গণপরিবহনে সুশৃঙ্খলতা আনতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যেসব পরিকল্পনা

রাজধানী ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থাকে জনবান্ধব করতে ও এতে সুশৃঙ্খলতা আনতে একগুচ্ছ সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।   সোমবার (২ মার্চ) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের নিরাপদ ও সমন্বিত পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপের কথা জানান তিনি। বৈঠক শেষে বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শামসুল হক সাংবাদিকদের জানান, রাজধানীর বিশৃঙ্খল বাসব্যবস্থা, নারীদের নিরাপত্তাহীনতা এবং গণপরিবহনে সীমিত প্রবেশাধিকার—এসব সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে চান প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর পদক্ষেপে যে পরিকল্পনাগুলো সামনে এসেছে- ১. সমন্বিত রেলভিত্তিক পরিবহনব্যবস্থা শুধু ভারী মেট্রোরেল নয়, এর পাশাপাশি লাইট রেল, মনোরেলসহ বিভিন্ন সংস্করণের রেলভিত্তিক পরিবহন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রধান সড়কের বাইরে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলার চিন্তা করা হচ্ছে। ২. বৈদ্যুতিক বাস চালু ১৮০ দিনের মধ্যে ইলেকট্রিক বাসভিত্তিক গণপরিবহন চালুর প্রাথমিক উদ্যোগ নেওয়ার আগ্রহ রয়েছে। এতে পরিবেশ দূষণ কমবে এবং আধুনিক সেবা নিশ্চিত হবে। ৩. নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবহন নারীদের জন্য বিশে

গণপরিবহনে সুশৃঙ্খলতা আনতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যেসব পরিকল্পনা
রাজধানী ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থাকে জনবান্ধব করতে ও এতে সুশৃঙ্খলতা আনতে একগুচ্ছ সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।   সোমবার (২ মার্চ) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের নিরাপদ ও সমন্বিত পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপের কথা জানান তিনি। বৈঠক শেষে বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শামসুল হক সাংবাদিকদের জানান, রাজধানীর বিশৃঙ্খল বাসব্যবস্থা, নারীদের নিরাপত্তাহীনতা এবং গণপরিবহনে সীমিত প্রবেশাধিকার—এসব সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে চান প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর পদক্ষেপে যে পরিকল্পনাগুলো সামনে এসেছে- ১. সমন্বিত রেলভিত্তিক পরিবহনব্যবস্থা শুধু ভারী মেট্রোরেল নয়, এর পাশাপাশি লাইট রেল, মনোরেলসহ বিভিন্ন সংস্করণের রেলভিত্তিক পরিবহন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রধান সড়কের বাইরে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলার চিন্তা করা হচ্ছে। ২. বৈদ্যুতিক বাস চালু ১৮০ দিনের মধ্যে ইলেকট্রিক বাসভিত্তিক গণপরিবহন চালুর প্রাথমিক উদ্যোগ নেওয়ার আগ্রহ রয়েছে। এতে পরিবেশ দূষণ কমবে এবং আধুনিক সেবা নিশ্চিত হবে। ৩. নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবহন নারীদের জন্য বিশেষায়িত, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ বাসসেবা চালুর ভাবনা রয়েছে। নারীচালিত বাস চালুর বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। ৪. জোনভিত্তিক পাইলট প্রকল্প পুরো শহরে একযোগে পরিবর্তনের বদলে নির্দিষ্ট এলাকায় (জোনভিত্তিক) পাইলটিং শুরু করে ধাপে ধাপে শৃঙ্খলা আনার পরিকল্পনা রয়েছে। ৫. বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজি ও বিআরটি সম্প্রসারণ বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজি পদ্ধতি চালু এবং বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে সড়কপথের গণপরিবহনকে নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোয় আনার চিন্তা রয়েছে। ৬. ঢাকার বিকেন্দ্রীকরণ ও দ্রুতগতির ট্রেন রাজধানীর ওপর চাপ কমাতে আন্তঃনগর দ্রুতগতির ট্রেন চালুর ধারণা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এতে অন্যান্য শহর থেকে ঢাকায় যাতায়াত সহজ হবে এবং নগরীর চাপ কমবে।  ড. মো. শামসুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ঢাকার পূর্বাঞ্চল—বাসাবো, গোরান, মাদারটেক ও পুরান ঢাকার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অনেক মানুষ বাস করেন, যেখানে পর্যাপ্ত বাসসেবা নেই। প্রধান সড়ককেন্দ্রিক মেট্রোরেলের বাইরে এসব এলাকায় বিকল্প রেলভিত্তিক বা স্বল্প ব্যয়ে বাস্তবায়নযোগ্য ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে একটি সমীক্ষা করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব দেওয়া হবে, যাতে চলতি বছরই কাজ শুরু করা যায়। নারীদের জন্য বিশেষায়িত ও নিরাপদ বাসসেবা চালুর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। প্রাথমিক পর্যায়ে নারীচালিত বাস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ১৮০ দিনের মধ্যে বৈদ্যুতিক বাসভিত্তিক গণপরিবহন চালু করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। শামসুল হক আরও বলেন, উচ্ছৃঙ্খল ও বিশৃঙ্খল বাসব্যবস্থাকে শৃঙ্খলায় আনতে জোনভিত্তিক পাইলট প্রকল্প শুরু করা যেতে পারে। কম বিনিয়োগে বেশি মানুষের আওতায় সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং প্রিফ্যাব্রিকেটেড অবকাঠামো ব্যবহার করে উন্নয়নকাজের ভোগান্তি কমানোর বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহ রয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow