এত কিছুর পরেও কেন শিক্ষামন্ত্রীকে আগলে রেখেছেন মোদী?

ভারতে প্রশ্নফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজনীতি। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে রাজধানী নয়াদিল্লিতে অবস্থান করছেন শত শত শিক্ষার্থী। বিশেষ করে গত কয়েকদিনে আন্দোলন সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। ছাত্র আন্দোলনের এই জোয়ার নরেন্দ্র মোদীর তৃতীয় মেয়াদের ক্ষমতার জন্য সবচেয়ে বড় বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিক্ষোভ দমাতে পুলিশ গত সোমবার লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেছে। এতে শতাধিক বিক্ষোভকারী গুরুতর আহত হয়েছেন। প্রধান বিরোধী দলগুলো এই আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে প্রতিদিন রাজপথে নামছে এবং গ্রেফতার হচ্ছে। কিন্তু চারপাশের এত চাপ সত্ত্বেও নিজের পদে বহাল তবিয়তে রয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। আরও পড়ুন ভারতের আন্দোলনে ঠিক যেন বাংলাদেশের দৃশ্য! অন্য গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে সরকারের মন্ত্রীরা বিতর্ক বা আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করলেও ভারতে তেমন দৃশ্য অত্যন্ত বিরল। ভারতের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে মোদীর এই সিদ্ধান্ত অবশ্য একেবারেই নতুন কিছু নয়। গত ১২ বছরের মোদী সরকারের মেয়াদে বড় ধরনের বিতর্ক বা দেশজুড়ে তীব্র দাবি ওঠা সত্ত্বেও কোনো মন্ত্রীকে পদত্যাগ না করানোর একটি

এত কিছুর পরেও কেন শিক্ষামন্ত্রীকে আগলে রেখেছেন মোদী?

ভারতে প্রশ্নফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজনীতি। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে রাজধানী নয়াদিল্লিতে অবস্থান করছেন শত শত শিক্ষার্থী। বিশেষ করে গত কয়েকদিনে আন্দোলন সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। ছাত্র আন্দোলনের এই জোয়ার নরেন্দ্র মোদীর তৃতীয় মেয়াদের ক্ষমতার জন্য সবচেয়ে বড় বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিক্ষোভ দমাতে পুলিশ গত সোমবার লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেছে। এতে শতাধিক বিক্ষোভকারী গুরুতর আহত হয়েছেন। প্রধান বিরোধী দলগুলো এই আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে প্রতিদিন রাজপথে নামছে এবং গ্রেফতার হচ্ছে। কিন্তু চারপাশের এত চাপ সত্ত্বেও নিজের পদে বহাল তবিয়তে রয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।

অন্য গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে সরকারের মন্ত্রীরা বিতর্ক বা আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করলেও ভারতে তেমন দৃশ্য অত্যন্ত বিরল। ভারতের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে মোদীর এই সিদ্ধান্ত অবশ্য একেবারেই নতুন কিছু নয়। গত ১২ বছরের মোদী সরকারের মেয়াদে বড় ধরনের বিতর্ক বা দেশজুড়ে তীব্র দাবি ওঠা সত্ত্বেও কোনো মন্ত্রীকে পদত্যাগ না করানোর একটি বিশেষ ধারা তৈরি হয়েছে।

এর আগে ২০১৫ সালে উত্তর প্রদেশের দাদরিতে গো-মাংস রাখা ও চুরি করার অভিযোগে ৫০ বছর বয়সী মোহাম্মদ আখলাককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। সে সময় স্থানীয় সাংসদ ও তৎকালীন পর্যটনমন্ত্রী মহেশ শর্মা এই হত্যাকাণ্ডকে একটি সাধারণ ‘দুর্ঘটনা’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। তার পদত্যাগের দাবি উঠলেও মোদী তাকে বরখাস্ত করেননি।

পরের বছর ওই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্তের কফিনে জাতীয় পতাকা জড়িয়ে সম্মান জানানোর ঘটনায় উপস্থিত থেকে বিতর্কের সৃষ্টি করেন মন্ত্রী মহেশ শর্মা। তা সত্ত্বেও ২০১৯ সালের মোদীর দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার আগপর্যন্ত তাকে মন্ত্রিসভা থেকে সরানো হয়নি।

অনুরূপ ঘটনা ঘটেছিল ২০১৬ সালে হায়দরাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ে। দলিত ছাত্র রোহিত ভেমুলার আত্মহত্যার পর তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী স্মৃতি ইরানি ও কেন্দ্রী মন্ত্রী বান্দারু দত্তাত্রেয়ের পদত্যাগের দাবিতে সারা দেশের ছাত্রসমাজ ফুঁসে উঠেছিল। অভিযোগ ছিল, মন্ত্রীদের চিঠির চাপের কারণেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ওই ছাত্রদের হোস্টেল থেকে বের করে দিয়েছিল।

দেশজুড়ে আন্দোলনের মধ্যেও ওই দুই মন্ত্রীর কেউই পদত্যাগ করেননি। পরবর্তীতে স্মৃতি ইরানিকে অন্য গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং দত্তাত্রেয়কে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রাজ্যের রাজ্যপাল হিসেবে পুরস্কৃত করা হয়।

একইভাবে, ২০২১ সালে লখিমপুর খেরিতে বিতর্কিত কৃষি আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত কৃষকদের ওপর গাড়ি চালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অজয় মিশ্র তেনির ছেলের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় চারজন কৃষকসহ আটজন নিহত হন। দেশজুড়ে অজয় মিশ্রের পদত্যাগের দাবি উঠলেও তিনি টানা তিন বছর স্বঘোষিত পদে বহাল ছিলেন। শেষ পর্যন্ত ২০২৪ সালের নির্বাচনে হেরে তিনি পদ হারান।

মোদী সরকারের পুরো মেয়াদে একমাত্র ব্যতিক্রমী পদত্যাগ দেখা গিয়েছিল করোনা মহামারির দ্বিতীয় ঢেউয়ের পর। স্বাস্থ্য খাতের চরম বিপর্যয় ও সরকারের ব্যর্থতার তীব্র সমালোচনার মুখে তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন পদত্যাগ করেছিলেন। এরপর তিনি রাজনীতি থেকেই বিদায় নেন।

মোদী বিরোধীদের মতে, অতীতে কংগ্রেস সরকারের আমলে স্বরাষ্ট্র বা পররাষ্ট্রের মতো বড় বড় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা দায়বদ্ধতা থেকে পদত্যাগ করতেন। তবে মোদী আমলের এই ধারা প্রমাণ করে যে, জনদাবি বা আন্দোলনের মুখে নিজের মন্ত্রীদের রক্ষা করাই বর্তমান সরকারের স্থায়ী রাজনৈতিক নীতিতে পরিণত হয়েছে।

সূত্র: আল-জাজিরা
কেএএ/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow