কাদের সুবিধা দিতে পেছাচ্ছে শেষ রাউন্ড? ক্ষোভ ও প্রতিবাদ মোহামেডানের
জানানো হয়েছিল, সব কিছু ঠিক থাকলে এবং বৃষ্টি বাধা হয়ে না দাঁড়ালে ১১ জুন শেষ হবে এবারের প্রিমিয়ার লিগ। কিন্তু আজ বিকেলে শেরে বাংলায় জোর গুঞ্জন, ১১ নয় লিগ শেষ হবে ১৫ জুন। পুরো লিগে প্রতি পর্বের পর দুদিন বিরতি দিয়ে হয়েছে পরের রাউন্ড। তবে ৮ জুন দশম রাউন্ডের পর শেষ রাউন্ডের আগে এক সপ্তাহ বিরতি। মানে ১৫ জুন লিগ মোহামেডান ও আবাহনী ম্যাচ দিয়ে শেষ হবে লিগ। কেন লিগ দেরিতে শেষ করার চিন্তা? প্রিমিয়ার লিগের কো-অর্ডিনেটর সেলিম জাগো নিউজকে জানান, আমরা তো শেষ দুই রাউন্ডের ফিকশ্চার দেইনি। আগামী ৫ জুন পর্যন্ত নবম রাউন্ডের ফিকশ্চার দেওয়া আছে। দশম ও একাদশ রাউন্ডের ফিকশ্চার দেওয়াই হয়নি। তাই পেছানোর প্রশ্ন তোলা অযৌক্তিক। কিন্তু মোহামেডান এমন চিন্তাভাবনার তীব্র বিরোধী। মোহামেডান কোচ ও কর্তাদের প্রশ্ন, কেন, কী কারণে, কার স্বার্থ সংরক্ষণে হঠাৎ লিগের শেষ রাউন্ড পেছানোর চিন্তা? অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের জন্য ডাক পাওয়া ক্রিকেটারদের কেউ এবারের প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের শেষ দুই ম্যাচ খেলতে পারবেন না। শুধু অস্ট্রেলিয়ার সাথে ওয়ানডে সিরিজে স্কোয়াডে থাকারাই নন, জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দলের
জানানো হয়েছিল, সব কিছু ঠিক থাকলে এবং বৃষ্টি বাধা হয়ে না দাঁড়ালে ১১ জুন শেষ হবে এবারের প্রিমিয়ার লিগ। কিন্তু আজ বিকেলে শেরে বাংলায় জোর গুঞ্জন, ১১ নয় লিগ শেষ হবে ১৫ জুন।
পুরো লিগে প্রতি পর্বের পর দুদিন বিরতি দিয়ে হয়েছে পরের রাউন্ড। তবে ৮ জুন দশম রাউন্ডের পর শেষ রাউন্ডের আগে এক সপ্তাহ বিরতি। মানে ১৫ জুন লিগ মোহামেডান ও আবাহনী ম্যাচ দিয়ে শেষ হবে লিগ।
কেন লিগ দেরিতে শেষ করার চিন্তা? প্রিমিয়ার লিগের কো-অর্ডিনেটর সেলিম জাগো নিউজকে জানান, আমরা তো শেষ দুই রাউন্ডের ফিকশ্চার দেইনি। আগামী ৫ জুন পর্যন্ত নবম রাউন্ডের ফিকশ্চার দেওয়া আছে। দশম ও একাদশ রাউন্ডের ফিকশ্চার দেওয়াই হয়নি। তাই পেছানোর প্রশ্ন তোলা অযৌক্তিক।
কিন্তু মোহামেডান এমন চিন্তাভাবনার তীব্র বিরোধী। মোহামেডান কোচ ও কর্তাদের প্রশ্ন, কেন, কী কারণে, কার স্বার্থ সংরক্ষণে হঠাৎ লিগের শেষ রাউন্ড পেছানোর চিন্তা?
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের জন্য ডাক পাওয়া ক্রিকেটারদের কেউ এবারের প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের শেষ দুই ম্যাচ খেলতে পারবেন না। শুধু অস্ট্রেলিয়ার সাথে ওয়ানডে সিরিজে স্কোয়াডে থাকারাই নন, জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দলের সাথে দেশের মাটিতে আগামী ৮ জুন থেকে (পরের ২ ম্যাচ ১০ ও ১৩ জুন) তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ডাক পাওয়ারাও এবারের লিগের দশম ও একাদশ রাউন্ড খেলতে পারবেন না। তাদের শেষ ম্যাচ হবে ৫ জুন।
তার মানে বিভিন্ন দলের ২৭-২৮ জন ক্রিকেটার ওই দুই ম্যাচ খেলতে পারবেন না। তাদের বাইরে যাদের বিকল্প খেলোয়াড় আছে, তারা তুলনামূলক অ্যাডভান্টেজ পাবে।
সেই বিকল্প খেলোয়াড় দলে রাখার মিশনে এবার শুরু থেকেই সবচেয়ে দূরদর্শিতা দেখিয়েছে মোহামেডান। সাদা-কালোদের রিজার্ভ বেঞ্চ, ড্রেসিংরুম আর ডাগআউটে অনেক অতিরিক্ত ক্রিকেটার। পারভেজ হোসেন ইমন, রিশাদ হোসেন, এবাদত হোসেন, পেসার মুশফিক হাসান, তানভীর ইসলাম, রনি তালুকদার ও আনিসুল ইসলাম ইমনের মতো প্লেয়াররা ম্যাচ পাচ্ছেন না। বাইরে বসে আছেন। মাঝে টেস্ট দলে মুশফিক, তাসকিন, তাইজুল ও এবাদত পাকিস্তানের সাথে টেস্ট দলে থেকে প্রথম ৬ ম্যাচ খেলতে পারেননি।
আগে ধরা হয়েছিল, অস্ট্রেলিয়ার সাথে ওয়ানডে সিরিজে তাওহিদ হৃদয়, তাসকিন আহমেদ, পারভেজ ইমন আর রিশাদ হোসেনরা থাকায় মোহামেডানের পক্ষে শেষ ২ ম্যাচ খেলতে পারবেন না। এর বাইরে ইয়াসির আলী রাব্বি, মুশফিক হাসান ‘এ’ দলের পক্ষে ডাক পেতে পারেন। তাই এক ঝাঁক বিকল্প পারফরমার দলে রেখেছে মোহামেডান।
অন্যদিকে আবাহনী, লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ ও প্রাইম ব্যাংকের বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারও জাতীয় দল এবং ‘এ’ দলে সম্পৃক্ত থাকার কারণে শেষ ২ ম্যাচ মিস করবেন। শোনা যাচ্ছে, নাজমুল হোসেন শান্তর সাথে ফর্মের চূড়ায় থাকা মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকেও নাকি অস্ট্রেলিয়ার সাথে জাতীয় দলে ডাক পেতে পারেন। আর সৌম্য সরকার, খালেদ ও মাহফুজুর রাব্বিদের ডাক আসতে পারে ‘এ’ দলে।
এখন ১১ জুন আবাহনী ও মোহামেডান ম্যাচ হলে মোহামেডানের চেয়ে আবাহনীর ক্ষতি হবে অনেক বেশি। মোহামেডানের তাওহিদ হৃদয় থাকবেন না। আবাহনীর শান্তর সাথে মোসাদ্দেক আর মাহফুজুর রাব্বি—দুইজন অলরাউন্ডারের শেষ দুই ম্যাচ খেলার সম্ভাবনা খুব কম।
কিন্তু খেলা ৪ দিন পিছিয়ে ১৫ জুন আয়োজন করলে অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দলের সাথে ওয়ানডে সিরিজ (শেষ ম্যাচ ১৪ জুন) আর জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দলের সাথে (শেষ ম্যাচ ১৩ জুন) সিরিজ শেষ হয়ে যাবে। সব দল পূর্ণ শক্তিতে বলীয়ান হয়ে মাঠে নামতে পারবে।
মোহামেডান শিবির তাই পূর্বনির্ধারিত সূচিতেই মোহামেডান-আবাহনীর শেষ ম্যাচ আয়োজনের দাবিতে সোচ্চার।
মোহামেডান কর্তাদের দাবি, জাতীয় দলের অ্যাসাইনমেন্টে ক্রিকেটার ছাড়তে হবে, এই কমিটমেন্ট রক্ষা করতে গিয়ে অতীতে আমরা নিজেদের কয়েকজন নির্ভরযোগ্য ক্রিকেটার ছাড়া খেলেছি। তখন আমাদের কাছে পর্যাপ্ত ব্যাকআপ ছিল না। এখন আমরা আগে থেকেই পর্যাপ্ত ব্যাকআপ প্লেয়ার দলে টেনেছি। বাড়তি অর্থ খরচ করেছি। আমাদের দাবি, আগের মতো লিগ পূর্বনির্ধারিত সময়ে শেষ করা উচিত। এখন যদি লিগ দেরিতে শেষ হয় তাহলে আমরা যে ব্যাকআপ প্লেয়ার নিয়েছি, সেটা বিফলে যাবে। প্রচুর অর্থ ব্যয়ও হবে। তাতে করে ব্যাকআপ প্লেয়ার দলে রাখাও নিরর্থক হবে।
মোহামেডান কর্তাদের দাবি, যদি ঘরের মাঠে হওয়া জাতীয় দল ও ‘এ’ দলের সব খেলা শেষে লিগের শেষ রাউন্ড খেলা হয়, তাহলেতো আবাহনীর স্বার্থ সংরক্ষণ হবে। সেটা হবে কেন?
আমরা সবাই আগে থেকেই জানি জুনের প্রথম ও দ্বিতীয় সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়ার সাথে ওয়ানডে সিরিজ আর জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দলের সাথে সিরিজ। খুব স্বাভাবিকভাবেই আমাদের হৃদয়, পারভেজ ইমন, তাসকিন ও শেষ মুহূর্তে দলে পাওয়া নাহিদ রানাকে ওই সময় পাব না। তাই এক ঝাঁক ব্যাকআপ পারফরমার আগে ভাগেই নিয়ে রাখা। কিন্তু যদি এখন লিগের শেষ রাউন্ড পূর্বনির্ধারিত ফিকচার পাল্টে দেরিতে আয়োজন করা হয়, তাহলে আমরা এত ব্যাকআপ ক্রিকেটার দলে নিলাম কেন?
এআরবি/এমএমআর
What's Your Reaction?