এবার বাড়ছে বিদ্যুতের দাম, দেওয়া হয়েছে যেসব প্রস্তাব

দেশে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় এবার বিদ্যুতের দামও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানা গেছে। ইতোমধ্যে খুচরা ও পাইকারি- উভয় পর্যায়ে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব প্রস্তুত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ৭.৮ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। এতে ইউনিটপ্রতি ৭০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৮০ পয়সা পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে। তবে লাইফলাইন (০- ৭৫ ইউনিট) গ্রাহকদের জন্য আপাতত দাম অপরিবর্তিত রাখার কথা বলা হয়েছে। এদিকে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) পাইকারি ট্যারিফ ইউনিটপ্রতি ৭ দশমিক ৪ টাকা থেকে বাড়িয়ে তিনটি বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছে- ৫০ পয়সা বাড়িয়ে ৭ দশমিক ৫৪ টাকা, ১ টাকা বাড়িয়ে ৮ দশমিক ৪০ টাকা এবং ১ টাকা ২০ পয়সা বাড়িয়ে ৮ দশমিক ৮০ টাকা। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে, যার প্রভাবে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। এই বাড়তি চাপ সামাল দিতে সরকার বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ের উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে সম্প্রতি অর্থমন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে একটি উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে বিদ্যুৎ,

এবার বাড়ছে বিদ্যুতের দাম, দেওয়া হয়েছে যেসব প্রস্তাব

দেশে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় এবার বিদ্যুতের দামও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানা গেছে। ইতোমধ্যে খুচরা ও পাইকারি- উভয় পর্যায়ে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব প্রস্তুত করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ৭.৮ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। এতে ইউনিটপ্রতি ৭০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৮০ পয়সা পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে। তবে লাইফলাইন (০- ৭৫ ইউনিট) গ্রাহকদের জন্য আপাতত দাম অপরিবর্তিত রাখার কথা বলা হয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) পাইকারি ট্যারিফ ইউনিটপ্রতি ৭ দশমিক ৪ টাকা থেকে বাড়িয়ে তিনটি বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছে- ৫০ পয়সা বাড়িয়ে ৭ দশমিক ৫৪ টাকা, ১ টাকা বাড়িয়ে ৮ দশমিক ৪০ টাকা এবং ১ টাকা ২০ পয়সা বাড়িয়ে ৮ দশমিক ৮০ টাকা।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে, যার প্রভাবে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। এই বাড়তি চাপ সামাল দিতে সরকার বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ের উদ্যোগ নিয়েছে।

এ লক্ষ্যে সম্প্রতি অর্থমন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে একটি উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের সচিবরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। ৯ এপ্রিল জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট বিবেচনায় বিদ্যুতের পাইকারি ও খুচরা মূল্য সমন্বয়ের জন্য কমিটি সুপারিশ দেবে।

এ বিষয়ে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম বলেন, “বিদ্যুৎ খাতে লুটপাট করে, বাড়তি খরচ করে ঘাটতি তৈরি করা হয়েছে। এ ঘাটতি ধরে দাম সমন্বয়ের সুযোগ নেই।”

বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল, এলএনজি ও কয়লার দাম বৃদ্ধির কারণে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে এবং ভর্তুকির চাপ কমাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রস্তাবগুলো অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে।

এরই মধ্যে দেশে জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দরে ডিজেল ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।

এদিকে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৭২৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৪০ টাকা নির্ধারণ করেছে, যা ১৯ এপ্রিল থেকে কার্যকর হয়েছে। ফলে এক লাফে ২১২ টাকা বেড়েছে এলপিজির দাম।

সব মিলিয়ে, জ্বালানি খাতে ধারাবাহিক মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব এবার বিদ্যুৎ খাতে পড়তে যাচ্ছে, যা ভোক্তা পর্যায়ে জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়াবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow