গৃহকর্মী থেকে মন্ত্রী : কলিতা মাঝির উত্থানের গল্প

গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করে মাসে মাত্র ২৫০০ রুপি আয় করা কলিতা মাঝি এখন পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী। সম্প্রতি আউশগ্রাম বিধানসভা আসন থেকে নির্বাচিত হওয়া বিজেপি বিধায়ক কলিতা মাঝি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। শপথ গ্রহণের পর প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, তিনি কখনো কল্পনাও করেননি যে একদিন তিনি বিধায়ক, এমনকি মন্ত্রী হবেন। এখন তার কাঁধে পুরো পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্ব এসেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। খবর এনডিটিভির।  পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ৩৫ জন নতুন মন্ত্রীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর ফলে রাজ্যের মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যা বেড়ে ৪১ জনে দাঁড়িয়েছে। নতুন মন্ত্রীদের শপথবাক্য পাঠ করান রাজ্যপাল আর এন রবি। শপথের পর কলিতা মাঝি বলেন, ‘মোদিজি আমাকে এই অবস্থানে নিয়ে এসেছেন। আমি কখনো ভাবিনি যে বিধায়ক হতে পারব, মন্ত্রী হওয়া তো আরও দূরের কথা। ২০১৪ সাল থেকে ভারতীয় জনতা পার্টির হয়ে কাজ করছি। প্রথমবার বিধায়ক নির্বাচিত হওয়ার পর আমার চিন্তা ছিল শুধু নিজের এলাকার উন্নয়ন নিয়ে। কিন্তু এখন পুরো পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্ব আমার কাঁধে এসেছে।’ অর্থনৈতিক সংকটের কারণে ছোটবেলাতে

গৃহকর্মী থেকে মন্ত্রী : কলিতা মাঝির উত্থানের গল্প
গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করে মাসে মাত্র ২৫০০ রুপি আয় করা কলিতা মাঝি এখন পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী। সম্প্রতি আউশগ্রাম বিধানসভা আসন থেকে নির্বাচিত হওয়া বিজেপি বিধায়ক কলিতা মাঝি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। শপথ গ্রহণের পর প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, তিনি কখনো কল্পনাও করেননি যে একদিন তিনি বিধায়ক, এমনকি মন্ত্রী হবেন। এখন তার কাঁধে পুরো পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্ব এসেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। খবর এনডিটিভির।  পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ৩৫ জন নতুন মন্ত্রীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর ফলে রাজ্যের মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যা বেড়ে ৪১ জনে দাঁড়িয়েছে। নতুন মন্ত্রীদের শপথবাক্য পাঠ করান রাজ্যপাল আর এন রবি। শপথের পর কলিতা মাঝি বলেন, ‘মোদিজি আমাকে এই অবস্থানে নিয়ে এসেছেন। আমি কখনো ভাবিনি যে বিধায়ক হতে পারব, মন্ত্রী হওয়া তো আরও দূরের কথা। ২০১৪ সাল থেকে ভারতীয় জনতা পার্টির হয়ে কাজ করছি। প্রথমবার বিধায়ক নির্বাচিত হওয়ার পর আমার চিন্তা ছিল শুধু নিজের এলাকার উন্নয়ন নিয়ে। কিন্তু এখন পুরো পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্ব আমার কাঁধে এসেছে।’ অর্থনৈতিক সংকটের কারণে ছোটবেলাতেই পড়াশোনা ছেড়ে দিতে বাধ্য হন কলিতা মাঝি। পরিবারের ভরণপোষণের জন্য তিনি বিভিন্ন বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করেছেন। তার স্বামী পেশায় একজন প্লাম্বার এবং তাদের ছেলে পার্থ বর্তমানে স্কুলে পড়াশোনা করছে। রাজনীতিতে তার যাত্রা শুরু হয়েছিল দলের বুথ-স্তরের কর্মী হিসেবে। দীর্ঘদিন মাঠপর্যায়ে কাজ করার পর ২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তাকে প্রার্থী করে বিজেপি। তবে সে নির্বাচনে তিনি জয়ী হতে পারেননি। পরে ২০২৬ সালের নির্বাচনে দল আবারও তার ওপর আস্থা রাখে। দ্বিতীয়বার সুযোগ পেয়ে তিনি আউশগ্রাম আসনে জয়লাভ করেন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই মন্ত্রিসভায় স্থান পান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কলিতা মাঝির উত্থান ভারতের রাজনীতিতে তৃণমূল পর্যায় থেকে উঠে আসা কর্মীদের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। বুথকর্মী থেকে বিধায়ক এবং সেখান থেকে মন্ত্রী হওয়ার এই যাত্রা সাধারণ মানুষের মধ্যেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow