কুষ্টিয়ায় এসএসসি পরীক্ষায় ২০২৫ সালের প্রশ্ন বিতরণ

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে বাংলা প্রথম পত্রে ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র বিতরণের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) পরীক্ষা শুরুর আধা ঘণ্টা পর প্রশ্নের বিষয়টি ১৭ শিক্ষার্থীর নজরে আসে। এই ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এদিকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা হিসেবে কেন্দ্র সচিব ও দুই কক্ষ পরিদর্শককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পরীক্ষা শুরুর পর কক্ষ পরিদর্শক বালিরদিয়াড় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বাহারুল ইসলাম ও ভুরকাপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রাশেদা খাতুন ১৭ জন শিক্ষার্থীকে ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র সরবরাহ করেন। শিক্ষার্থীরা জানান, প্রশ্নের বিষয়টি বুঝতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে পরিদর্শকদের অবগত করেন এবং প্রশ্ন পরিবর্তন করে দিতে বলেন। কিন্তু পরিদর্শকরা তাদের অভিযোগ আমলে না নিয়ে বরং তাদের ধমক দিয়ে পুরাতন প্রশ্নপত্রেই পরীক্ষা চালিয়ে যেতে বাধ্য করেন। ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টা পর নতুন প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হলেও নষ্ট হওয়া এক ঘণ্টা সময়ের বিপরীতে মাত্র ৩০ মিনিট অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়। এদিকে পর

কুষ্টিয়ায় এসএসসি পরীক্ষায় ২০২৫ সালের প্রশ্ন বিতরণ

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে বাংলা প্রথম পত্রে ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র বিতরণের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) পরীক্ষা শুরুর আধা ঘণ্টা পর প্রশ্নের বিষয়টি ১৭ শিক্ষার্থীর নজরে আসে। এই ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে

এদিকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা হিসেবে কেন্দ্র সচিব ও দুই কক্ষ পরিদর্শককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

পরীক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পরীক্ষা শুরুর পর কক্ষ পরিদর্শক বালিরদিয়াড় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বাহারুল ইসলাম ও ভুরকাপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রাশেদা খাতুন ১৭ জন শিক্ষার্থীকে ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র সরবরাহ করেন।

শিক্ষার্থীরা জানান, প্রশ্নের বিষয়টি বুঝতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে পরিদর্শকদের অবগত করেন এবং প্রশ্ন পরিবর্তন করে দিতে বলেন। কিন্তু পরিদর্শকরা তাদের অভিযোগ আমলে না নিয়ে বরং তাদের ধমক দিয়ে পুরাতন প্রশ্নপত্রেই পরীক্ষা চালিয়ে যেতে বাধ্য করেন। ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টা পর নতুন প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হলেও নষ্ট হওয়া এক ঘণ্টা সময়ের বিপরীতে মাত্র ৩০ মিনিট অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়।

এদিকে পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীরা কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে তাদের অভিভাবকদের বিষয়টি জানালে ক্ষোভে ফেটে পড়েন অভিভাবকরা।

বিষয়টি জানতে পেরে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ তাৎক্ষণিক কেন্দ্রে উপস্থিত হন। ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তিনি ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও উপস্থিত শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলেন। ঘটনার প্রমাণ পাওয়ায় তিনি যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং কেন্দ্র সচিব ইয়ার আলী, কক্ষ পরিদর্শক বাহারুল ইসলাম ও রাশেদা খাতুনকে পরীক্ষা সংক্রান্ত সব দায়িত্ব থেকে তাৎক্ষণিকভাবে অব্যাহতি দেন। ওই ১৭ জন শিক্ষার্থী নাসির উদ্দিন বিশ্বাস স্কুল অ্যান্ড কলেজের।

নাসির উদ্দিন বিশ্বাস স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক মোখলেসুর রহমান বলেন, এটি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের সঙ্গে চরম অবিচার। একজন পরীক্ষার্থীর কাছে প্রতিটি মিনিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কক্ষ পরিদর্শকদের দায়িত্বহীনতার কারণেই আজ এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এক ঘণ্টা সময় নষ্ট হওয়ার পর মাত্র আধা ঘণ্টা ক্ষতিপূরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়, যা শিক্ষার্থীদের ওপর প্রচণ্ড মানসিক চাপ তৈরি করেছে।

ঘটনার বিষয়ে কেন্দ্র সচিব ইয়ার আলী বলেন, প্রশ্নপত্র বিতরণের সময় অসাবধানতাবশত এই ভুলটি হয়েছে। বিষয়টি জানা মাত্রই আমরা ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করেছি। এটি অনিচ্ছাকৃত একটি ভুল ছিল, তারপরও প্রশাসনের নেওয়া সিদ্ধান্তকে আমি সম্মান জানাই।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনিন্দ্য গুহ বলেন, পরীক্ষার মতো সংবেদনশীল বিষয়ে এমন অবহেলা কোনোভাবেই কাম্য নয়। খবর পাওয়া মাত্রই আমি কেন্দ্রে গিয়ে ঘটনার সত্যতা যাচাই করেছি। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যে অবিচার হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। বোর্ডে কথা বলে ওই শিক্ষার্থীদের রোল নম্বরগুলো সংশ্লিষ্ট বোর্ডের কাছে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক সংশ্লিষ্ট কক্ষ পরিদর্শক ও কেন্দ্র সচিবকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান।

আল-মামুন সাগর/এনএইচআর/এমএস

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow