছেলে আব্দুল আওয়াল পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। আর সবচেয়ে ছোট মেয়ে ফাতেমা বেগমের বয়স কেবল আট মাস। আব্দুল গনি কখনো রাজমিস্ত্রি আবার কখনো টিনমিস্ত্রীর কাজ করে দৈনিক আয় করেন ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা। এই অল্প টাকায় তার সংসার এমনিতে
‘আয় রোজগার এমনিতে কম। বাজার করির আসি সাধ্যমত কোনো কিছু কিনিবার পাঁওছো না। একটা কিনলে তো আর একটা হইছেনা। বউ ছাওয়ার পেটত ক্ষিদাও সইছেনা। বাধ্য হওয়ায় মান্সেরঠে টাকা ধার করি সওদা কিনিবার বাজারত আসি দেখি সোগ কিছুর দাম বাড়তি। এঙ্ক্যাই চলেল হামরা অ্যালা কী খেয়া বাঁচিম বাহে।’ এভাবেই জানাচ্ছিলেন আব্দুল গনি নামে এক দিনমজুর।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) দুপুরে নীলফামারীর সৈয়দপুর পৌর সবজি বাজারে কথা হয় তার সঙ্গে। শাক সবজি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় আব্দুল গনির মতো দিশেহারা হয়ে পড়েছেন মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষ।
আব্দুল গনির স্ত্রী ও চার সন্তানসহ মোট ছয় সদস্যের পরিবার নিয়ে থাকেন উপজেলর বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের পাঠানপাড়া গ্রামে। বাড়ির ভিটা ছাড়া চাষাবাদের কোনো জমি নেই তার। পৈতৃকসূত্রে পাওয়া যেটুকু ফসলি জমি পেয়েছিলেন অভাবের সংসারে সেটুকু বিক্রি করে দিয়েছেন। বড় মেয়ে রাজিয়া বেগম সপ্তম শ্রেণি, মেঝো ছেলে আব্দুল আওয়াল পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। আর সবচেয়ে ছোট মেয়ে ফাতেমা বেগমের বয়স কেবল আট মাস। আব্দুল গনি কখনো রাজমিস্ত্রি আবার কখনো টিনমিস্ত্রীর কাজ করে দৈনিক আয় করেন ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা। এই অল্প টাকায় তার সংসার এমনিতেই কষ্ট করে চলে। আবার প্রায় দিনেই কাজ পান না। পাঁচ দিন ধরে দিনমজুরির কোনো কাজ পাননি তিনি। কোনোরকম খেয়ে না খেয়ে দিন কাটিয়েছেন। বাধ্য হয়ে আব্দুল গনির স্ত্রী প্রতিবেশীর কাছে ৪০০ টাকা ধার করে তার হাতে দিয়ে বলেন, বাজার থেকে সওদা নিয়ে আসতে। কিন্তু বাজারে এসে পণ্যের চড়া দাম শুনে হিসাব মিলাতে পারছেন না আব্দুল গনি।
গেট বাজারে আসা আরিফুল ইসলাম নামে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এক কর্মী বলছিলেন, বাজারে কোনো সবজির সংকট নেই। তারপরও দাম চওড়া। সিন্ডিকেট করে এসব পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর। তিনি জানান, তাঁর সংসারে চার জন সদস্য। এ অবস্থায় তাঁদের মুখে তিনবেলা আহার তুলে দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
কেনাকাটা করতে আসা আতিক আলম, সেলিম মোল্লা, মোকবুল হোসেন ও সাইফুল ইসলামসহ নিম্ন আয়ের অনেক মানুষ জানান, বাজারে যে কোনো সবজি ৫০-৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চালের দামও কেজি প্রতি বেড়েছে ২-৫ টাকা। এর মধ্যে অস্বাভাবিক বেড়েছে ডিমের দামও। বর্তমানে বয়লার মুরগির ডিম ৪০ টাকা হালি, হাঁসের ডিম ৬০-৭০ টাকা হালি বিক্রি হচ্ছে। মাছের দামও কেজিতে বেড়েছে আকার ভেদে ৩০-৬০ টাকা পর্যন্ত। তবে মুরগি ও গরুর দাম অপরিবর্তিত।
স্থানীয়রা আরও বলেন, ‘দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে না হলে তাদের জীবন কষ্টকর হয়ে পড়বে।’
আমিরুল হক/কেজে/এএসএম
What's Your Reaction?