কোম্পানির দেয়াল ধসে শ্রমিকের মৃত্যু, অবহেলার অভিযোগ

ময়মনসিংহ সদর ও গৌরীপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় একটি কোম্পানির ঝুঁকিপূর্ণ দেয়াল ধসে আবু সাইদ (৪০) নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১৮ মে) দুপুরে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের চরশ্রীরামপুর ও সাহেবকাচারী বাজারের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত ‘এগ্রোটেক ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’ কারখানায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শ্রমিক আবু সাইদ ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চরনিলক্ষীয়া ইউনিয়নের বড়ইকান্দি গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে। তিনি ওই কোম্পানিতে ‘রিপেয়ারিং হেলপার’ পদে প্রায় ৮ বছর ধরে কর্মরত ছিলেন। কারখানায় দেয়াল ধসে আবু সাইদ নিহতের খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও নিহতের স্বজনেরা কোম্পানির সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এ সময় তারা কোম্পানির অবহেলাকে দায়ী করে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবি জানান।  এদিকে দেয়াল ধসে শ্রমিক নিহতের সংবাদ সংগ্রহ করতে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা কারখানায় গেলে কোম্পানির নিরাপত্তাকর্মীরা তাদের ভেতরে প্রবেশ করতে দেননি। নিহত আবু সাইদের ছেলে কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মিজানুর রহমান মিজান অভিযোগ করে বলেন, কোম্পানির ওই দেয়ালটি আগেই ঝুঁকিপূর্ণ ও নড়বড়ে ছিল

কোম্পানির দেয়াল ধসে শ্রমিকের মৃত্যু, অবহেলার অভিযোগ

ময়মনসিংহ সদর ও গৌরীপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় একটি কোম্পানির ঝুঁকিপূর্ণ দেয়াল ধসে আবু সাইদ (৪০) নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১৮ মে) দুপুরে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের চরশ্রীরামপুর ও সাহেবকাচারী বাজারের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত ‘এগ্রোটেক ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’ কারখানায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত শ্রমিক আবু সাইদ ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চরনিলক্ষীয়া ইউনিয়নের বড়ইকান্দি গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে। তিনি ওই কোম্পানিতে ‘রিপেয়ারিং হেলপার’ পদে প্রায় ৮ বছর ধরে কর্মরত ছিলেন।

কারখানায় দেয়াল ধসে আবু সাইদ নিহতের খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও নিহতের স্বজনেরা কোম্পানির সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এ সময় তারা কোম্পানির অবহেলাকে দায়ী করে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবি জানান। 

এদিকে দেয়াল ধসে শ্রমিক নিহতের সংবাদ সংগ্রহ করতে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা কারখানায় গেলে কোম্পানির নিরাপত্তাকর্মীরা তাদের ভেতরে প্রবেশ করতে দেননি।

নিহত আবু সাইদের ছেলে কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মিজানুর রহমান মিজান অভিযোগ করে বলেন, কোম্পানির ওই দেয়ালটি আগেই ঝুঁকিপূর্ণ ও নড়বড়ে ছিল। তাছাড়া স্থানটিও স্যাঁতস্যাঁতে ও পিচ্ছিল ছিল। এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ হওয়া সত্ত্বেও কোম্পানি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়নি। আমার বাবা বাঁচার চেষ্টা করেও পারেননি। কোম্পানির চরম অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার কারণেই আজ আমার বাবার মৃত্যু হয়েছে।

কান্নায় ভেঙে পড়ে আবু সাইদের স্ত্রী মাজেদা খাতুন বলেন, আমার স্বামীই ছিলেন সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। বড় ছেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে, আর ছোট ছেলে মুবিন মিয়া তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ছে। ওদের ভবিষ্যৎ এখন এক নিমেষেই অন্ধকার হয়ে গেল। 

ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, কারখানায় দেয়াল ধসে এক শ্রমিক মারা গেছেন। মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে একপর্যায়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow