ক্যানসারের পর সুস্থ জীবনের পথ দেখালেন দীপিকা
স্টেজ-২ লিভার ক্যানসারের সঙ্গে কঠিন লড়াইয়ের পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন জনপ্রিয় টেলিভিশন অভিনেত্রী দীপিকা কাকার। অস্ত্রোপচার ও চলমান ইমিউনোথেরাপির মাঝেও তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত হাঁটা এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে চলার ওপর। সম্প্রতি এক ভ্লগে তিনি নিজের বর্তমান শারীরিক অবস্থা, দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস, সেরে ওঠার রুটিন এবং ফিটনেস নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, তার মা রেনু কাকার সম্প্রতি তীব্র পেটের সংক্রমণ ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেও বর্তমানে বাসায় ফিরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। সুস্থ থাকতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ডায়েট রান্নাঘর থেকে ভিডিও ধারণ করে দীপিকা বলেন, অসুস্থতা থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে সঠিক খাদ্যাভ্যাস। তার ভাষায়, চিকিৎসার পর তিনি নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্যতালিকায় কিছু পরিবর্তন এনেছেন। এমন খাবার খাওয়ার চেষ্টা করেন, যা যেমন সুস্বাদু, তেমনি পুষ্টিকরও। তিনি বলেন, সুস্থ হওয়ার সময় অনেক ধরনের খাবার খেতে ইচ্ছা করে। কিন্তু ইচ্ছা হলেই সবকিছু খাওয়া সম্ভব নয়। তাই পরিচিত খাবারকেই স্বাস্থ্যকর উ
স্টেজ-২ লিভার ক্যানসারের সঙ্গে কঠিন লড়াইয়ের পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন জনপ্রিয় টেলিভিশন অভিনেত্রী দীপিকা কাকার। অস্ত্রোপচার ও চলমান ইমিউনোথেরাপির মাঝেও তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত হাঁটা এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে চলার ওপর।
সম্প্রতি এক ভ্লগে তিনি নিজের বর্তমান শারীরিক অবস্থা, দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস, সেরে ওঠার রুটিন এবং ফিটনেস নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, তার মা রেনু কাকার সম্প্রতি তীব্র পেটের সংক্রমণ ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেও বর্তমানে বাসায় ফিরে সুস্থ হয়ে উঠছেন।
সুস্থ থাকতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ডায়েট
রান্নাঘর থেকে ভিডিও ধারণ করে দীপিকা বলেন, অসুস্থতা থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে সঠিক খাদ্যাভ্যাস।
তার ভাষায়, চিকিৎসার পর তিনি নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্যতালিকায় কিছু পরিবর্তন এনেছেন। এমন খাবার খাওয়ার চেষ্টা করেন, যা যেমন সুস্বাদু, তেমনি পুষ্টিকরও।
তিনি বলেন, সুস্থ হওয়ার সময় অনেক ধরনের খাবার খেতে ইচ্ছা করে। কিন্তু ইচ্ছা হলেই সবকিছু খাওয়া সম্ভব নয়। তাই পরিচিত খাবারকেই স্বাস্থ্যকর উপায়ে রান্না করে খাওয়াই ভালো।
এর উদাহরণ হিসেবে তিনি বাজরার পরোটা তৈরির একটি পদ্ধতি দেখান। সাধারণভাবে তৈরি না করে তিনি ময়দা বা আটার সঙ্গে জিরার গুঁড়া, পেঁয়াজ, ব্লাঞ্চ করা পালং শাক, অল্প ঘি, রসুন এবং আগের দিনের রান্না করা ডাল মিশিয়ে পরোটা তৈরি করেন। এর সঙ্গে খান হালকা মসলার লাউয়ের তরকারি এবং বিট-গাজরের সালাদ।
তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই খাদ্যতালিকা তার নিজের শারীরিক অবস্থা এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তৈরি করা হয়েছে। তাই অন্যদেরও কোনো ডায়েট অনুসরণ করার আগে অবশ্যই চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
প্রতিটি খাবারের পর হাঁটার পরামর্শ
ভিডিওতে পরে দীপিকা তার মায়ের সঙ্গে দেখা করেন। তখন তার মা খাবার খাওয়ার পর হাঁটছিলেন। এ সময় দীপিকা বলেন, শুধু ভালো খাবার খেলেই হবে না, সময়মতো খেতে হবে এবং প্রতিটি প্রধান খাবারের পর অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত।
তার মতে, দ্রুত হাঁটা বাধ্যতামূলক নয়। প্রয়োজনে ঘরের ভেতরেই ধীরে ধীরে হাঁটা যেতে পারে। নিয়মিত এই অভ্যাস হজমে সহায়তা করতে পারে এবং শরীর সচল রাখতে সাহায্য করে।
এখনো বমিভাব ও মুখে ঘায়ের সমস্যা আছে
নিজের বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে দীপিকা জানান, চিকিৎসার পরও তিনি এখনো প্রায়ই বমিভাব অনুভব করেন এবং মুখে ঘা হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের খাবার খেতে ইচ্ছা করলেও তিনি পুষ্টির সঙ্গে কোনো ধরনের আপস করেন না।
চলছে ইমিউনোথেরাপি
আগের কয়েকটি ভ্লগে দীপিকা কাকার ও তার স্বামী অভিনেতা শোয়েব ইব্রাহিম জানিয়েছিলেন, বর্তমানে দীপিকার প্রতি ২০-২১ দিন পরপর ইমিউনোথেরাপি নিতে হাসপাতালে যেতে হয়।
স্টেজ-২ লিভার ক্যানসার ধরা পড়ার পর তার প্রায় ১৪ ঘণ্টাব্যাপী রোবোটিক অস্ত্রোপচার করা হয়, যেন টিউমারটি অপসারণ করা সম্ভব হয়। পরে শোয়েব জানান, অস্ত্রোপচারের পর দীপিকার শরীরে ক্যানসারের কোনো সক্রিয় লক্ষণ পাওয়া যায়নি।
তবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তার লিভারে নতুন একটি সিস্ট ধরা পড়ে। এরপর থেকে সতর্কতার অংশ হিসেবে তিনি নিয়মিত ইমিউনোথেরাপি, বিভিন্ন স্ক্যান এবং রক্ত পরীক্ষা করাচ্ছেন।
ক্যানসারের চিকিৎসার পর খাদ্যাভ্যাস ও ব্যায়াম কেন গুরুত্বপূর্ণ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যানসারের চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে ওঠার সময় সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত প্রোটিন, ফল ও শাকসবজি এবং পর্যাপ্ত পানি গ্রহণ শরীরের পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে চিকিৎসকের অনুমতি সাপেক্ষে নিয়মিত হালকা শারীরিক কার্যক্রম, যেমন-হাঁটা, ক্লান্তি কমাতে, পেশিশক্তি ধরে রাখতে এবং মানসিক সুস্থতা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।
চিকিৎসকরা আরও বলেন, ক্যানসারের চিকিৎসার পর অনেক রোগীর বমিভাব, মুখে ঘা, ক্ষুধামন্দা বা স্বাদের পরিবর্তনের মতো সমস্যা হতে পারে। তাই খাদ্যতালিকা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। কারও ডায়েট বা রুটিন অন্ধভাবে অনুসরণ না করে নিজের শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসক বা নিবন্ধিত পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
তথ্যসূত্র: দীপিকা কাকারে ইনস্টাগ্রাম, এনডিটিভি, ক্যানসার কাউন্সিল
জেএস/
What's Your Reaction?
