খাগড়াছড়িতে লিচুর সমারোহ, কম দামে মিলছে রসালো ফল

পাহাড়জুড়ে এখন রসালো ফল লিচুর সমারোহ। খাগড়াছড়ির বিভিন্ন বাগানে এ বছর রেকর্ড পরিমাণ লিচুর ফলন হওয়ায় বাজারজুড়ে দেখা গেছে লাল টসটসে লিচুর সমারোহ। দেশীয় জাতের পাশাপাশি জনপ্রিয় ‘চায়না-২’ ও ‘চায়না-৩’ জাতের লিচুতে ভরে উঠেছে জেলার হাট-বাজার। ফলন বেশি হওয়ায় তুলনামূলক কম দামে সুস্বাদু লিচু কিনতে পারছেন ক্রেতারা। তবে উৎপাদন বেশি হওয়ায় ন্যায্যমূল্য না পেয়ে হতাশ বাগান মালিক ও চাষিরা। জেলার দীঘিনালা, মাটিরাঙা ও বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা বাজারে ভালো মানের ‘চায়না-২’ জাতের লিচু প্রতি পিস মাত্র ৫০ পয়সা থেকে ১ টাকা এবং ‘চায়না-৩’ জাতের লিচু ১ থেকে ২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশি ও ছোট আকারের লিচুর দাম প্রতি শতে ১০-২০ টাকা। পাইকারি বাজারে এসব লিচুর দাম প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। লিচু চাষি মো. আওলাদ হোসেন জানান, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাগানে প্রচুর লিচু ধরেছে। তবে লিচু পাকার পর বেশিদিন গাছে রাখা যায় না। ফলে স্বল্প সময়ের মধ্যে বিপুল পরিমাণ লিচু বাজারে চলে আসায় দাম কমে গেছে। জেলা সদরের সাতমাইল এলাকা থেকে লিচু নিয়ে আসা বিশাখা ত্রিপুরা বলেন, ‘আমাদের বাগানের সব গাছেই লিচু ধরেছে। চায়না-২ জাতের দুই হাজ

খাগড়াছড়িতে লিচুর সমারোহ, কম দামে মিলছে রসালো ফল

পাহাড়জুড়ে এখন রসালো ফল লিচুর সমারোহ। খাগড়াছড়ির বিভিন্ন বাগানে এ বছর রেকর্ড পরিমাণ লিচুর ফলন হওয়ায় বাজারজুড়ে দেখা গেছে লাল টসটসে লিচুর সমারোহ। দেশীয় জাতের পাশাপাশি জনপ্রিয় ‘চায়না-২’ ও ‘চায়না-৩’ জাতের লিচুতে ভরে উঠেছে জেলার হাট-বাজার। ফলন বেশি হওয়ায় তুলনামূলক কম দামে সুস্বাদু লিচু কিনতে পারছেন ক্রেতারা। তবে উৎপাদন বেশি হওয়ায় ন্যায্যমূল্য না পেয়ে হতাশ বাগান মালিক ও চাষিরা।

jagonewsজেলার দীঘিনালা, মাটিরাঙা ও বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা বাজারে ভালো মানের ‘চায়না-২’ জাতের লিচু প্রতি পিস মাত্র ৫০ পয়সা থেকে ১ টাকা এবং ‘চায়না-৩’ জাতের লিচু ১ থেকে ২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশি ও ছোট আকারের লিচুর দাম প্রতি শতে ১০-২০ টাকা। পাইকারি বাজারে এসব লিচুর দাম প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।

লিচু চাষি মো. আওলাদ হোসেন জানান, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাগানে প্রচুর লিচু ধরেছে। তবে লিচু পাকার পর বেশিদিন গাছে রাখা যায় না। ফলে স্বল্প সময়ের মধ্যে বিপুল পরিমাণ লিচু বাজারে চলে আসায় দাম কমে গেছে।

জেলা সদরের সাতমাইল এলাকা থেকে লিচু নিয়ে আসা বিশাখা ত্রিপুরা বলেন, ‘আমাদের বাগানের সব গাছেই লিচু ধরেছে। চায়না-২ জাতের দুই হাজার লিচু এনে পাইকারিতে বিক্রি করেছি মাত্র দেড় হাজার টাকায়।’

jagonewsদীঘিনালার ভৈরফা এলাকার চাষি সন্তোষ চাকমা বলেন, ‘আমার ৮৫টি লিচু গাছ রয়েছে। চায়না-৩ জাতের এক হাজার লিচু বাজারে এনে মাত্র ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করেছি। দাম কম হওয়ায় খরচ তুলতেই কষ্ট হচ্ছে।’

তবে কম দামে ভালো মানের লিচু পেয়ে খুশি সাধারণ ক্রেতারা। খাগড়াছড়ি বাজারে লিচু কিনতে আসা মো. আব্দুর রশিদ খান বলেন, ‘গত দুই বছর পাহাড়ে ভালো লিচু পাওয়া যায়নি। এবার ফলন ভালো হয়েছে, দামও অনেক সাশ্রয়ী।’

jagonewsআরেক ক্রেতা শিপন দাশ বলেন, ‘বাজারে প্রচুর লিচু পাওয়া যাচ্ছে। তবে আগাম বৃষ্টির কারণে কিছু লিচু নষ্ট হচ্ছে এবং পোকার আক্রমণও দেখা দিচ্ছে।’

স্থানীয় পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, খাগড়াছড়িতে লিচুর উৎপাদন বাড়লেও দেশের অন্যান্য জেলায় পাঠাতে অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয় ও এলাকাভিত্তিক নানান খরচ বহন করতে হচ্ছে। এতে বাইরের জেলার বড় ব্যবসায়ীরা আগের তুলনায় কম আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

jagonewsখাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক ঔঁঙ্কার বিশ্বাস বলেন, ‘চলতি বছরে জেলায় প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমিতে লিচু চাষ হয়েছে। দেশি জাতের পাশাপাশি চায়না-২ ও চায়না-৩ জাতের লিচুরও ভালো ফলন হয়েছে। তবে জেলায় সবচেয়ে বেশি লিচু চাষ হয় সদর, দীঘিনালা ও মাটিরাঙা উপজেলাতে গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার রেকর্ড পরিমাণ লিচু উৎপাদন হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সঠিক পরিচর্যা ও বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে খাগড়াছড়ির লিচু দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।’

প্রবীর সুমন/কেএসকে

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow