কাফরুলে যুবদলকর্মী হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছিল কালীগঞ্জের ৪ যুবক
রাজধানীর কাফরুল থানার যুবদলকর্মী ইউসুফ আলী হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার চার যুবকের নাম উঠে আসায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত চারজনের বাড়িই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে। তাদের মধ্যে তিনজন অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। অপর একজন ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হন বলে অভিযোগ রয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন মো. নাহিদ হাসান (২১), মো. শাফিন আহমেদ (২২), মো. জিয়ারুল মোল্লা (৩৯), মো. আলী হোসেন (৪৫), মো. জিহাদ মোল্লা (৩০), মো. মাসুম বিল্লাহ (২৮) ও মো. আবির হাওলাদার (২৫)। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে হাসান নামে আরও একজন পলাতক রয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কালীগঞ্জ উপজেলার রাড়ীপাড়া গ্রামের আতিয়ার মোল্লার ছেলে চঞ্চল মোল্লা, একই গ্রামের মৃত তমেজ আলীর ছেলে মাসুম বিল্লাহ, কৃষ্ণপুর গ্রামের মৃত রওশন আলী মোল্লার ছেলে জিহাদ মোল্লা এবং দামোদারপুর গ্রামের বাক্কার আলীর ছেলে হাসান আলী এই ঘটনায় অভিযুক্ত। স্থ
রাজধানীর কাফরুল থানার যুবদলকর্মী ইউসুফ আলী হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার চার যুবকের নাম উঠে আসায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত চারজনের বাড়িই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে। তাদের মধ্যে তিনজন অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। অপর একজন ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন মো. নাহিদ হাসান (২১), মো. শাফিন আহমেদ (২২), মো. জিয়ারুল মোল্লা (৩৯), মো. আলী হোসেন (৪৫), মো. জিহাদ মোল্লা (৩০), মো. মাসুম বিল্লাহ (২৮) ও মো. আবির হাওলাদার (২৫)। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে হাসান নামে আরও একজন পলাতক রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কালীগঞ্জ উপজেলার রাড়ীপাড়া গ্রামের আতিয়ার মোল্লার ছেলে চঞ্চল মোল্লা, একই গ্রামের মৃত তমেজ আলীর ছেলে মাসুম বিল্লাহ, কৃষ্ণপুর গ্রামের মৃত রওশন আলী মোল্লার ছেলে জিহাদ মোল্লা এবং দামোদারপুর গ্রামের বাক্কার আলীর ছেলে হাসান আলী এই ঘটনায় অভিযুক্ত।
স্থানীয়দের দাবি, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা হাফিজুর রহমানকে ভাড়াটে খুনি জোগাড় করতে সহযোগিতা করেন হাসান আলী। অভিযোগ রয়েছে, তিনি তার পরিচিত তিনজনকে এই হত্যাকাণ্ডে যুক্ত করেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, হাসান অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি ঝিনাইদহ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত আনোয়ারুল আজীম আনারের অনুসারী ছিলেন। আনারের মৃত্যুর পর তার মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিনের সঙ্গেও রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ছিলেন বলে জানা গেছে। চলতি বছরের ২২ মে আনারের বাসভবনের নিচে তার মেয়েসহ কয়েকজনের সঙ্গে তোলা একটি ছবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া হাসানের বিরুদ্ধে এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মীদের মারধর, চাঁদাবাজি এবং চুরি-ডাকাতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে।
এদিকে গ্রেপ্তার মাসুম বিল্লাহ হত্যাকাণ্ডে শ্যুটারের ভূমিকা পালন করেছেন বলে স্থানীয়দের দাবি। এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং পরে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিএনপিতে যোগ দেন। তাকে কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুল ইসলাম এবং উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব মাহাবুবুর রহমান মিলনের সঙ্গে বিভিন্ন কর্মসূচিতে দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। এমন কয়েকটি ছবি ও ভিডিও এই প্রতিবেদকের কাছেও সংরক্ষিত রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর এলাকায় হাঁস ও ছাগল চুরির অভিযোগে মাসুমকে আটক করা হলে বিএনপির কর্মী আনোয়ার ও সিদ্দিক তাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এর প্রতিবাদ করায় ইয়াহিয়া নামে এক বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে আহত করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া নিজের ফেসবুক আইডিতে ধারালো অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্রের ছবি পোস্ট করতেন বলেও দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
অপরদিকে জিহাদ মোল্লা ও চঞ্চল মোল্লাও অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধেও বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের মারধর, চাঁদাবাজি এবং চুরি-ডাকাতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তারাও সাবেক এমপি আনোয়ারুল আজীম আনারের অনুসারী ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে কালীগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব মাহাবুবুর রহমান মিলন বলেন, মাসুমকে আমি চিনতে পারছি না। কোনো কর্মসূচিতে কোথা থেকে কে আসে, তা সব সময় বলা সম্ভব নয়। তাছাড়া বর্তমানে সাংগঠনিক কোনো কমিটিও নেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা বিএনপির এক সিনিয়র নেতা বলেন, সন্ত্রাসীদের কোনো দল থাকে না। যারা তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছে, তাদেরও বিচারের আওতায় আনা উচিত। ৫ আগস্টের পর এসব সন্ত্রাসীকে দলে জায়গা দেওয়া ঠিক হয়নি।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন বলেন, কাফরুলে যুবদলকর্মী হত্যা মামলায় কালীগঞ্জের চারজনের সম্পৃক্ততার বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। ঢাকা থেকেও এ বিষয়ে কোনো তথ্য চাওয়া হয়নি।
What's Your Reaction?