খামেনির মরদেহে শেষ শ্রদ্ধা, সপ্তাহব্যাপী জানাজা ও শোকানুষ্ঠান চলছে

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহ শুক্রবার তেহরানের একটি বিশাল প্রার্থনাকক্ষে শায়িত রাখা হয়েছে। সেখানে ধর্মীয় নেতা, সরকারি কর্মকর্তা, বিদেশি অতিথি এবং হাজারো শোকাহত মানুষ তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় নিহত খামেনির মৃত্যু ঘিরে ইরান সপ্তাহব্যাপী শোকানুষ্ঠান ও গণশবযাত্রার আয়োজন করেছে। প্রায় ৩৭ বছর দেশ শাসনের পর তার মৃত্যু ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অধ্যায়ের সমাপ্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খামেনির মরদেহ বৃহস্পতিবার খোরাসান প্রদেশের পবিত্র শহর মাশহাদে ইমাম রেজার মাজারের পাশে দাফন করা হবে। এর আগে তার মরদেহ ইরানের ধর্মীয় কেন্দ্র কুম এবং ইরাকের নাজাফ ও কারবালায় নেওয়া হবে, যেখানে পৃথক শোকানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে খামেনির কফিন প্রথমবারের মতো জনসাধারণের সামনে আনা হলে হাজারো সমর্থক কান্নায় ভেঙে পড়েন। অনেকে বুক চাপড়ে শোক প্রকাশ করেন এবং কফিনের ওপর ফুল ছুড়ে দেন। শুক্রবার তার কফিনসহ হামলায় নিহত পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মরদেহ তেহরানের ইমাম খোমেনিকে স্মরণে নির্মিত বিশা

খামেনির মরদেহে শেষ শ্রদ্ধা, সপ্তাহব্যাপী জানাজা ও শোকানুষ্ঠান চলছে

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহ শুক্রবার তেহরানের একটি বিশাল প্রার্থনাকক্ষে শায়িত রাখা হয়েছে। সেখানে ধর্মীয় নেতা, সরকারি কর্মকর্তা, বিদেশি অতিথি এবং হাজারো শোকাহত মানুষ তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় নিহত খামেনির মৃত্যু ঘিরে ইরান সপ্তাহব্যাপী শোকানুষ্ঠান ও গণশবযাত্রার আয়োজন করেছে। প্রায় ৩৭ বছর দেশ শাসনের পর তার মৃত্যু ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অধ্যায়ের সমাপ্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খামেনির মরদেহ বৃহস্পতিবার খোরাসান প্রদেশের পবিত্র শহর মাশহাদে ইমাম রেজার মাজারের পাশে দাফন করা হবে। এর আগে তার মরদেহ ইরানের ধর্মীয় কেন্দ্র কুম এবং ইরাকের নাজাফ ও কারবালায় নেওয়া হবে, যেখানে পৃথক শোকানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে খামেনির কফিন প্রথমবারের মতো জনসাধারণের সামনে আনা হলে হাজারো সমর্থক কান্নায় ভেঙে পড়েন। অনেকে বুক চাপড়ে শোক প্রকাশ করেন এবং কফিনের ওপর ফুল ছুড়ে দেন। শুক্রবার তার কফিনসহ হামলায় নিহত পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মরদেহ তেহরানের ইমাম খোমেনিকে স্মরণে নির্মিত বিশাল প্রার্থনাকক্ষে রাখা হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির জানাজা এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন ইরান সাম্প্রতিক যুদ্ধের ধাক্কা সামলে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি। সরকার এই শোকানুষ্ঠানে লাখো মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পরিবহন, খাবার ও আবাসনের বিশেষ ব্যবস্থা করেছে।

তবে একই সঙ্গে দেশটির অর্থনৈতিক সংকট, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতার বিষয়গুলোও আলোচনায় রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের ঐক্যের বার্তার আড়ালে ইরানের অভ্যন্তরীণ বিভাজন এখনও গভীর।

শুক্রবারের অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী, ইরাকের প্রেসিডেন্ট, চীনের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি এবং রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভসহ বিভিন্ন দেশের নেতারা অংশ নেন। এছাড়া লেবাননের হিজবুল্লাহর সাবেক নেতা হাসান নাসরুল্লাহ ও শীর্ষ কমান্ডার ইমাদ মুগনিয়াহর পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

ইরানের প্রেসিডেন্ট, পার্লামেন্ট স্পিকার, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারাও কফিনের সামনে শ্রদ্ধা জানান। অনুষ্ঠানে বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নতুন প্রধান আহমদ বাহিদিকেও দেখা যায়।

শোকানুষ্ঠান উপলক্ষে তেহরানের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। শহরের প্রধান সড়কগুলোতে সেনা ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং মোটরসাইকেলে টহল দিচ্ছে বেসিজ বাহিনীর সদস্যরা। ইরান এ সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে কোনো ধরনের হামলা থেকে বিরত থাকার সতর্কবার্তাও দিয়েছে।

সোমবার তেহরানে বৃহৎ শবযাত্রার পর মরদেহ কুমে নেওয়া হবে। মঙ্গলবার সেখানে শোকানুষ্ঠান শেষে বুধবার ইরাকের নাজাফ ও কারবালায় ধর্মীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। সবশেষে বৃহস্পতিবার মাশহাদে ইমাম রেজার মাজারের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে দাফন করা হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow