ওয়াশিংটনে ছড়িয়ে পড়েছে ভয়াবহ দাবানল
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে ভয়াবহ দাবানলে আড়াই লাখ একরের বেশি এলাকা পুড়ে গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হাজারো দমকলকর্মী কাজ করছেন। দাবানলের কারণে ব্যাপক এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং হাজারো মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন। অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওয়াশিংটনজুড়ে এক ডজনের বেশি দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। এসব আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রায় ৪ হাজার দমকলকর্মী ও উদ্ধারকর্মী কাজ করছেন। ওয়াশিংটনের পাবলিক ল্যান্ডস কমিশনার ডেভ আপথেগ্রোভ এক ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, চলতি গ্রীষ্মে এখন পর্যন্ত অঙ্গরাজ্যে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ একর এলাকা পুড়ে গেছে। তিনি বলেন, এটি স্বাভাবিক পরিস্থিতি নয়। ওয়াশিংটনের বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। জরুরি অবস্থা ঘোষণা দাবানলের ভয়াবহতা বিবেচনায় শনিবার সকালে অঙ্গরাজ্যজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন গভর্নর বব ফার্গুসন। একই সঙ্গে সব ধরনের আগুন জ্বালানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা (বার্ন ব্যান) জারি করা হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত দাবানলের ঘটনায় কোনো হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। পূর্ব ওয়াশিংটনের প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার জনসংখ্যার শহর স্পোকেনে ‘ওল্ড ট্রেইলস ফায়ার’
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে ভয়াবহ দাবানলে আড়াই লাখ একরের বেশি এলাকা পুড়ে গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হাজারো দমকলকর্মী কাজ করছেন।
দাবানলের কারণে ব্যাপক এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং হাজারো মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন।
অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওয়াশিংটনজুড়ে এক ডজনের বেশি দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। এসব আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রায় ৪ হাজার দমকলকর্মী ও উদ্ধারকর্মী কাজ করছেন।
ওয়াশিংটনের পাবলিক ল্যান্ডস কমিশনার ডেভ আপথেগ্রোভ এক ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, চলতি গ্রীষ্মে এখন পর্যন্ত অঙ্গরাজ্যে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ একর এলাকা পুড়ে গেছে।
তিনি বলেন, এটি স্বাভাবিক পরিস্থিতি নয়। ওয়াশিংটনের বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে।
জরুরি অবস্থা ঘোষণা
দাবানলের ভয়াবহতা বিবেচনায় শনিবার সকালে অঙ্গরাজ্যজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন গভর্নর বব ফার্গুসন। একই সঙ্গে সব ধরনের আগুন জ্বালানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা (বার্ন ব্যান) জারি করা হয়েছে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত দাবানলের ঘটনায় কোনো হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
পূর্ব ওয়াশিংটনের প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার জনসংখ্যার শহর স্পোকেনে ‘ওল্ড ট্রেইলস ফায়ার’ নামে একটি বড় দাবানল প্রায় ৩ হাজার একর এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে।
ওয়াশিংটন স্টেট ফরেস্টার জর্জ গেইসলার জানান, আগুনের কারণে প্রায় ৪ হাজার স্থাপনা ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
স্পোকেনের মেয়র লিসা ব্রাউন বলেন, শহরের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা খালি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পানি পরিশোধন কেন্দ্র, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং ভেটেরান্স অ্যাফেয়ার্স হাসপাতাল।
শনিবার বিকেল পর্যন্ত প্রায় ২০০টি বাড়ির বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে পরিস্থিতির অবনতি হলে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
৬০ হাজার মানুষ বিদ্যুৎহীন
বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাভিস্তা জানিয়েছে, দাবানলের কারণে পূর্ব ওয়াশিংটনে প্রায় ৬০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন।
ওয়াশিংটন স্টেট ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের কর্মকর্তা স্টেসি ম্যাকক্লেইন বলেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে।
আবহাওয়া পরিস্থিতি আরও চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে
গভর্নর বব ফার্গুসন বলেন, প্রবল বাতাস ও উচ্চ তাপমাত্রার কারণে দাবানল নিয়ন্ত্রণ করা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
কর্মকর্তারা জানান, স্পোকেনের আগুন ছাড়াও অঙ্গরাজ্যে আরও চারটি বড় দাবানল সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ‘কাইজার ক্যানিয়ন ফায়ার’ সবচেয়ে বড়, যা প্রায় ১ লাখ ৩৪ হাজার একর এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে।
অন্যান্য অঞ্চল থেকেও সহায়তা
ওয়াশিংটন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় ন্যাশনাল গার্ডের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের এক ডজনের বেশি অঙ্গরাজ্য থেকে দমকলকর্মীরা এসে কাজ করছেন।
এদিকে কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার দক্ষিণাঞ্চলেও গত মাসে প্রায় ৩৪ হাজার বজ্রপাতের ঘটনায় একাধিক দাবানল ছড়িয়ে পড়ে। সেখানেও বহু এলাকায় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ওয়াশিংটন ন্যাশনাল গার্ডের অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল মেজর জেনারেল জেন্ট ওয়েলশ বলেন, আমরা অত্যন্ত ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি। সূর্য ওঠার পর ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।
সূত্র: রয়টার্স
এমএসএম
What's Your Reaction?