কারফিউ-সেনা মোতায়েনেও থামেনি সাভারের আন্দোলন

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রক্তাক্ত অধ্যায়ের অন্যতম দিন ২০ জুলাই। দেশজুড়ে কারফিউ জারি, সেনাবাহিনী মোতায়েন এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেও সাভারে থামেনি আন্দোলন। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দফায় দফায় সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা। সংঘর্ষে নিহত হন চারজন। আহত হন আরও অনেকে। সকাল থেকেই পাকিজা মোড়, বাজার বাসস্ট্যান্ড, রেডিও কলোনি এলাকায় শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারীরা অবস্থান নেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের সরিয়ে দিতে টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড, রাবার বুলেট এবং ছত্রভঙ্গ করার বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করে। একপর্যায়ে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে একাধিক স্থানে। গুলির শব্দ, ধোঁয়া আর আতঙ্কে পুরো এলাকা অচল হয়ে পড়ে। আরও পড়ুন ফিরে দেখা ২০ জুলাই / বাইরে কারফিউ, মেসে মেসে আঁকা হচ্ছিল আন্দোলনের নতুন ছক কারফিউ চলায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত এলাকাটির বেশিরভাগ পোশাক কারখানা বন্ধ থাকে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হননি। রাস্তায় সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয

কারফিউ-সেনা মোতায়েনেও থামেনি সাভারের আন্দোলন

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রক্তাক্ত অধ্যায়ের অন্যতম দিন ২০ জুলাই। দেশজুড়ে কারফিউ জারি, সেনাবাহিনী মোতায়েন এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেও সাভারে থামেনি আন্দোলন। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দফায় দফায় সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা। সংঘর্ষে নিহত হন চারজন। আহত হন আরও অনেকে।

সকাল থেকেই পাকিজা মোড়, বাজার বাসস্ট্যান্ড, রেডিও কলোনি এলাকায় শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারীরা অবস্থান নেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের সরিয়ে দিতে টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড, রাবার বুলেট এবং ছত্রভঙ্গ করার বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করে। একপর্যায়ে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে একাধিক স্থানে। গুলির শব্দ, ধোঁয়া আর আতঙ্কে পুরো এলাকা অচল হয়ে পড়ে।

কারফিউ চলায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত এলাকাটির বেশিরভাগ পোশাক কারখানা বন্ধ থাকে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হননি। রাস্তায় সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়।

কারফিউ-সেনা মোতায়েনেও থামেনি সাভারের আন্দোলন

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দিনের বেশিরভাগ সময়ই বিভিন্ন এলাকায় থেমে থেমে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে। সংঘর্ষের পর সড়কের বিভিন্ন স্থানে ইট-পাটকেল, পোড়া টায়ার ও ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহনের চিহ্ন দেখা যায়। বিকেলের দিকে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও সন্ধ্যার পরও উত্তেজনা বিরাজ করে।

সেদিনের ঘটনায় নিহতদের স্বজনদের আহাজারি এবং আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার দৃশ্য সাভারের মানুষের মনে গভীর দাগ কেটে যায়। স্থানীয়দের ভাষ্য, ওই দিনের ঘটনায় পুরো জনপদ আতঙ্কে স্তব্ধ হয়ে পড়েছিল।

দেশব্যাপী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তৎকালীন সরকার কারফিউ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেয়। একই সঙ্গে সরকারি ছুটি বাড়ানো হয়। তবে কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেও আন্দোলনের গতি পুরোপুরি থামানো যায়নি।

কারফিউ-সেনা মোতায়েনেও থামেনি সাভারের আন্দোলন

স্থানীয় সোহেল রানা জাগো নিউজকে বলেন, ‌‘ওইদিন সাভার পাকিজা স্ট্যান্ডে অবস্থান নেয় পুলিশ। পরে সেখান থেকে তারা ভাগ ভাগ হয়ে যান। যখন আন্দোলনরত ছাত্র-জনতা প্রতিবাদ করে, তখনই পুলিশ তাদের ওপর গুলি চালায়। সেদিন অন্তত চারজন শহীদ হন। আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন অনেক।’

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আসাদুল ইসলাম মুকুল বলেন, ‘সেই দিনের স্মৃতি আজও হৃদয়ে পীড়া দেয়। মাঠে থাকতে হয়েছে পুলিশের সঙ্গে যুদ্ধ করে। মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে লড়তে হয়েছে। সেদিন সারাদেশের মতো সাভারেও শহীদ হন অনেকে। পুলিশ ন্যাক্কারজনক হামলা চালায়।’

এসআর/এএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow