কোষাগারে নেই পর্যাপ্ত অর্থ, সংকটে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন

সাবেক প্রশাসকদের অতিরিক্ত ওয়ার্ক অর্ডার ও আয়ের চেয়ে খরচ বেশি হওয়ার ফলে আর্থিক সংকটে পড়েছে রাজধানীর ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। সংস্থা দুটিতে ৪৭০ কোটি টাকার কাজের বিল বকেয়া রেখে গেছে আগের প্রশাসন। কোষাগারে অর্থ না থাকলেও প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকার অগ্রিম ওয়ার্ক অর্ডার দিয়ে রাখা হয়েছে। গণঅভ্যুত্থান আর নির্বাচনের ডামাডোলে রাজস্ব আয়ও তলানিতে।  এমন পরিস্থিতিতে সিটি করপোরেশনকে সচল রাখতে সরকারের কাছে জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ বরাদ্দ চেয়েছেন নবনিযুক্ত দুই প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম ও মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন ঢাকার দুই সিটি এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক। অর্থাভাব থাকলেও সামনে বর্ষা আর ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবিলায় মশক নিধন ও শহর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে নির্দেশনা দেন সরকারপ্রধান। বৈঠক শেষে ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, জাতীয় নির্বাচনের দু’দিন আগে উত্তর সিটির সাবেক প্রশাসক ১০ ফেব্রুয়ারি শেষ অফিস করেছেন। সেদিনও তিনি ৩৪টি ফাইল সাইন করে গেছেন। করপোরেশনে এখন একেবারেই ভঙ্গুর অবস্থা, কোনো ফান্ড

কোষাগারে নেই পর্যাপ্ত অর্থ, সংকটে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন

সাবেক প্রশাসকদের অতিরিক্ত ওয়ার্ক অর্ডার ও আয়ের চেয়ে খরচ বেশি হওয়ার ফলে আর্থিক সংকটে পড়েছে রাজধানীর ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। সংস্থা দুটিতে ৪৭০ কোটি টাকার কাজের বিল বকেয়া রেখে গেছে আগের প্রশাসন। কোষাগারে অর্থ না থাকলেও প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকার অগ্রিম ওয়ার্ক অর্ডার দিয়ে রাখা হয়েছে। গণঅভ্যুত্থান আর নির্বাচনের ডামাডোলে রাজস্ব আয়ও তলানিতে। 

এমন পরিস্থিতিতে সিটি করপোরেশনকে সচল রাখতে সরকারের কাছে জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ বরাদ্দ চেয়েছেন নবনিযুক্ত দুই প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম ও মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন ঢাকার দুই সিটি এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক। অর্থাভাব থাকলেও সামনে বর্ষা আর ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবিলায় মশক নিধন ও শহর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে নির্দেশনা দেন সরকারপ্রধান।

বৈঠক শেষে ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, জাতীয় নির্বাচনের দু’দিন আগে উত্তর সিটির সাবেক প্রশাসক ১০ ফেব্রুয়ারি শেষ অফিস করেছেন। সেদিনও তিনি ৩৪টি ফাইল সাইন করে গেছেন। করপোরেশনে এখন একেবারেই ভঙ্গুর অবস্থা, কোনো ফান্ড নেই। এদিকে ১৪৭০ কোটি টাকার টেন্ডার দিয়ে ওয়ার্ক অর্ডার দিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, করপোরেশনে এখন কোনো টাকা নেই, মাত্র ২৫ কোটি টাকা আছে বলে জানলাম। আয়-ব্যয় এবং রাজস্ব থেকে রেভিনিউ সেকশনে কথা বলে যতটুকু জানতে পেরেছি, প্রতি মাসে স্যালারি আসে ১৩ কোটি টাকা। ফলে থাকবে কেবল ১২ কোটি। এখন বিচার বিশ্লেষণ আপনারাই করবেন। উন্নয়ন কর্মকাণ্ড কীভাবে করব? প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে তিনি আমাদের আশ্বস্ত করেছেন, আমরা হতাশ নই। এভাবেই আমরা এগিয়ে যাব।

যে অঙ্গীকার রয়েছে তা বাস্তবায়নের কথা জানিয়ে নতুন প্রশাসক বলেন, মাত্র সাতদিন বয়স হয়েছে আমাদের। আপনারা (সাংবাদিক) আমাদেরকে একটু সহযোগিতা করবেন। আমাদের কাজ যাতে আরও সহজ উপায়ে করতে পারি এই ব্যাপারে আপনারা সহযোগিতা করবেন।

দখলদারদের উচ্ছেদ ও খাল খনন সম্পর্কে শফিকুল ইসলাম বলেন, একটু আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। সাত দিন হলো আমরা সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব নিয়েছি। ঢাকা উত্তর সিটি ককরপোরেশনের উল্লেখযোগ্য ২৯টি খাল আছে। ২৯টি খালে আমরা পুনরায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজ শুরু করব। যেখানে নাব্যতা কমে গেছে সেখানে আমরা এস্কেভেটর দিয়ে খননের মাধ্যমে পানি প্রবাহ সচল রাখার চেষ্টা চালাচ্ছি। এখন বলতে পারেন অনেকে বলে একবার করে এটা মনিটরিং করা হয় না। এটা অতীতে হয়েছে। অতীতে কী হয়েছে, এটা আপনারাও জানেন আমরাও জানি। ভবিষ্যতে আমরা কী করবো, সেটা আমরা বলতে পারব।

খাল খনন না করলে সামনে ডেঙ্গু পরিস্থিতিতে আরও বিপদগ্রস্ত হতে হবে উল্লেখ করে প্রশাসক বলেন, এই যে খাল খনন কর্মসূচি আমাদের পার্টির ম্যানিফেস্টোতে আছে। তাই আমরা পুনরায় ও আগাম এটা করার চেষ্টা করছি। আর যেখানে খালের পানি আটকে যাচ্ছে, নর্দমা বা ময়লা আবর্জনা, ময়লার স্তূপ হয়ে আছে সেটা নিরসনে রুটিনমাফিক কাজগুলো করার জন্য নির্দেশ দিয়েছি।

দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ও উচ্ছেদের ব্যাপারে তিনি বলেন, ঈদের পরে শুরু করব। আইন ও পরিবেশ সংস্থা আছে। সেখানে আমরা তাদেরকে নোটিশ দিয়ে কাজ শুরু করব। দখলদার নিম্ন আয়ের বা ছিন্নমূল মানুষদের আলোচনার ভিত্তিতে অন্য কোথাও একটা বাসস্থান করা যায় কি না কিংবা তাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে আমরা একটা সহজ উপায় বের করব।

ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেন, আগের যেসব টেন্ডার ওয়ার্ক অর্ডার তারা দিয়েছে, আমি বলেছি সেগুলো আমাদের জরুরি ও দ্রুত দরকার। সেগুলো আমি দেখে তারপর সেগুলোর ব্যবস্থা নেব। এর আগে ঢালাওভাবে তারা যেসব ওয়ার্ক অর্ডার দিয়েছে, সেটার ভিত্তিতে কাজ করলে সিটি করপোরেশন কলাপস করবে। কোনোভাবে সেটা করা যাবে না।

তিনি আরো বলেন, আমরা ইমিডিয়েটলি কি কি করতে চাই, আবার দীর্ঘ সময় কি কি দরকার, সেই বিষয় নিয়েই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা হয়েছে। আমরা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই ঢাকা দক্ষিণ, উত্তর এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসককে তিনি সময় দিয়েছেন। আমরা বিভিন্ন সমস্যাগুলো বলেছি।

মো. আব্দুস সালাম বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরে করপোরেশনগুলোর যে অবস্থা করা হয়েছে, আমাদের রাজস্ব বাজেটের যে অবস্থা অর্থাৎ এটা বলা চলে যে, আগামীতে যদি রাজস্ব বাজেটের উপর ভর করে আমরা বেতন দিতে যাই, তাহলে বেতন দিতে পারবো না। বেতনের টাকা নেই। তারা এমনভাবে সব শূন্য করে দিয়ে গেছে এবং তারপরে আরও যেটা করেছে, তারা প্রায় ১৪০০ কোটি টাকার অ্যাডভান্স ওয়ার্ক অর্ডার পর্যন্ত দিয়ে গেছে। সেই টাকাটা কোথা থেকে আসবে?

প্রশাসক বলেন, ৪৭০ কোটি টাকার কাজের বিল দিয়ে গেছে। সেই টাকা নেই। নির্বাচন ছিল, আগে আন্দোলন ছিল, গত কয়েক মাসে তো রাজস্ব খাতে যেভাবে কালেকশন, মানে কথা টাকা-পয়সা যেভাবে আসার সেই অনুপাতে অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর অনেক কম হয়েছে। যেটা হয়তো আমরা সামনে করতে পারব। আমরা ওনার (প্রধানমন্ত্রী) কাছে বরাদ্দ চেয়েছি, যাতে সিটি করপোরেশন চালানোর জন্য আমাদের সুবিধা হয়।  

প্রধানমন্ত্রী পরিচ্ছন্ন ঢাকা, সবুজায়ন ঢাকা এবং মশা, এই তিনটি বিষয়ের উপরে জোর দিয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, সামনে যেহেতু বর্ষা আসছে এবং সামনে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়বে। এই কারণে মশাকে যেকোনোভাবেই হোক মশাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা বিভিন্ন জায়গায় খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ করেছি, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছি এবং আমি ঢাকা শহরের দক্ষিণে এক মাসের জন্য একটা ক্রাশ প্রোগ্রাম দিয়েছি, যেটা মশক নিধন এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা। কারণ দুটিই রিলেটেড। এই দুইটা আমরা দিয়েছি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow