কাজিনদের মধ্যে বিয়ে কি নিরাপদ? গবেষণায় উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

‘ঘর থেকে মেয়ে দূরে যাবে না’ কিংবা ‘ঘরের বউ ঘরেই থাকছে’; এমন চিন্তা থেকে আমাদের সমাজে চাচাতো, মামাতো কিংবা খালাতো ভাইবোনের মধ্যে বিয়ের রীতি বেশ পুরনো এবং সাধারণ। কিন্তু আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান আর দীর্ঘ ১৮ বছরের এক চাঞ্চল্যকর গবেষণা বলছে ভিন্ন কথা। ঘরোয়া এই খুশির অন্তরালে আপনার অনাগত সন্তানের জন্য কি বড় কোনো বিপদ লুকিয়ে আছে? ১৮ বছরের দীর্ঘ গবেষণা যা বলছে ব্রিটেনের ব্র্যাডফোর্ড শহরে বসবাসরত বিশাল এক দক্ষিণ এশীয় জনগোষ্ঠীর ওপর দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে ‘বর্ন ইন ব্র্যাডফোর্ড’ নামে একটি গবেষণা চালানো হয়। ২০০৭ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া প্রায় ১৩ হাজার শিশুর ওপর নজর রেখে গবেষকরা দেখেছেন, রক্তসম্পর্কিত বাবা-মায়ের সন্তানদের শারীরিক ও মানসিক ঝুঁকির হার সাধারণ শিশুদের তুলনায় অনেক বেশি। শারীরিক ও মানসিক ঝুঁকির পরিসংখ্যান গবেষণায় দেখা গেছে, বাবা-মা আপন চাচাতো বা খালাতো ভাইবোন হলে সন্তানদের মধ্যে বংশগত রোগের ঝুঁকি দ্বিগুণ হয়ে যায়। সাধারণ ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি ৩ শতাংশ হলেও কাজিনদের মধ্যে বিয়ের ফলে তা বেড়ে ৬ শতাংশে দাঁড়ায়। শুধু তাই নয়, এই শিশুদের মধ্যে আরও কিছু সমস্যা লক্ষ্য করা গেছে: ভাষাগত সমস্যা: আত্ম

কাজিনদের মধ্যে বিয়ে কি নিরাপদ? গবেষণায় উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

‘ঘর থেকে মেয়ে দূরে যাবে না’ কিংবা ‘ঘরের বউ ঘরেই থাকছে’; এমন চিন্তা থেকে আমাদের সমাজে চাচাতো, মামাতো কিংবা খালাতো ভাইবোনের মধ্যে বিয়ের রীতি বেশ পুরনো এবং সাধারণ। কিন্তু আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান আর দীর্ঘ ১৮ বছরের এক চাঞ্চল্যকর গবেষণা বলছে ভিন্ন কথা। ঘরোয়া এই খুশির অন্তরালে আপনার অনাগত সন্তানের জন্য কি বড় কোনো বিপদ লুকিয়ে আছে?

১৮ বছরের দীর্ঘ গবেষণা যা বলছে

ব্রিটেনের ব্র্যাডফোর্ড শহরে বসবাসরত বিশাল এক দক্ষিণ এশীয় জনগোষ্ঠীর ওপর দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে ‘বর্ন ইন ব্র্যাডফোর্ড’ নামে একটি গবেষণা চালানো হয়। ২০০৭ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া প্রায় ১৩ হাজার শিশুর ওপর নজর রেখে গবেষকরা দেখেছেন, রক্তসম্পর্কিত বাবা-মায়ের সন্তানদের শারীরিক ও মানসিক ঝুঁকির হার সাধারণ শিশুদের তুলনায় অনেক বেশি।

শারীরিক ও মানসিক ঝুঁকির পরিসংখ্যান

গবেষণায় দেখা গেছে, বাবা-মা আপন চাচাতো বা খালাতো ভাইবোন হলে সন্তানদের মধ্যে বংশগত রোগের ঝুঁকি দ্বিগুণ হয়ে যায়। সাধারণ ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি ৩ শতাংশ হলেও কাজিনদের মধ্যে বিয়ের ফলে তা বেড়ে ৬ শতাংশে দাঁড়ায়। শুধু তাই নয়, এই শিশুদের মধ্যে আরও কিছু সমস্যা লক্ষ্য করা গেছে:

  • ভাষাগত সমস্যা: আত্মীয় নন এমন দম্পতিদের তুলনায় কাজিনদের সন্তানদের কথা বলা শিখতে দেরি হওয়া বা ভাষাগত সমস্যা থাকার ঝুঁকি প্রায় ১১ শতাংশ বেশি। 
  • বিকাশজনিত ঘাটতি: ৫ বছর বয়সে শিশুদের যে বিকাশজনিত মূল্যায়ন করা হয়, তাতে দেখা গেছে এসব শিশুর সফলতার হার সাধারণ শিশুদের চেয়ে ১০ শতাংশ কম।
  • অতিরিক্ত চিকিৎসা সেবা: সাধারণ শিশুদের তুলনায় রক্তসম্পর্কিত বাবা-মায়ের সন্তানদের চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার প্রয়োজন পড়ে ৩৩ শতাংশ বা এক-তৃতীয়াংশ বেশি।

কেন বাড়ছে এই বিপদ?

বিশেষজ্ঞদের মতে, এর প্রধান কারণ হলো ‘এন্ডোগামি’ বা একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মধ্যে বারবার বিয়ে হওয়া। যখন প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আত্মীয়দের মধ্যে বিয়ে চলতে থাকে, তখন ত্রুটিপূর্ণ জিনগুলো একত্রিত বা ‘কম্পাউন্ডেড’ হয়ে যায়। এর ফলে নবজাতকের হৃদপিণ্ড, মস্তিষ্ক, কিডনি কিংবা হাড়ের গঠনে গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে।

আইনি কড়াকড়ি ও সচেতনতা

এই ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনা করে নরওয়েতে ইতিমধ্যে ফার্স্ট কাজিনদের মধ্যে বিয়ে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সুইডেনও একই পথে হাঁটছে। তবে শুধু আইন দিয়ে নয়, গবেষকরা মনে করেন এর জন্য প্রয়োজন ‘জেনেটিক লিটারেসি’ বা জিনগত সচেতনতা। বিয়ের আগে এবং গর্ভাবস্থায় বিশেষজ্ঞের পরামর্শ বা ‘জেনেটিক কাউন্সেলিং’ অনেক বড় বিপদ থেকে পরিবারকে রক্ষা করতে পারে।

বদলাচ্ছে দিনকাল

সুসংবাদ এই যে, সময়ের সাথে সাথে মানুষের চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন আসছে। ব্র্যাডফোর্ডের ওই গবেষণায় দেখা গেছে, ২০০০ সালের তুলনায় বর্তমানে কাজিনদের মধ্যে বিয়ের হার ৩৯ শতাংশ থেকে কমে ২৭ শতাংশে নেমে এসেছে। নতুন প্রজন্ম এখন শিক্ষার আলোয় আলোকিত হয়ে পারিবারিক ঐতিহ্যের চেয়ে অনাগত সন্তানের সুস্বাস্থ্যকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow