কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ করবে না সিলেটের কওমি মাদ্রাসাগুলো
সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে সিলেটের চামড়া শিল্পের দেশীয় বাণিজ্যিক ভেঙে পড়েছে। দেশের রপ্তানি শিল্পের অন্যতম আয়ের উৎস এই চামড়া শিল্প। দেশের রপ্তানি অন্যতম এই পণ্য ক্রমান্বয়ে ষড়যন্ত্র করে বন্ধ হওয়ার উপক্রম করেছে একটি সিন্ডিকেট। ফলে দেশের বাজারে দরপতনের শিকার হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত কুরবানির চামড়া প্রায় মূল্যহীন পণ্যে পরিণত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ না করার ঘোষণা দিয়েছে সিলেট বিভাগের কওমি মাদ্রাসাগুলো। সোমবার (১১ মে) দুপুরে সিলেট নগরীর সোবহানীঘাট এলাকায় ‘সিলেট বিভাগ কওমি মাদ্রাসা সংরক্ষণ পরিষদ’ সংবাদ সম্মেলন করে এমন সিদ্ধান্তের কথা জানায়। আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পরিষদের সদস্য সচিব মাওলানা মুশতাক আহমদ খাঁন। মুশতাক আহমদ খাঁন বলেন, প্রাচীনকাল থেকে ইসলামের হেফাজতের জন্য বিশ্বজুড়ে কওমি মাদ্রাসাগুলো কুরআন ও হাদিসের শিক্ষার প্রচার-প্রসার করে আসছে। মুসলিম সমাজের মুক্ত হস্তে দান-সদকাহর মাধ্যমে পরিচালিত এসব মাদ্রাসা আদর্শ ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে নিরলসভাবে অসামান্য ভূমিকা রাখছে। বছরজুড়ে সর্বসাধারণের দান, মৌসুমী চাঁদা, কুরবানির পশুর চামড়া ই
সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে সিলেটের চামড়া শিল্পের দেশীয় বাণিজ্যিক ভেঙে পড়েছে। দেশের রপ্তানি শিল্পের অন্যতম আয়ের উৎস এই চামড়া শিল্প। দেশের রপ্তানি অন্যতম এই পণ্য ক্রমান্বয়ে ষড়যন্ত্র করে বন্ধ হওয়ার উপক্রম করেছে একটি সিন্ডিকেট। ফলে দেশের বাজারে দরপতনের শিকার হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত কুরবানির চামড়া প্রায় মূল্যহীন পণ্যে পরিণত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ না করার ঘোষণা দিয়েছে সিলেট বিভাগের কওমি মাদ্রাসাগুলো।
সোমবার (১১ মে) দুপুরে সিলেট নগরীর সোবহানীঘাট এলাকায় ‘সিলেট বিভাগ কওমি মাদ্রাসা সংরক্ষণ পরিষদ’ সংবাদ সম্মেলন করে এমন সিদ্ধান্তের কথা জানায়। আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পরিষদের সদস্য সচিব মাওলানা মুশতাক আহমদ খাঁন।
মুশতাক আহমদ খাঁন বলেন, প্রাচীনকাল থেকে ইসলামের হেফাজতের জন্য বিশ্বজুড়ে কওমি মাদ্রাসাগুলো কুরআন ও হাদিসের শিক্ষার প্রচার-প্রসার করে আসছে। মুসলিম সমাজের মুক্ত হস্তে দান-সদকাহর মাধ্যমে পরিচালিত এসব মাদ্রাসা আদর্শ ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে নিরলসভাবে অসামান্য ভূমিকা রাখছে। বছরজুড়ে সর্বসাধারণের দান, মৌসুমী চাঁদা, কুরবানির পশুর চামড়া ইত্যাদি কওমি মাদ্রাসা পরিচালনায় আয়ের অন্যতম উৎস। কিন্তু বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার ২০১৩ সালে কওমি মাদ্রাসার এই অন্যতম আয়ের উৎস বন্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করে। ওই সরকারের অসৎ উদ্দেশ্যে ক্রমান্বয়ে দেশের রপ্তানি শিল্পের অন্যতম এই পণ্য দেশের বাজারে দরপতনের শিকার হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত কুরবানির চামড়া প্রায় মূল্যহীন পণ্যে পরিণত হয়। বর্তমান অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে, কওমি মাদ্রাসাগুলো এলাকার মানুষের কোরবানির চামড়া সংগ্রহ করে যত টাকা পরিবহণ খরচ করে, চামড়া বিক্রি করে সেই টাকাও ফেরত পায় না।
তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার চামড়া শিল্প রক্ষায় উদ্যোগের কিছুটা তৎপরতা দেখালেও সুফল মেলেনি। গত বছর কুরবানির মৌসুমে ড. ইউনূস সরকার কওমি মাদ্রাসাগুলোকে চামড়া সংরক্ষণের জন্য কাঁচা লবণ সরবরাহ করে। কিন্তু এ উদ্যোগটি অযৌক্তিক ও অকার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। ওই সরকারের উচিত ছিলো চামড়া শিল্পের দেশীয় বাণিজ্যিক সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা। বৈশ্বিক বাজারে মূল্যবান এই কাঁচামাল দেশীয় বাজারে মূল্যহীনতার দশা থেকে মুক্ত করতে ইন্টেরিম সরকার ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর চামড়া শিল্পের সুদিন ফেরার আশায় ছিলাম আমরা। কিন্তু সরকারের ১৮০ দিনের কোনো প্রকল্পেই চামড়া শিল্প নিয়ে কোনো পরিকল্পনা নেই। অথচ এটি একটি রাষ্ট্রের বড় আয়ের খাত। আগের সেই সিন্ডিকেট ভাঙতে পারেননি এই সরকার, যা কওমি মাদ্রাসাগুলোর কর্তৃপক্ষকে চরমভাবে হতাশ করেছে। সার্বিক বিবেচনায় সিলেট বিভাগের কওমি মাদ্রাসাগুলো আগামী কুরবানির মৌসুমে চামড়া সংগ্রহ না করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে। তবে ভবিষ্যতে সরকার আমাদের ডেকে এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নিলে এবং চামড়া শিল্পের উন্নতি হলে গরিব, এতিমদের ইসলামি শিক্ষার স্বার্থে পুনরায় চামড়া সংগ্রহ করতে চিন্তা করা হবে ইনশাআল্লাহ।
কোরবানির দিনে চামড়া শিল্পের মোট ৭১% কওমি মাদরাসার মাধ্যমে সংগৃহীত হয়ে থাকে উল্লেখ করে মাওলানা মুশতাক আহমদ খাঁন বলেন, দেশের দারিদ্রতা বিমোচন ও জনসংখ্যার সুবিধাবঞ্চিত বৃহৎ অংশের শিক্ষা ও লালন-পালনে কওমি মাদ্রাসা ভূমিকা রেখে আসছে। সুতরাং যত দ্রুত সম্ভব সিন্ডিকেট ভেঙে কুরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণে সরকারের যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করার জোর দাবি জানাচ্ছে সিলেট বিভাগ কওমি মাদ্রাসা সংরক্ষণ পরিষদ।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন ও উপস্থিত ছিলেন— সিলেট বিভাগ কওমি মাদ্রাসা সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক মাওলানা আব্দুল বছীর সুনামগঞ্জী, যুগ্মসচিব মাওলানা আহমদ কবীর আমকুনী, যুগ্মসচিব মাওলানা ইউসুফ আহমদ খাদিমানী (রেঙ্গা মাদ্রাসা), মাওলানা মঞ্জুর আহমদ (রেঙ্গা মাদ্রাসা), মাওলানা এনামুল হক বহরগ্রামী, মুফতি মাওলানা রশিদ আহমদ (দরগাহ মাদ্রাসা), মাওলানা নিয়াম উল্লাহ খাসদবিরী (দারুস সালাম মাদ্রাসা), মাওলানা শামীম আহমদ ও মাওলানা গোলাম কিবরিয়া।
এছাড়াও সিলেট বিভাগ কওমি মাদ্রাসা সংরক্ষণ পরিষদের বিভিন্ন স্তরের নেতা এবং বিভাগের বিভিন্ন কওমি মাদ্রাসার মুহতামিম ও দায়িত্বশীলরা উপস্থিত ছিলেন।
What's Your Reaction?