গ্যাস সংকটে রড উৎপাদন ব্যাহত, দাম বাড়ার আশঙ্কা

দেশের ইস্পাত শিল্প একের পর এক সংকটের চাপে কঠিন সময় পার করছে। নির্মাণখাতে চলমান স্থবিরতা, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদ, টাকার অবমূল্যায়ন ও কাঁচামাল আমদানির ব্যয় বৃদ্ধির মধ্যে নতুন করে গ্যাস সংকট শিল্পটিকে আরও বিপাকে ফেলেছে। এতে বাড়ছে উৎপাদন ব্যয়। যার প্রভাবে অচিরেই বাজারে প্রতি টন রডের দাম গড়ে বাড়তে পারে এক হাজার ৭৮৫ টাকা। এমনটি জানিয়েছেন এ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। উদ্যোক্তারা বলছেন, বর্তমানে সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে গ্যাস সরবরাহ। গত দু-তিন সপ্তাহ ধরে অনেক শিল্প এলাকায় গ্যাসের চাপ এতটাই কম যে, গ্যাসনির্ভর রি-রোলিং মিলগুলো স্বাভাবিক উৎপাদন চালাতে পারছে না। অনেক কারখানায় কার্যক্রম ঘণ্টার পর ঘণ্টা বন্ধ রাখতে হচ্ছে, আবার কোথাও সীমিত পরিসরে উৎপাদন চলছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে প্রায় ৪০টি আধুনিক স্টিল মিল এবং দেড় শতাধিক রি-রোলিং মিল রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় এক কোটি ২২ লাখ টন। অথচ দেশের মোট চাহিদা বছরে প্রায় ৫০ লাখ টনের মধ্যে সীমাবদ্ধ। ফলে কারখানাগুলো তাদের সক্ষমতার অর্ধেকেরও কম উৎপাদন করছে। বাজারে চাহিদা কম থাকায় অনেক প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে উৎ

গ্যাস সংকটে রড উৎপাদন ব্যাহত, দাম বাড়ার আশঙ্কা

দেশের ইস্পাত শিল্প একের পর এক সংকটের চাপে কঠিন সময় পার করছে। নির্মাণখাতে চলমান স্থবিরতা, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদ, টাকার অবমূল্যায়ন ও কাঁচামাল আমদানির ব্যয় বৃদ্ধির মধ্যে নতুন করে গ্যাস সংকট শিল্পটিকে আরও বিপাকে ফেলেছে। এতে বাড়ছে উৎপাদন ব্যয়। যার প্রভাবে অচিরেই বাজারে প্রতি টন রডের দাম গড়ে বাড়তে পারে এক হাজার ৭৮৫ টাকা।

এমনটি জানিয়েছেন এ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। উদ্যোক্তারা বলছেন, বর্তমানে সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে গ্যাস সরবরাহ। গত দু-তিন সপ্তাহ ধরে অনেক শিল্প এলাকায় গ্যাসের চাপ এতটাই কম যে, গ্যাসনির্ভর রি-রোলিং মিলগুলো স্বাভাবিক উৎপাদন চালাতে পারছে না। অনেক কারখানায় কার্যক্রম ঘণ্টার পর ঘণ্টা বন্ধ রাখতে হচ্ছে, আবার কোথাও সীমিত পরিসরে উৎপাদন চলছে।

তাদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে প্রায় ৪০টি আধুনিক স্টিল মিল এবং দেড় শতাধিক রি-রোলিং মিল রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় এক কোটি ২২ লাখ টন। অথচ দেশের মোট চাহিদা বছরে প্রায় ৫০ লাখ টনের মধ্যে সীমাবদ্ধ। ফলে কারখানাগুলো তাদের সক্ষমতার অর্ধেকেরও কম উৎপাদন করছে। বাজারে চাহিদা কম থাকায় অনেক প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে উৎপাদন কমিয়েছে, আবার কিছু ছোট ও মাঝারি কারখানা কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে।

বাজারে প্রতি টন রডের দাম অচিরেই গড়ে এক হাজার ৭৮৫ টাকা বৃদ্ধি পেতে পারে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন/ফাইল ছবি

গ্যাসের অভাবে ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে ফার্নেস

রহিম স্টিল মিলসের উপদেষ্টা হুমায়ন কবির বলেন, গ্যাস সংকট এখন ইস্পাত শিল্পের সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। উৎপাদনের মাঝপথে গ্যাসের চাপ কমে গেলে বা সরবরাহ বন্ধ হলে ফার্নেস ঠান্ডা হয়ে যায়। এরপর সেটি আবার উৎপাদনের উপযোগী করতে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় লাগে। এই পুরো সময় শ্রমিকদের বসে থাকতে হয়। আবার ফার্নেস চালু করতে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খরচ হয়। ফলে একটি উৎপাদন চক্রেই উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতি হয়। এভাবে বারবার উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার কারণে প্রতি টন রড উৎপাদনের খরচ অনেক বেড়ে যাচ্ছে। এই বাড়তি ব্যয় বহন করে আগের দামে রড বিক্রি করা সম্ভব নয়। শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব বাজারে পড়ে এবং ভোক্তাদেরই বেশি দামে পণ্য কিনতে হয়।

একই তথ্য জানান শাহরিয়ার স্টিল মিলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাসুদুল আলম মাসুদ। তিনি বলেন, গত ১৫ থেকে ২০ দিন ধরে তীব্র গ্যাস সংকট চলছে। অনেক গ্যাসনির্ভর রি-রোলিং মিল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। কিছু কারখানা বিকল্প হিসেবে কয়লা ব্যবহার করে উৎপাদন চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে, কিন্তু এতে উৎপাদন ব্যয় আরও বেড়ে যাচ্ছে।

গ্যাস সংকট এখন ইস্পাত শিল্পের সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। উৎপাদনের মাঝপথে গ্যাসের চাপ কমে গেলে বা সরবরাহ বন্ধ হলে ফার্নেস ঠান্ডা হয়ে যায়। এরপর সেটি আবার উৎপাদনের উপযোগী করতে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় লাগে। এই পুরো সময় শ্রমিকদের বসে থাকতে হয়। আবার ফার্নেস চালু করতে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খরচ হয়।- রহিম স্টিল মিলসের উপদেষ্টা হুমায়ন কবির

প্রতি টনে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ১০-১২ হাজার টাকা

উদ্যোক্তাদের দাবি, ভ্যাট, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ায় প্রতি টন রড উৎপাদনের ব্যয় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। কিন্তু বাজারে ক্রেতা সংকট থাকায় সেই বাড়তি ব্যয় বিক্রয়মূল্যে পুরোপুরি সমন্বয় করা যাচ্ছে না।

মাসুদুল আলম মাসুদ বলেন, দেশের ইস্পাত শিল্প এখন নজিরবিহীন সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি উন্নয়নকাজ কার্যত স্থবির থাকায় বাজারে রডের চাহিদা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।

অন্যদিকে ভ্যাট, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির কারণে প্রতি টন রড উৎপাদনে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে। কিন্তু বাজারে ক্রেতা না থাকায় সেই বাড়তি ব্যয় সমন্বয় করে দাম বাড়ানোর সুযোগও নেই।

বাজারে বর্তমানে প্রতি টন রড বিক্রি হচ্ছে ৮৮ থেকে ৯০ হাজার টাকায়। অ্যাঙ্গেলের দাম ৮৭ থেকে ৯২ হাজার টাকার মধ্যে রয়েছে। মোটা প্লেটের দাম এক লাখ ১৫ হাজার টাকা। পাতলা প্লেট দেড় লাখ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা কঠিন হয়ে উঠছে

শিল্প মালিকরা বলছেন, ইস্পাত শিল্প সরাসরি জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ নেয়। এখানে ট্রান্সমিশন বা ডিস্ট্রিবিউশন লসের মতো অতিরিক্ত ব্যয় নেই। তবুও ডিমান্ড চার্জ, পাওয়ার ফ্যাক্টর চার্জ, ভ্যাট ও বিভিন্ন ধরনের মাশুল যুক্ত হয়ে বিদ্যুতের প্রকৃত খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। বর্তমানে শিল্পে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের কার্যকর ব্যয় ১০ টাকা ৫০ পয়সারও বেশি, যা পার্শ্ববর্তী ভারতের তুলনায় অনেক বেশি। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশে ইস্পাত উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল আমদানিনির্ভর। বিশেষ করে অধিকাংশ কাঁচামাল ভারত থেকে আমদানি করতে হয়। ভারত নিজস্ব কাঁচামাল ব্যবহার করে উৎপাদন করায় তাদের ব্যয় তুলনামূলক কম। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের উৎপাদকরা শুরু থেকেই প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে থাকেন।

রহিম স্টিল মিলসের উপদেষ্টা হুমায়ন কবির বলেন, ‘বাংলাদেশে শিল্পে ব্যবহৃত বিদ্যুতের কার্যকর ইউনিট মূল্য ১০ টাকা ৫০ পয়সারও বেশি, যেখানে ভারতে একই বিদ্যুতের খরচ প্রায় ৮ টাকা। ফলে উৎপাদন ব্যয়ের দিক থেকে শুরুতেই আমরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছি। আমাদের আরেকটি বড় সীমাবদ্ধতা হলো কাঁচামালের ওপর আমদানিনির্ভরতা। ইস্পাত উৎপাদনের প্রয়োজনীয় অধিকাংশ কাঁচামাল ভারত থেকে আমদানি করতে হয়। অন্যদিকে ভারত নিজস্ব কাঁচামাল ব্যবহার করে উৎপাদন করে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা বাংলাদেশের উৎপাদকদের জন্য ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।’

গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হলে ফার্নেস ঠান্ডা হয়ে যায় এবং সেটি আবার উৎপাদনের উপযোগী করতে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় লাগে

এক শিল্প উদ্যোক্তা দেশীয় শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, বাংলাদেশে এরই মধ্যে চাহিদার তুলনায় ইস্পাত উৎপাদনের সক্ষমতা বেশি। এরপরও অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিদেশি, বিশেষ করে চীনা কোম্পানিগুলোকে নতুন ইস্পাত শিল্প স্থাপনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এতে দেশীয় শিল্প আরও কঠিন প্রতিযোগিতার মুখে পড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদে মুনাফা বিদেশে চলে যাবে। শিল্পের বর্তমান অবস্থা এতটাই নাজুক যে, দেশের বড় বড় কোম্পানিও অর্থনৈতিক চাপ সামলাতে আদালতের আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে। কিন্তু সংকট নিরসনের পরিবর্তে ভারী জরিমানা ও প্রশাসনিক চাপ শিল্পের টিকে থাকাকেই আরও কঠিন করে তুলছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, পাঁচ-ছয় বছর ধরে ব্যবসা মন্দার মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে সর্বশেষ তিন বছর ছিল সবচেয়ে কঠিন। ডলারের দাম বেড়েছে, আমদানি কমেছে ও বাজার সংকুচিত হয়েছে। তারপরও রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ব্যবসায়ীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে এখনই গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা, সহজ শর্তে অর্থায়ন নিশ্চিত করা এবং শিল্পবান্ধব নীতি গ্রহণ করা জরুরি।

দেউলিয়া হওয়ার ঝুঁকিতে উদ্যোক্তারা

আর্থিক দিক থেকেও ইস্পাত শিল্প বড় ধরনের চাপে রয়েছে বলে জানান উদ্যোক্তারা। তাদের অভিযোগ, ব্যাংকগুলো প্রয়োজনীয় কার্যকর অর্থায়ন দিচ্ছে না। উচ্চ সুদ, ঋণপ্রাপ্তির জটিলতা ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে নতুন বিনিয়োগ কমে গেছে। অনেক প্রতিষ্ঠান মূলধন হারিয়ে উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। সরকারের বিভিন্ন প্রণোদনা তহবিল থেকেও প্রত্যাশিত সুবিধা না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাদের। বলছেন, প্রণোদনা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়ম ও অতিরিক্ত প্রভাবের অভিযোগও রয়েছে।

এ নিয়ে শাহরিয়ার স্টিল মিলসের এমডি মাসুদুল আলম বলেন, ‘এই পরিস্থিতিতে বড়, মাঝারি ও ছোট- সব ধরনের অনেক কারখানা মূলধন হারিয়ে বন্ধ হয়ে গেছে। ব্যাংকগুলো প্রয়োজনীয় অর্থায়ন করছে না। আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, জাতীয় নীতিমালা এবং ব্যাংকিং খাতের নানা জটিলতার কারণে উদ্যোক্তারা চরম আর্থিক চাপে রয়েছেন। অনেকেই দেউলিয়া হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছেন। সরকার শিল্প খাতের জন্য বিভিন্ন প্রণোদনা তহবিলের কথা বললেও বাস্তবে অধিকাংশ উদ্যোক্তা সেই সুবিধা পাননি। বরং প্রণোদনার অর্থ পেতে নানা অনিয়ম ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে, যা শিল্পের জন্য হতাশাজনক।’

গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে শুধু ইস্পাত শিল্প নয়, দেশের কোনো শিল্পই স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে না। এর নেতিবাচক প্রভাব শিল্প উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর পড়বে।- স্টিল মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শেখ ফজলুর রহমান বকুল

নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রতিশ্রুতি রাখা হয়নি

বাংলাদেশ স্টিল মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও বিক্রমপুর স্টিলের স্বত্বাধিকারী শেখ ফজলুর রহমান বকুল জানান, সারাদেশে চলমান তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে রড এবং ইস্পাত উৎপাদনকারী কারখানাগুলো চরম সংকটে পড়েছে। নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ না থাকায় অধিকাংশ কারখানার উৎপাদন অর্ধেকেরও বেশি কমে গেছে। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বাজারে রডের সরবরাহ আরও কমবে এবং এর প্রভাব দামের ওপর পড়বে। রিহিটিং ফার্নেসে স্ক্র্যাপ গলানোর সময় বারবার বিদ্যুৎ চলে গেলে বা গ্যাসের চাপ কমে গেলে গলে যাওয়া লোহা আবার জমে যায়। তখন পুরো প্রক্রিয়াটি নতুন করে শুরু করতে হয়। এতে শুধু সময়ই নষ্ট হয় না, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যয় হয়। ফলে প্রতি টন রড উৎপাদনের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

শেখ ফজলুর রহমান বকুল বলেন, ‘বর্তমানে প্রতি টন স্ক্র্যাপ গলাতে শুধু বিদ্যুৎ বাবদই ১০ হাজার টাকার বেশি ব্যয় হয়। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অনিয়মিত সরবরাহের কারণে এই ব্যয় আরও বেড়ে যাচ্ছে। উৎপাদনের এই অতিরিক্ত খরচ শেষ পর্যন্ত রডের বাজারমূল্যে প্রভাব ফেলবে। আগের সরকার শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের আশ্বাস দিয়ে প্রতি ইউনিট গ্যাসের দাম ১৪ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৪ টাকা করেছিল। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়নি। জ্বালানির দাম বেড়েছে অথচ নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়নি।’

বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে শুধু ইস্পাত শিল্প নয়, দেশের কোনো শিল্পই স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে না। এর নেতিবাচক প্রভাব শিল্প উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর পড়বে।’

ইএআর/একিউএফ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow