কৌশিক আজাদ প্রণয়ের কবিতা
ইতিহাস লুণ্ঠি ত হবে ইতিহাস লুণ্ঠিত হবে- ধর্ষিতের সম্ভ্রমের স্বীকৃতির মত অবমানিত আজ তোমাদের কলুষতায় নিবীর্য মিথ্যারা ডানা মেলবে চারপাশ। রঙ্গালয়ে দোল খাবে বিভ্রান্ত কামনারা - অজস্র হাতবদল। সহসা খাবি খায় নির্বাক অতীত, ভুলে যাও অনায়াস। তাই ইতিহাসের কালিসিটে সারাবার নেই কেউ আজ। উদযাপনের তিতিক্ষায় - তুমিও খুঁজবে অন্য পুরুষ। কামনার শ্লেষে তোমাকে সিক্ত করবে ভিন্ন স্বর, স্পর্শ, রমণ। বিভিষিকার দুঃস্বপ্ন আরতি আঁকে দিন যাপনে। আমার বিনিদ্র রাত্তির অবিরাম কর্ষণে ধেয়ে আসে স্মৃতি। স্বার্থের মোলায়েম বিন্যাসে - তুমি মাছরাঙার ডুবসাঁতার। ইতিহাস লুণ্ঠিত হবে - সোভিয়েতের চূর্ণ আর্তনাদের মত। তুমি প্রতীক্ষায় তবে ভিন্ন সময়ের, ভিন্ন হাতের স্পর্শের। তৃপ্ততার অন্বেষণে সত্য ছাপিয়ে - জীবন্ত হবে মিথ্যার জাল। নির্বিকার কেমন যেন নিরব থাকি আজকাল এই পৃথিবীর কলুষতা, যুদ্ধ দামামা, স্বার্থপরতা আর মানবিক দুর্দশা কিছুই আর ধার ঘেঁষে যায় না আমার। কৌশলী প্রত্যয়গুলো স্বার্থের ফাঁদে আমি বেমানান এক আজগুবি জনৈক! ক্লিষ্ট পৃথিবীর ঘুর্ণিপাকে মুক্ত বিষাদে- ক্রমেই ধেয়ে যাই একাকিত্বের শুন্যতায় অমোঘ এ
ইতিহাস লুণ্ঠি ত হবে
ইতিহাস লুণ্ঠিত হবে-
ধর্ষিতের সম্ভ্রমের স্বীকৃতির মত অবমানিত আজ
তোমাদের কলুষতায় নিবীর্য মিথ্যারা
ডানা মেলবে চারপাশ।
রঙ্গালয়ে দোল খাবে বিভ্রান্ত কামনারা -
অজস্র হাতবদল।
সহসা খাবি খায় নির্বাক অতীত,
ভুলে যাও অনায়াস।
তাই ইতিহাসের কালিসিটে সারাবার নেই কেউ আজ।
উদযাপনের তিতিক্ষায় -
তুমিও খুঁজবে অন্য পুরুষ।
কামনার শ্লেষে তোমাকে সিক্ত করবে
ভিন্ন স্বর, স্পর্শ, রমণ।
বিভিষিকার দুঃস্বপ্ন আরতি আঁকে দিন যাপনে।
আমার বিনিদ্র রাত্তির অবিরাম কর্ষণে
ধেয়ে আসে স্মৃতি।
স্বার্থের মোলায়েম বিন্যাসে -
তুমি মাছরাঙার ডুবসাঁতার।
ইতিহাস লুণ্ঠিত হবে -
সোভিয়েতের চূর্ণ আর্তনাদের মত।
তুমি প্রতীক্ষায় তবে
ভিন্ন সময়ের, ভিন্ন হাতের স্পর্শের।
তৃপ্ততার অন্বেষণে সত্য ছাপিয়ে -
জীবন্ত হবে মিথ্যার জাল।
নির্বিকার
কেমন যেন নিরব থাকি আজকাল
এই পৃথিবীর কলুষতা, যুদ্ধ দামামা,
স্বার্থপরতা আর মানবিক দুর্দশা
কিছুই আর ধার ঘেঁষে যায় না আমার।
কৌশলী প্রত্যয়গুলো স্বার্থের ফাঁদে
আমি বেমানান এক আজগুবি জনৈক!
ক্লিষ্ট পৃথিবীর ঘুর্ণিপাকে মুক্ত বিষাদে-
ক্রমেই ধেয়ে যাই একাকিত্বের শুন্যতায়
অমোঘ এক অসস্তিকর পরিনতির অপেক্ষায়।
মলিন দেয়ালের চুন খসে সময়ের প্রাদুর্ভাবে
কালসিটে বাড়ন্ত হয় অনাকাঙ্ক্ষিত স্বাতন্ত্র্যে!
তবু ক্লান্ত পায়ের অবিরাম প্যাডেল নেই আর
যান্ত্রিক অটো রিকশায় উবে গেছে শহুরে ক্লান্তি।
কিংবা ছুটছে সময় অবিশ্রান্ত-
প্রবল শূন্যতায় তবু বেমানান রই-ব্যস্ততার মঞ্চে।
কথোপকথন
করবী : সকাল টাকে বিরক্তিতে ভিজিয়ে দিল আচমকা বসন্তের বৃষ্টি। ভেজা শাড়ির অস্বস্তি নিয়ে প্রতীক্ষা খুব বিরক্তিকর। ঘড়ীর কাটায় কে যেন ঝুলিয়ে দিয়েছে মন্তরতার শেকল। এতক্ষনে এলে? এদিকে আমি কাক ভেজা! আমাকে তুমি প্রকট প্রেম না দিলেও কোমল যন্ত্রণা সবসময় দাও।
রবি : মাসকাবারি টিউশনের টাকায় কেবল দিনান্তে আয়েশ করে চা আর সিগারেট ফোকার টাকাটাই চায়ের তলানির মত পকেটে থাকে। ভেজা কাক হয়ে বৃষ্টি বিলাসি হলে আবার অতিরিক্ত পথ্যের খরচ! শুশ্রূষা ! কোথায় পাবো? অবশ্য ভেজা শাড়িতে জড়িয়ে থাকা ম্যাজেন্টা বিপ্লব তোমার অঙ্গে অঙ্গে। প্রেমিকের চোখ অনেক বেশি দ্রোহী হয়।
করবী : সব বৃষ্টি রোমান্টিক না হলেও তোমার শব্দের ঝাঁপিতে উপচে পরে সব।মুঠোফোন বা মুখোমুখি সব খানেই তোমার হেয়ালি শব্দে প্রেমের বিস্ফোরণ। জলের ফোঁটা বৃষ্টি মাঝে মাঝে বিরক্তির হলেও তোমার শব্দের বৃষ্টি আমাকে অনুরাগের তৃপ্তিতে ভেজায়। কফির চুমুকে শব্দ বুনি এসো, শুরু হোক এক পূর্বাহ্ণের আবিষ্ট প্রেম।
রবি : কফির চুমুকের চেয়ে ভেজা রাস্তায় ভেজা সিটে পাশ ঘেঁষে বসে প্রেমের বাষ্পায়ন মন্দ নয়। বরষার হিমে ম্লান করে দিক উষ্ণ আকুতির প্রতিটি নিঃশ্বাস। কেমন হতো বলতো? শিল্পীর ক্যানভাসে তুমি আমি রিকশায়, অনিমেষ চুম্বনে ? মাঝে মাঝে প্রবল প্রকট হতে ইচ্ছে করে দ্রোহী প্রেমে। জানোই তো, প্রতিটি রাত্রি কাটে এক একটি ভোরের প্রতীক্ষায়। রাত্রির বিমূর্ত করবী তুমি মূর্ত হও স্নিগ্ধ সুবাসে রবির আবির্ভাবে।
করবী : শহুরে রিকশার চাকায় চাকায় গতি, হুস হুস ছোটা প্রাইভেট কারের ব্যস্ত নগরীতে আভিজাত্যের বুনন , কিংবা পাব্লিক বাসে চেপে স্বপ্ন ফেরি করে ছোটা মানুষের ছাপোষা চলিষ্ণুতা! এই সব চিত্রায়নে প্রকাশ্যে চুমু বেশ বিলাসিতা। তবে দ্রোহের গানে সুর হতে ইচ্ছে জাগে খুব।
রবি : বসন্তে খানিকটা থমকানো হসন্ত এলোই বা! উদাত্ত প্রেমে তুমি আমি সময়কে করি বন্দী। চুমুর স্বাধীনতা শুধু দ্রোহই নয়, বিপ্লব।
প্রদোষ চরিত
একদা প্রদোষে প্রতীক্ষিত তুমি একাকী অন্ধকারের নিবিড় আলিঙ্গনে
গত হয়ে গেছে কতনা সমৃদ্ধির বিকেল আর গোধূলির বালিয়াড়ি সুর।
এরপর আবার অন্ধকার নামে, দিগন্তের গ্রীবা বেয়ে নেমে আসে ধীরে
নগ্ন রমণীয় প্রত্যূষগুলো ঢেকে যায় সান্ধ্য আবেশে নীরবতার পর্দায়,
শ্লেষ মাখা কণ্ঠে তোলা সুর- ভ্রমিত সে, প্রতিধ্বনি জাগায় আর্তির
নিথর বিছানায় শীৎকার তোলো শতাব্দীর জমে থাকা কামোত্তাপে
আমিও যুগপৎ অঙ্গার হই যাতনার অনিমেষ দহনে রাত্রির কোলে।
অরাতি অন্ধকারে মিত্রতা গড়ি আমরা, অবিচ্ছেদ্য সন্ধি হই যাতনার
গলিত শবে ধরা দেই নৈরাশ্যের অন্তরাত্মায়, তুমিও অনন্ত ঘুমে
কামিত উল্লাসের পরে ক্লান্ত কায়ায় কাম জলে কামাত্রান্ত বিছানায়।
আড়ালে কেউ দুঃখ আঁকে, কিংবা রাত্রির স্তব্ধতায় সুর তোলে বিনাশের
রাত্রির শিরদাঁড়ায় অসীম অহম, প্রকট হয় আরো ধ্বংসোৎসবে
ওঁত পেতে দুঃখ ছড়ায় কোন সে ধ্বংসের ঈশ্বর! এসো বিলীন হই
একদা প্রদোষে, অন্ধকারের অতলে নিমজ্জনের প্রতীক্ষায় থাকি বিভোর।
সমাপ্তি
অনির্বচনীয়া আলোকনন্দা ছুঁয়েছিল যেবার শেষবারের মতো
পুরোনো এক তানপুরার বিষাদতান তরঙ্গিত ছিল ইটের স্তূপে।
ভ্যাঁপসা এক মানবীয় ক্লান্তি অনুপ বিকেলের সব রোদ করে ম্লান
নেশায় মত্ত এক আকাশ নীলের ভিড়ে রেকারিং জমে মেঘের প্রলেপ।
এখানে ক্রমাগত রক্তবীজে ছড়িয়ে যায় বিষাক্ত আকাঙ্ক্ষারা।
এখানে কাব্যকৌমুদী গিলে খায় অন্ধকারে ব্যপ্ত নির্লজ্জতা।
শেষ যেবার জোৎস্না জেগেছিল চেনা শব্দরা মেতেছিল বেশ
অবিতথ রাত্রির দীর্ণ মালিন্য ধুয়ে ফেলে চন্দ্রাহত শরতে।
কে জানত কাশবনে ফোটা ফুল শীর্ণ বৃদ্ধার শাদা চুলের গোছা।
ছোঁয়াচে অন্ধত্বে বিভোর হয়ে নাগরিক রাজপথে বিষণ্ণ আঁধার।
ক্লান্ত পথিক পথহারা নির্জনে খুঁজে ফেরে বৃথা আশ্রয়,
বিতোফেনে ঝংকৃত অশরণা ক্রন্দনে বড্ড বিদঘুটে লাগে রাত্রি।
What's Your Reaction?