কিউবানরা ট্রাম্পের সঙ্গে সংঘাত নয়, সংলাপ চায়

প্রতিবেশী দেশ কিউবার বিরুদ্ধে সুর আরও কঠোর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি কিউবাকে যে কোনো উপায়ে নিজের দখলে নেওয়ার আশা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, দেশটিকে নিয়ে তিনি যা খুশি তাই করতে পারেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন যুদ্ধংদেহী মন্তব্যের পর কিউবার সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও সংশয় ছড়িয়ে পড়েছে। তবে হাভানার বাসিন্দারা সংঘাতের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমেই সংকটের সমাধান চাইছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার হাভানার রাস্তায় কিউবানরা দুই সরকারের মধ্যকার গভীর মতপার্থক্য মেটাতে সংলাপের প্রতি তাদের সমর্থন দেখিয়েছেন। তবে ট্রাম্পের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের ইতিহাসের কারণে তার প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর সংশয় রয়েছে। সোমবার ট্রাম্পের মন্তব্য শুনে হতবাক হয়েছিলেন ৫০ বছর বয়সী সরকারি কর্মী মারিয়ানেলা আলভারেজ। তিনি বলেন, আমি চাই ট্রাম্প বুঝুক, তার উচিত আমাদের শান্তিতে থাকতে দেওয়া। আমরা কিউবাকে নিয়ে তার এই যা খুশি তাই করার মানসিকতায় স্তম্ভিত। দুই প্রতিবেশীর মধ্যে যখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে, তখন উভয় দেশের সরকার জানিয়েছে যে তারা আলোচনা চালাচ্ছে। ওয়াশিংটন ইতোমধ্যে কি

কিউবানরা ট্রাম্পের সঙ্গে সংঘাত নয়, সংলাপ চায়

প্রতিবেশী দেশ কিউবার বিরুদ্ধে সুর আরও কঠোর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি কিউবাকে যে কোনো উপায়ে নিজের দখলে নেওয়ার আশা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, দেশটিকে নিয়ে তিনি যা খুশি তাই করতে পারেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন যুদ্ধংদেহী মন্তব্যের পর কিউবার সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও সংশয় ছড়িয়ে পড়েছে। তবে হাভানার বাসিন্দারা সংঘাতের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমেই সংকটের সমাধান চাইছেন।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার হাভানার রাস্তায় কিউবানরা দুই সরকারের মধ্যকার গভীর মতপার্থক্য মেটাতে সংলাপের প্রতি তাদের সমর্থন দেখিয়েছেন। তবে ট্রাম্পের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের ইতিহাসের কারণে তার প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর সংশয় রয়েছে।

সোমবার ট্রাম্পের মন্তব্য শুনে হতবাক হয়েছিলেন ৫০ বছর বয়সী সরকারি কর্মী মারিয়ানেলা আলভারেজ। তিনি বলেন, আমি চাই ট্রাম্প বুঝুক, তার উচিত আমাদের শান্তিতে থাকতে দেওয়া। আমরা কিউবাকে নিয়ে তার এই যা খুশি তাই করার মানসিকতায় স্তম্ভিত।

দুই প্রতিবেশীর মধ্যে যখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে, তখন উভয় দেশের সরকার জানিয়েছে যে তারা আলোচনা চালাচ্ছে। ওয়াশিংটন ইতোমধ্যে কিউবার প্রধান পৃষ্ঠপোষক ভেনেজুয়েলার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে ক্যারিবীয় এই দ্বীপটির ওপর তেল অবরোধ আরোপ করেছে। এরই মধ্যে ট্রাম্প তার বাগাড়ম্বর বাড়িয়ে বলেছেন, তিনি শিগগিরই কিউবা দখল করতে পারেন।

এর আগে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, কিউবা একটি বন্ধুত্বপূর্ণ দখলের শিকার হতে পারে। তবে পরক্ষণেই তিনি সুর বদলে বলেন, এটি হয়তো বন্ধুত্বপূর্ণ দখল নাও হতে পারে। ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তজনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা কিউবার সঙ্গে কথা বলছি, কিন্তু কিউবার আগে আমরা ইরানকে নিয়ে কাজ করব।

হাভানার বর্তমান পরিস্থিতি বেশ নাজুক। ধারাবাহিক বিদ্যুৎ গ্রিড বিকল হওয়ার ফলে কিউবার একটি বড় অংশ অন্ধকারে নিমজ্জিত। এর মধ্যেই কিউবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সামরিক প্রস্তুতির ওপর জোর দিচ্ছে। প্রতি রাতে সংবাদে বেসামরিক নাগরিকদের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নিতে দেখা যাচ্ছে। কমিউনিস্ট সরকারের ‘সমগ্র জনগণের যুদ্ধ’ কৌশলের অংশ হিসেবে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

তবে সাধারণ মানুষ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত নয়। সরকারি কর্মী আলভারেজ বলেন, আমরা বেসামরিক নাগরিকরা যুদ্ধের জন্য মোটেও প্রস্তুত নই। ৫৫ বছর বয়সী লুইস এনরিকে গার্সিয়া বলেন, সংলাপই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমি আমার দেশে যুদ্ধ চাই না।

২৬ বছর বয়সী আমেদ এচেনিক দ্বিপাক্ষিক আলোচনার প্রতি সমর্থন জানালেও ট্রাম্পের ওপর আস্থা রাখতে পারছেন না। তিনি বলেন, ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা থাকলেও আমি ব্যক্তিগতভাবে তাকে বিশ্বাস করি না।

অন্যদিকে, ৫৮ বছর বয়সী বারবারা রদ্রিগেজ কিউবার শোচনীয় অবস্থার জন্য সরাসরি মার্কিন অবরোধকে দায়ী করেছেন। ১৯৬০-এর দশক থেকে চলা এই দীর্ঘতম অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই অবরোধে আমরা ক্লান্ত। এখন জ্বালানি নিয়ে জাহাজও আসতে দেওয়া হচ্ছে না। এভাবে কোনো দেশ উন্নতি করতে পারে না।

ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাবও কিউবার ওপর পড়ছে। হাভানা ও ওয়াশিংটনের এই বৈরী সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে ঠেকে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow