গোপালপুরে সেচ মিটার চুরি সদস্য আটক করেছে জনতা

টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক হারে বৈদ্যুতিক সেচ মিটার ও সেচ পাম্প চুরি যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষক ও সেচ মালিকরা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বহু সেচ স্কিম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বোরো চাষ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে কৃষকরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন এবং আগাম মৌসুম নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, চোর চক্র রাতের অন্ধকারে সেচ মিটার খুলে নিয়ে যায় এবং মাটিতে একটি চিরকুট ফেলে রেখে যায়। সেই চিরকুটে বিকাশ নম্বর লেখা থাকে। ওই নম্বরে ফোন করলে চক্রের সদস্যরা ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করে মিটার ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলে। অনেকে টাকা পাঠালেও মিটার ফেরত পাননি। উত্তর গোপালপুর এর কৃষক শেখ ফরি বলেন, আমার মিটার চুরি হওয়ার পর একটি নম্বর রেখে যায়। ফোন করলে প্রথমে ১০ হাজার টাকা চায়। পরে অনুরোধ করলে ৫ হাজারে রাজি হয়। কিন্তু টাকা পাঠানোর পরও মিটার হাতে পাইনি। পৌর এলাকার বসু বাড়ি গ্রামের বাসিন্দা খন্দকার মোজাম্মেল হোসেন জানান, “৭-৮ দিন আগে আমার মিটার চুরি হয়ে যায়। চোর চক্র একটি নম্বর ঝুলিয়ে রেখে যায়, যার শেষে ৩৯। ফোন করলে তারা ১০ হাজার টাকা দাবি করে। আমি গরিব মানুষ, অনুরোধ করে ৫ হাজার টাকা

গোপালপুরে সেচ মিটার চুরি সদস্য আটক করেছে জনতা

টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক হারে বৈদ্যুতিক সেচ মিটার ও সেচ পাম্প চুরি যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষক ও সেচ মালিকরা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বহু সেচ স্কিম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বোরো চাষ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে কৃষকরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন এবং আগাম মৌসুম নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, চোর চক্র রাতের অন্ধকারে সেচ মিটার খুলে নিয়ে যায় এবং মাটিতে একটি চিরকুট ফেলে রেখে যায়। সেই চিরকুটে বিকাশ নম্বর লেখা থাকে। ওই নম্বরে ফোন করলে চক্রের সদস্যরা ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করে মিটার ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলে। অনেকে টাকা পাঠালেও মিটার ফেরত পাননি।

উত্তর গোপালপুর এর কৃষক শেখ ফরি বলেন, আমার মিটার চুরি হওয়ার পর একটি নম্বর রেখে যায়। ফোন করলে প্রথমে ১০ হাজার টাকা চায়। পরে অনুরোধ করলে ৫ হাজারে রাজি হয়। কিন্তু টাকা পাঠানোর পরও মিটার হাতে পাইনি।

পৌর এলাকার বসু বাড়ি গ্রামের বাসিন্দা খন্দকার মোজাম্মেল হোসেন জানান, “৭-৮ দিন আগে আমার মিটার চুরি হয়ে যায়। চোর চক্র একটি নম্বর ঝুলিয়ে রেখে যায়, যার শেষে ৩৯। ফোন করলে তারা ১০ হাজার টাকা দাবি করে। আমি গরিব মানুষ, অনুরোধ করে ৫ হাজার টাকা দেব বলেছি। তবুও মিটার পাইনি, তাই থানায় আসতে বাধ্য হয়েছি।

এদিকে গোপালপুরের বিভিন্ন স্থানে কয়েকদিন ধরে এমন ঘটনা চলতে থাকায় সেচ মালিকরা রাত জেগে পাহারা দিতে শুরু করেছেন। সম্প্রতি এক মিটার মালিক কৌশলে চোর চক্রের একজন সদস্যকে ধরতে সক্ষম হন। তাকে আটকের পর আশপাশের কৃষকরা জড়ো হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে পুলিশ এসে ওই ব্যক্তিকে থানায় নিয়ে যায়।

স্থানীয় কৃষক সমাজ বলছে, এই চক্রের কারণে সেচ স্কিম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বোরো মৌসুমে পানি না পেলে জমি চাষ করা যাবে না। এতে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

গোপালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন বলেন, মিটার চুরি চক্রকে ধরতে পুলিশ বিশেষ নজরদারি বাড়িয়েছে। আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। আরও কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

কৃষকরা দ্রুত এই চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা ও সেচ স্কিমগুলো নিরাপদ রাখার জন্য প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা কামনা করছেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow