কারামুক্ত হলেন সাবেক মেয়র আইভী

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। বুধবার (৩ জুন) রাত ১০টা ৮ মিনিটে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। কারা অধিদপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) মো. জান্নাত-উল ফরহাদ জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মহিলা হাজতি বন্দি ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর জামিনের আদেশ কারাগারে পৌঁছায় ৩ জুন। পরে অন্য কোনো আটকাদেশ না থাকায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। গত বছরের ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগের নিজ বাসা থেকে আইভীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তাকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ঘটনায় হওয়া তিনটি হত্যা মামলা ও দুটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। আরও পড়ুনআইভী গ্রেফতারআইভীকে নতুন মামলায় গ্রেফতার না করার নির্দেশ হাইকোর্টের এই পাঁচ মামলায় হাইকোর্ট গত বছরের ৯ নভেম্বর আইভীর জামিন মঞ্জুর করে রায় দেন। এ জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে পৃথক পাঁচটি আবেদন করে। চেম্বার আদালত গত বছরের ১২ নভেম্বর হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনগুলো আপিল বিভাগের নিয়মিত

কারামুক্ত হলেন সাবেক মেয়র আইভী

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।

বুধবার (৩ জুন) রাত ১০টা ৮ মিনিটে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

কারা অধিদপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) মো. জান্নাত-উল ফরহাদ জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, মহিলা হাজতি বন্দি ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর জামিনের আদেশ কারাগারে পৌঁছায় ৩ জুন। পরে অন্য কোনো আটকাদেশ না থাকায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়।

গত বছরের ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগের নিজ বাসা থেকে আইভীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তাকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ঘটনায় হওয়া তিনটি হত্যা মামলা ও দুটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।

আরও পড়ুন
আইভী গ্রেফতার
আইভীকে নতুন মামলায় গ্রেফতার না করার নির্দেশ হাইকোর্টের

এই পাঁচ মামলায় হাইকোর্ট গত বছরের ৯ নভেম্বর আইভীর জামিন মঞ্জুর করে রায় দেন। এ জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে পৃথক পাঁচটি আবেদন করে। চেম্বার আদালত গত বছরের ১২ নভেম্বর হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনগুলো আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান। এর ধারাবাহিকতায় রাষ্ট্রপক্ষ পৃথক পাঁচটি লিভ টু আপিল করে। লিভ টু আপিলগুলো খারিজ করে ১০ মে আদেশ দেন আপিল বিভাগ। ফলে পাঁচ মামলায় আইভীর জামিন বহাল থাকে।

তবে প্রথম দফার ওই পাঁচ মামলায় হাইকোর্ট জামিন দেওয়ার পর আইভীকে আরও পাঁচ মামলায় গত বছরের নভেম্বরে গ্রেফতার দেখানো হয়। এই পাঁচ মামলার মধ্যে চারটি ফতুল্লা থানায় করা হত্যা মামলা। অপরটি হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় করা মামলা।

দ্বিতীয় দফার পাঁচ মামলায় গত ২৬ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট জামিন প্রশ্নে রুল দিয়ে আইভীকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তী জামিন দেন। এই জামিন আদেশের বিরুদ্ধেও রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে। গত ৫ মার্চ চেম্বার আদালত শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করেন। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনগুলো আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠান।

দ্বিতীয় দফার এই পাঁচ মামলায় আইভীকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা পৃথক লিভ টু আপিল ১০ মে আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় ওঠে। সেদিন আপিল বিভাগ আইভীর জামিনে এর আগে চেম্বার আদালতের দেওয়া স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে হাইকোর্টে রুল (জামিন প্রশ্নে) নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের পৃথক পাঁচটি লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি করে এ আদেশ দেওয়া হয়। ফলে দ্বিতীয় দফার পাঁচ মামলায় আইভীকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল হয়।

২০০৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ছিলেন সেলিনা হায়াৎ আইভী। পরে নবগঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের টানা তিনটি নির্বাচনে জয়ী হন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক এই জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি।

টিটি/ইএ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow