ঘুম না এলে করুন এই সহজ ব্যায়াম

ঘুম না আসার সমস্যা এখন বিশ্বজুড়েই বাড়ছে। অনেকেই ক্লান্ত শরীর নিয়ে বিছানায় গেলেও চোখে ঘুম আসে না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বাঙালিদের মধ্যেও কম ঘুম বা অনিদ্রার প্রবণতা বেশ বেশি। নানা কারণ থাকলেও, এর স্থায়ী সমাধান মূলত জীবনযাপনের পরিবর্তনের মধ্যেই লুকিয়ে। অনিয়মিত ঘুমের সময়, দেরিতে খাওয়া, আর ঘুমোতে যাওয়ার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত মোবাইল ব্যবহার এই অভ্যাসগুলোই ঘুমের বড় বাধা। বিশেষজ্ঞরা বলেন, নির্দিষ্ট সময়ে শুতে যাওয়া, ঘুমের অন্তত দুই ঘণ্টা আগে স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা জরুরি। কিন্তু ব্যস্ত জীবনে অনেকেই এই নিয়ম মেনে চলতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে সহজ সমাধান হতে পারে কিছু হালকা যোগাসন। ভাল খবর হলো, এর জন্য আলাদা করে সময় বা জায়গা দরকার নেই। বিছানায় শুয়েই, ঘুমোতে যাওয়ার আগে কয়েকটি সহজ আসন করলে শরীর ও মন দুটোই শান্ত হয়। এতে ঘুম আসতেও দেরি হয় না। চলুন জেনে নেই ঘুমের আগে বিছানায় করা যায় এমন কয়েকটি সহজ আসন সম্পর্কে। সুপ্ত তাড়াসন প্রথমে চিত হয়ে শুয়ে পড়ুন। দুই পা টানটান রাখুন। দুই হাত মাথার ওপরে নিয়ে গিয়ে আঙুলগুলো একসঙ্গে জুড়ে দিন। এই ভঙ্গিতে ৪-৫ মিনিট থাকুন। এতে শরীরে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে, ক্

ঘুম না এলে করুন এই সহজ ব্যায়াম

ঘুম না আসার সমস্যা এখন বিশ্বজুড়েই বাড়ছে। অনেকেই ক্লান্ত শরীর নিয়ে বিছানায় গেলেও চোখে ঘুম আসে না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বাঙালিদের মধ্যেও কম ঘুম বা অনিদ্রার প্রবণতা বেশ বেশি। নানা কারণ থাকলেও, এর স্থায়ী সমাধান মূলত জীবনযাপনের পরিবর্তনের মধ্যেই লুকিয়ে। অনিয়মিত ঘুমের সময়, দেরিতে খাওয়া, আর ঘুমোতে যাওয়ার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত মোবাইল ব্যবহার এই অভ্যাসগুলোই ঘুমের বড় বাধা।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, নির্দিষ্ট সময়ে শুতে যাওয়া, ঘুমের অন্তত দুই ঘণ্টা আগে স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা জরুরি। কিন্তু ব্যস্ত জীবনে অনেকেই এই নিয়ম মেনে চলতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে সহজ সমাধান হতে পারে কিছু হালকা যোগাসন। ভাল খবর হলো, এর জন্য আলাদা করে সময় বা জায়গা দরকার নেই। বিছানায় শুয়েই, ঘুমোতে যাওয়ার আগে কয়েকটি সহজ আসন করলে শরীর ও মন দুটোই শান্ত হয়। এতে ঘুম আসতেও দেরি হয় না। চলুন জেনে নেই ঘুমের আগে বিছানায় করা যায় এমন কয়েকটি সহজ আসন সম্পর্কে।

সুপ্ত তাড়াসন

প্রথমে চিত হয়ে শুয়ে পড়ুন। দুই পা টানটান রাখুন। দুই হাত মাথার ওপরে নিয়ে গিয়ে আঙুলগুলো একসঙ্গে জুড়ে দিন। এই ভঙ্গিতে ৪-৫ মিনিট থাকুন। এতে শরীরে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে, ক্লান্তি কমে এবং শরীর শিথিল হয় যা ঘুম আনতে সাহায্য করে।

অপনাসন

চিত হয়ে শুয়ে শ্বাস নিতে নিতে দুই হাঁটু ভাঁজ করে বুকের কাছে টেনে আনুন। হাত দিয়ে হাঁটু জড়িয়ে ধরুন এবং হালকা চাপ দিন। ২০-৩০ সেকেন্ড এইভাবে থেকে ধীরে ধীরে আগের অবস্থায় ফিরুন। এটি হজমের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে এবং মানসিক চাপও কমায়।

আরও পড়ুন:

সুপ্ত মৎস্যেন্দ্রাসন

প্রথমে শবাসনে শুয়ে পড়ুন। এবার ডান হাঁটু ভাঁজ করে বাঁ হাত দিয়ে ধরে শরীরের বাঁ দিকে নিয়ে যান। শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখুন। কয়েক সেকেন্ড পর আগের অবস্থায় ফিরে অন্য দিকেও একইভাবে করুন। এই আসন শরীরের টান কমায় ও স্নায়ুকে শান্ত করে।

পশ্চিমোত্তাসন

চিত হয়ে শুয়ে হাত দু’টি মাথার ওপরে তুলুন। ধীরে ধীরে উঠে বসে সামনের দিকে ঝুঁকে দুই হাত দিয়ে পায়ের বুড়ো আঙুল ধরার চেষ্টা করুন। কপাল হাঁটুর কাছে নিয়ে আসুন। ২০-৩০ সেকেন্ড এই ভঙ্গিতে থাকুন। এতে শরীর নমনীয় হয় এবং মনও শান্ত হয়।

নিয়মিত এই আসনগুলো করলে শরীর ধীরে ধীরে রিল্যাক্স হয়, মানসিক চাপ কমে এবং ঘুমের সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসে। মোবাইল স্ক্রল করার বদলে এই সামান্য সময়টুকু যদি শরীরকে দেওয়া যায়, তবে অনিদ্রা থেকে মুক্তি পাওয়া অনেকটাই সহজ হতে পারে।

তথ্যসূত্র: টাইমস অফ ইন্ডিয়া

জেএস/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow