কাভানের বুটে তিন দেশের পতাকা, বাংলাদেশ ছাড়া বাকি দুই দেশ কারা?
বুটে তিন দেশের পতাকা—যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি আর বাংলাদেশ। প্রশ্ন জাগবেই, একজন কিশোর ফুটবলারের বুটে কেন এই তিন দেশের পতাকা একসঙ্গে? উত্তরটা লুকিয়ে আছে ১৬ বছর বয়সী কাভান সুলিভানের পারিবারিক শিকড়ের গল্পে। অ্যাডিডাসের থ্রিডি প্রিন্টিং প্রযুক্তিতে তৈরি এই বুটজোড়া নিছক জুতো নয়, এ যেন এক পরিচয়পত্র। প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে এমন বুট পরা প্রথম ফুটবলার হিসেবেও নাম উঠেছে কাভানের। কিন্তু আসল বিস্ময় লুকিয়ে তার নানির গল্পে। ঢাকায় জন্ম নেওয়া সুলতানা আলম একদিন পাড়ি জমান আমেরিকায়, পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করতে। পরে যুক্তরাষ্ট্রের সেই ক্যাম্পাসেই পরিচয় হয় জার্মান অধ্যাপক ক্লাউস ক্রিপেনডর্ফের সঙ্গে, আর সেই পরিণয়ের ফসলই কাভানের মা হেইকে। এমনকি কাভানের মধ্যনামটাও নাকি বেছে নেওয়া হয়েছিল মায়ের দিকের এই ঐতিহ্যকে সম্মান জানিয়েই। ঢাকা থেকে জাতিসংঘের কর্মকর্তা, সেখান থেকে ফিলাডেলফিয়ার এক তরুণ ফুটবলারের বুটে খচিত পতাকা—এই যাত্রাপথটাই যেন এক উপন্যাসের কাঠামো। মাঠের পারফরম্যান্সও কম চমকপ্রদ নয়। ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই মাত্র ১৪ বছর ২৯৩ দিন বয়সে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের হয়ে এমএলএসে অভিষেক
বুটে তিন দেশের পতাকা—যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি আর বাংলাদেশ। প্রশ্ন জাগবেই, একজন কিশোর ফুটবলারের বুটে কেন এই তিন দেশের পতাকা একসঙ্গে? উত্তরটা লুকিয়ে আছে ১৬ বছর বয়সী কাভান সুলিভানের পারিবারিক শিকড়ের গল্পে।
অ্যাডিডাসের থ্রিডি প্রিন্টিং প্রযুক্তিতে তৈরি এই বুটজোড়া নিছক জুতো নয়, এ যেন এক পরিচয়পত্র। প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে এমন বুট পরা প্রথম ফুটবলার হিসেবেও নাম উঠেছে কাভানের। কিন্তু আসল বিস্ময় লুকিয়ে তার নানির গল্পে। ঢাকায় জন্ম নেওয়া সুলতানা আলম একদিন পাড়ি জমান আমেরিকায়, পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করতে। পরে যুক্তরাষ্ট্রের সেই ক্যাম্পাসেই পরিচয় হয় জার্মান অধ্যাপক ক্লাউস ক্রিপেনডর্ফের সঙ্গে, আর সেই পরিণয়ের ফসলই কাভানের মা হেইকে। এমনকি কাভানের মধ্যনামটাও নাকি বেছে নেওয়া হয়েছিল মায়ের দিকের এই ঐতিহ্যকে সম্মান জানিয়েই। ঢাকা থেকে জাতিসংঘের কর্মকর্তা, সেখান থেকে ফিলাডেলফিয়ার এক তরুণ ফুটবলারের বুটে খচিত পতাকা—এই যাত্রাপথটাই যেন এক উপন্যাসের কাঠামো।
মাঠের পারফরম্যান্সও কম চমকপ্রদ নয়। ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই মাত্র ১৪ বছর ২৯৩ দিন বয়সে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের হয়ে এমএলএসে অভিষেক ঘটিয়ে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হওয়ার রেকর্ড গড়েন কাভান। থামেননি সেখানেই। কনকাকাফ চ্যাম্পিয়ন্স কাপে ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর ডিফেন্স ফোর্স এফসির বিপক্ষে জোড়া গোল আর জোড়া অ্যাসিস্ট করে দলকে এনে দেন ৭-০ গোলের বিশাল জয়, নিজে হয়ে যান আসরের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ আমেরিকান গোলদাতা। সাম্প্রতিক এক তালিকায় লামিনে ইয়ামাল, এস্তেভাও, এনদ্রিকদের পাশে ৩০তম স্থান দখল করেছেন এ কিশোর, আর গুঞ্জন উঠেছে, আঠারো পূর্ণ হলেই হয়তো তাকে দেখা যাবে ম্যানচেস্টার সিটির জার্সিতে।
এই আলোচনার মধ্যে সবচেয়ে চমকপ্রদ অধ্যায়টা লেখা হচ্ছে অন্য এক মঞ্চে। কাভানের দুই বড় ভাই, যমজ রোনান আর ডেক্লান, বেছে নিয়েছেন ভিন্ন পথ—তারা খেলেছেন বাংলাদেশের হয়ে, আর জিতে নিয়েছেন সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা। রোনান পুরো আসরজুড়ে ছিলেন একাদশের অবিচ্ছেদ্য অংশ, ডেক্লান বদলি হিসেবে নেমেও রেখেছেন সম্ভাবনার ছাপ। একই পরিবারের এক ভাই লড়ছেন মেসির ইন্টার মিয়ামির বিপক্ষে, স্বপ্ন দেখছেন ইউরোপের শীর্ষ লিগে খেলার, আর দুই ভাই মাথা উঁচু করে গায়ে জড়িয়েছেন লাল-সবুজ জার্সি।
সবচেয়ে বড় ভাই কুইনও যেন এই পরিবারের মিশ্র পরিচয়ের কথা ভোলেননি একটুও। ফিলাডেলফিয়ার এক বাংলাদেশি রেস্তোরাঁয় বসে নান-বিফ কারি খেতে খেতে যখন তিনি নানির ঢাকার গল্প শোনান, তখন বোঝা যায়—এই পরিবারের কাছে বাংলাদেশ শুধু বংশতালিকার এক শব্দ নয়, বরং হৃদয়ের একটা ঠিকানা। জার্মান অধ্যাপক আর বাংলাদেশি জাতিসংঘ কর্মকর্তার
নাতি-নাতনিরা আজ তিন মহাদেশের ফুটবল-স্বপ্নকে বেঁধে ফেলেছেন এক সুতোয়, আর সেই সুতোর একপ্রান্তে জ্বলজ্বল করছে বাংলাদেশের নাম।
What's Your Reaction?