ক্রিকেট কি ফুটবল হয়ে যাবে? যা বললেন রাবাদা

1 day ago 6

অর্থের ঝনঝনানি, কাড়ি কাড়ি টকার খেলা- আইপিএল নিয়ে এমনটিই মানুষের ধারণা। সে ধারণা মোটেও অমূলক নয়। কেননা প্রতি মৌসুমেই টুর্নামেন্টের ব্যয় বাড়াচ্ছে আইপিএল। ক্রিকেটার কেনায়ও হচ্ছে টাকা ছাড়ার রেকর্ড। আবার ম্যাচের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে দিনেদিনে।

মাঠের খেলায়ও দিনদিন হারিয়ে যাচ্ছে রহস্যময়তা। ফ্ল্যাট উইকেট বাড়িয়ে করা হচ্ছে রানের পাল উড়ানোর পরিকল্পনা। বল করতে এসে ব্যাটারদের হাতে বেদম মার খেয়ে বুদ হয়ে যান বোলাররা।

আইপিএলকে এখন ক্রিকেট নয়, নিছক বিনোদন মনে করেন কেউ কেউ। প্রতি ম্যাচেই ছক্কা বৃষ্টি ভেসে যায় মাঠ-গ্যালারি। সাময়িক আনন্দ পেলেও দর্শকদের জন্য নতুন কিছু থাকছে না।

আইপিএলের মতো বিভিন্ন দেশে অনেক ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট হচ্ছে। দিনদিন টুর্নামেন্টের পরিমাণও বাড়ছে। এগুলোর কাঠামোতেও রয়েছে অনেক মিল।

কারো কারো মত, দিনেদিনে ক্রিকেট খেলাটা ফুটবলের মতো হয়ে যাবে। যেখানে আন্তর্জাতিক ম্যাচের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমে যাবে। লিগের খেলা বাড়তে থাকবে। ফুটবলের মতো ক্রিকেটকে দেখা হবে অর্থের দৃষ্টিকোণ কিংবা লেন্স দিয়ে।

সম্প্রতি গুজরাট টাইটানসের দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার কাগিসো রাবাদার বিশেষ একটি সাক্ষাৎকার নেয় ভারতীয় গণমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টুডে’।

আইপিএলে ছক্কা-বৃষ্টির বিষয়টি সামনে এনে রাবাদার কাছে জানতে চাওয়া হয়, আসলেই ক্রিকেট কি ফুটবল হয়ে যাবে?

রাবাদার জবাব, ‘আমি আশা করি না, এটি হবে। এটি খেলার অনেক কিছুই নষ্ট করে দেবে। আমি মনে করি না, খুব শিগগিরই এমন কিছু ঘটবে যাতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পরিমাণ নাটকীয়ভাবে কমে যাবে। তবে এটি অবশ্যই সে দিকেই এগোচ্ছে, এটা নিশ্চিত। আমি আশা করবো, এটি সম্পূর্ণভাবে সেই পথে না যায়।

‘আমি মনে করি, বর্তমানে যা ঘটছে, সেটি বেশ ভালোই চলছে। তবে স্পষ্টতই, ব্যবসায়ীদের জন্য এখানে অর্থ উপার্জনের সুযোগ রয়েছে। আর সেটাই ঠিক করে দেবে ক্রিকেট কোন পথে যাবে। তবে আমি আশা করি, এটি কেবল সাধারণ বা একঘেয়ে কিছুতে পরিণত না হয়।

গত মৌসুমে আইপিএলে ব্যাটসম্যানরা রেকর্ড ১২৬০টি ছক্কা (ম্যাচ প্রতি ১৭.০২) মেরেছিল। এবার প্রথম ১৩ ম্যাচে হয়েছে ২৫৫টি ছক্কা (গড় ১৯.৬১)। দলগুলো যখন নিয়মিতভাবে ২৫০+ রান করছে, তখন আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

উত্তরে রাবাদা বলেন, ‘যদি উইকেটগুলো খুব বেশি ফ্ল্যাট হয়ে যায়, তাহলে এটাকে ক্রিকেট বলারই দরকার নেই। একে শুধু ব্যাটিং বলা যেতে পারে। ‘চলো ব্যাটিংয়ের একটা ম্যাচ খেলি, বন্ধুরা!’

‘এটা অতিরিক্ত ফ্ল্যাট হতে পারে না। তাহলে এর মানে কী? খেলা খুব বেশি একঘেয়ে হয়ে যায়। আমি বেশি রান হওয়া ম্যাচে আপত্তি করি না, কারণ ক্রিকেটে এমন ম্যাচ দরকার। তবে যদি পিচ সবসময়ই ব্যাটসম্যানদের জন্য এত অনুকূল হয়, তাহলে এতে মজার কিছু থাকে না। এর কোনো মানেই নেই।

‘ইমপ্যাক্ট সাব’ নিয়ম নিয়ে আপনার মতামত কী?

রাবাদা বলেন, ‘আমি মনে করি, ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার নিয়মটা দলগুলোর জন্য এক ধরনের জীবনরেখার মতো কাজ করছে। যখন ভারসাম্যপূর্ণ দল নির্বাচন করার কথা আসে, তখন এটি সেই চ্যালেঞ্জটাই দূর করে দেয়। এটা যেন একটা সহজ সমাধান। হ্যাঁ, এটা খেলা কিছুটা আকর্ষণীয় করে তোলে। কিন্তু একইসঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ দল বাছাই করার কৌশলগত দিকটাও নষ্ট করে দেয়।’

বোলাররা এখন কেন বেশি ইয়র্কার দেন না? এটা কি বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে?

২৯ বছর বয়সী প্রোটিয়া পেসার বলেন, ‘১০০%। এটা এখন অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু একইসঙ্গে বেশি পুরস্কার পাওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। এটাকে এভাবেই মাপতে হবে। তবে এটা করার জন্য সাহস দরকার।’

‘যদি খেলার সমতা নিয়ে কথা বলি, তাহলে এখন যে কেউ ছক্কা মারতে পারে। এমনকি ৯ বা ১০ নম্বরে নামা ব্যাটসম্যানও ছক্কা মারতে পারে। ১৬তম বা ১৭তম ওভারে ব্যাট করতে নামা ৬ নম্বর ব্যাটার তো আরও সহজেই ছক্কা মারতে পারে।’

‘এখন অনেক পরিসংখ্যান পাওয়া যায়—এই খেলোয়াড় এটা পারে, ওই খেলোয়াড় ওটা পারে। ফলে খেলার মধ্যে আসল রহস্য বা অজানা ব্যাপারগুলো আর থাকছে না। আমি মনে করি, সেটাই এমন কিছু যা আপনি খুব বেশি চাইবেন না।’

ডানহাতি পেসার আরও বলেন, ‘এটা (ইয়র্কার) কঠিন। কিন্তু যদি কঠিন না হতো, তাহলে খেলাটাও বিরক্তিকর হয়ে যেত। তাই কঠিন হওয়াটাই ভালো।’

এমএইচ/এমএস

Read Entire Article