গ্রামের বন্ধুর সঙ্গে মহানবীর (সা.) রসিকতা

জাহের ইবনে হারাম আল-আসলামী (রা.) একজন বেদুইন সাহাবি যিনি মদিনা থেকে দূরে এক পল্লী এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। মহানবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রতি ছিল তার গভীর ভালোবাসা। তিনি যখনই গ্রাম থেকে মদিনা মুনাওয়ারায় আসতেন, নিজের সাধ্যমতো মহানবীর (সা.) জন্য পল্লী অঞ্চলের ফলমূল, পনির কিংবা অন্য কোনো উপহারসামগ্রী সঙ্গে নিয়ে আসতেন। মহানবীও (সা.) তাঁকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন। তিনি যখন মদিনা থেকে তার নিজ এলাকায় ফিরতেন, তখন মহানবীও (সা.) শহর থেকে কিছু উপহারসামগ্রী দিয়ে তাকে বিদায় জানাতেন। মহানবী (সা.) বলতেন, ‘জাহের আমাদের গ্রাম, আর আমরা তার শহর।’ অর্থাৎ, জাহের যেমন আমাদের কাছে গ্রামীণ জীবনের উপহার নিয়ে আসে, তেমনই আমরাও এই শহরে তাকে সঙ্গ দেই, বিভিন্ন শহুরে উপহার তাকে দেই। একদিন জাহের আল আসলামী (রা.) মদিনার বাজারে জিনিসপত্র বিক্রি করছিলেন। নবীজি (সা.) গিয়ে পেছন থেকে এমনভাবে তাকে জড়িয়ে ধরলেন যে তিনি পেছনে তাকাতে পারছিলেন না। তিনি বললেন, কে? আমাকে ছাড়ুন! কিন্তু যখন তিনি বুঝতে পারলেন নবীজি (সা.) তাকে ধরেছেন, তখন তিনি নবীজির বুকের সাথে আরও লেপ্টে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। আরও পড়ুন মদিনার ইহুদি-মুশরি

গ্রামের বন্ধুর সঙ্গে মহানবীর (সা.) রসিকতা

জাহের ইবনে হারাম আল-আসলামী (রা.) একজন বেদুইন সাহাবি যিনি মদিনা থেকে দূরে এক পল্লী এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। মহানবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রতি ছিল তার গভীর ভালোবাসা। তিনি যখনই গ্রাম থেকে মদিনা মুনাওয়ারায় আসতেন, নিজের সাধ্যমতো মহানবীর (সা.) জন্য পল্লী অঞ্চলের ফলমূল, পনির কিংবা অন্য কোনো উপহারসামগ্রী সঙ্গে নিয়ে আসতেন। মহানবীও (সা.) তাঁকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন। তিনি যখন মদিনা থেকে তার নিজ এলাকায় ফিরতেন, তখন মহানবীও (সা.) শহর থেকে কিছু উপহারসামগ্রী দিয়ে তাকে বিদায় জানাতেন।

মহানবী (সা.) বলতেন, ‘জাহের আমাদের গ্রাম, আর আমরা তার শহর।’ অর্থাৎ, জাহের যেমন আমাদের কাছে গ্রামীণ জীবনের উপহার নিয়ে আসে, তেমনই আমরাও এই শহরে তাকে সঙ্গ দেই, বিভিন্ন শহুরে উপহার তাকে দেই।

একদিন জাহের আল আসলামী (রা.) মদিনার বাজারে জিনিসপত্র বিক্রি করছিলেন। নবীজি (সা.) গিয়ে পেছন থেকে এমনভাবে তাকে জড়িয়ে ধরলেন যে তিনি পেছনে তাকাতে পারছিলেন না। তিনি বললেন, কে? আমাকে ছাড়ুন! কিন্তু যখন তিনি বুঝতে পারলেন নবীজি (সা.) তাকে ধরেছেন, তখন তিনি নবীজির বুকের সাথে আরও লেপ্টে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।

নবীজি (সা.) রসিকতার ছলে বললেন, এ গোলামকে কে কিনবে? জাহের বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! আপনি আমাকে বিক্রি করে তেমন মূল্য পাবেন না। (তিনি ছিলেন কৃষ্ণাঙ্গ ও দেখতে কদাকার, তাই তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন আমি দাস হিসেবে বিক্রির জন্য তেমন মূল্যবান নই।) নবীজি (সা.) বললেন, কিন্তু আল্লাহর কাছে তুমি কম মূল্যবান নও! (মুসনাদে আহমদ)

জাহের দাস ছিলেন না। মদিনার বাজারে সবাই জানতেন তিনি দাস নন। নবীজি (সা.) রসিকতার ছলে তাকে দাস হিসেবে বিক্রির কথা বলেছিলেন। জাহেরের (রা.) মতো গ্রাম্য ও সাধারণ সাহাবির সাথেও নবীজির (সা.) সহজ সম্পর্ক ছিল।

নবীজি (সা.) ছিলেন দুনিয়ায় আল্লাহর প্রেরিত শ্রেষ্ঠ রাসুল, শ্রেষ্ঠ মানুষ। এই ঘটনার সময় তিনি মদিনার রাষ্ট্রপ্রধান এবং তৎকালীন আরবের সবচেয়ে প্রভাবশালী ও ক্ষমতাধর ব্যক্তি ছিলেন। কিন্তু নবীজি (সা.) দাম্ভিক ও ক্ষমতাদর্পী ছিলেন না। তিনি সবার সাথে সহজভাবে মিশতেন, সবার সাথে হাসিমুখে কথা বলতেন।

আবদুল্লাহ ইবনে হারিস ইবনে জাযআ (রা.) বলেন, আমি আল্লাহর রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) চেয়ে বেশি মুচকি হাসতে আর কাউকে দেখিনি। (সুনানে তিরমিজি)

হজরত জারির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) বলেন, ইসলাম গ্রহণ করার পর থেকে কখনও আল্লাহর রাসুল (সা.) আমাকে তার কাছে যেতে বাধা দেননি এবং যখনই তিনি আমার দিকে তাকাতেন, তখনই মুচকি হাসতেন। (সহিহ বুখারি)

অন্যান্য সাহাবিদের সাথেও তিনি মাঝে মাঝে তাদের সাথে রসিকতা করতেন। তবে রসিকতা করেও তিনি কখনও মিথ্যা বলতেন না। কারো মনে কষ্টও দিতেন না। তার রসিকতা হতো নির্দোষ।

ওএফএফ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow