ঘুমের মধ্যে হঠাৎ উপর থেকে পড়ে যাওয়ার অনুভূতি হয় কেন?
গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন আপনি, হঠাৎ মনে হলো উঁচু কোনো পাহাড় বা বহুতল ভবনের ছাদ থেকে নিচে পড়ে যাচ্ছেন। আতঙ্কে ধড়ফড়িয়ে শরীর ঝাঁকুনি দিয়ে আপনার ঘুম ভেঙে গেল। এই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাননি, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় অদ্ভুত এই অনুভূতির নাম ‘হিপনিক জার্ক’। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি মূলত মাংসপেশীর একটি আকস্মিক এবং স্বতঃস্ফূর্ত ঝাঁকুনি। যখন কোনো ব্যক্তি জেগে থাকা অবস্থা থেকে ঘুমের রাজ্যে প্রবেশ করেন, ঠিক সেই সন্ধিক্ষণে অর্থাৎ ঘুমের প্রথম বা দ্বিতীয় পর্যায়ে এই ঘটনাটি ঘটে। স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সিন্ধুজার মতে, প্রতি ১০ জনের মধ্যে অন্তত সাতজন মানুষ জীবনের কোনো না কোনো সময়ে এই অনুভূতির সম্মুখীন হয়েছেন। কেন এমন হয়? আমাদের ঘুমের চক্র সাধারণত চারটি পর্যায়ে বিভক্ত। হিপনিক জার্ক মূলত ঘটে এন-১ (হালকা ঘুম) এবং এন-২ (মাঝারি ঘুম) পর্যায়ে। এই সময়ে শরীরের পেশীগুলো শিথিল হতে শুরু করে এবং হৃদস্পন্দন ও শরীরের তাপমাত্রা হ্রাস পায়। এই রূপান্তর বা ট্রানজিশনের সময় শরীর ও মস্তিষ্কের মধ্যে সামঞ্জস্যের অভাব হলে হিপনিক জার্ক হতে পারে। ঝাঁকুনির নেপথ্যে যে কারণগুলো দায়ী বেশিভাগ ক্ষেত্রে এর নির্দিষ্ট কারণ
গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন আপনি, হঠাৎ মনে হলো উঁচু কোনো পাহাড় বা বহুতল ভবনের ছাদ থেকে নিচে পড়ে যাচ্ছেন। আতঙ্কে ধড়ফড়িয়ে শরীর ঝাঁকুনি দিয়ে আপনার ঘুম ভেঙে গেল। এই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাননি, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় অদ্ভুত এই অনুভূতির নাম ‘হিপনিক জার্ক’।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি মূলত মাংসপেশীর একটি আকস্মিক এবং স্বতঃস্ফূর্ত ঝাঁকুনি। যখন কোনো ব্যক্তি জেগে থাকা অবস্থা থেকে ঘুমের রাজ্যে প্রবেশ করেন, ঠিক সেই সন্ধিক্ষণে অর্থাৎ ঘুমের প্রথম বা দ্বিতীয় পর্যায়ে এই ঘটনাটি ঘটে। স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সিন্ধুজার মতে, প্রতি ১০ জনের মধ্যে অন্তত সাতজন মানুষ জীবনের কোনো না কোনো সময়ে এই অনুভূতির সম্মুখীন হয়েছেন।
কেন এমন হয়?
আমাদের ঘুমের চক্র সাধারণত চারটি পর্যায়ে বিভক্ত। হিপনিক জার্ক মূলত ঘটে এন-১ (হালকা ঘুম) এবং এন-২ (মাঝারি ঘুম) পর্যায়ে। এই সময়ে শরীরের পেশীগুলো শিথিল হতে শুরু করে এবং হৃদস্পন্দন ও শরীরের তাপমাত্রা হ্রাস পায়। এই রূপান্তর বা ট্রানজিশনের সময় শরীর ও মস্তিষ্কের মধ্যে সামঞ্জস্যের অভাব হলে হিপনিক জার্ক হতে পারে।
ঝাঁকুনির নেপথ্যে যে কারণগুলো দায়ী
বেশিভাগ ক্ষেত্রে এর নির্দিষ্ট কারণ না থাকলেও কিছু অভ্যাস বা শারীরিক অবস্থা এই সমস্যাকে বাড়িয়ে তোলে:
- চরম ক্লান্তি ও অনিদ্রা: সারাদিনের হাড়ভাঙা খাটুনি বা দীর্ঘদিনের ঘুমের অভাব হিপনিক জার্কের অন্যতম প্রধান কারণ।
- মানসিক চাপ ও উদ্বেগ: অতিরিক্ত স্ট্রেস থাকলে মস্তিষ্ক পুরোপুরি রিল্যাক্স করতে পারে না, ফলে শরীর সহজেই চমকে ওঠে।
- ক্যাফেইন ও নিকোটিন: অতিরিক্ত কফি বা ধূমপানের অভ্যাস পেশীতে কাঁপুনি সৃষ্টি করতে ট্রিগার হিসেবে কাজ করে।
- শোয়ার ভঙ্গি: বিছানায় সঠিকভাবে না শুলে বা অস্বস্তিকর অবস্থায় ঘুমালেও এমনটা হতে পারে।
লক্ষণগুলো কেমন হয়?
হিপনিক জার্কের তীব্রতা একেক জনের ক্ষেত্রে একেক রকম হয়। কেউ হয়তো হালকা ঝাঁকুনি অনুভব করেন যা পাশে থাকা ব্যক্তি টের পান, আবার কেউ তীব্র ঝাঁকুনিতে সজাগ হয়ে বসে পড়েন।
সাধারণ কিছু লক্ষণ
১. হঠাৎ উপর থেকে পড়ে যাওয়ার অনুভূতি।
২. শরীরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার মতো শক অনুভব করা।
৩. পড়ে যাওয়া সংক্রান্ত স্বপ্ন বা হ্যালুসিনেশন।
৪. হঠাৎ বুক ধড়ফড় করা বা ঘাম হওয়া।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
সাধারণত হিপনিক জার্ক কোনো গুরুতর রোগ নয়। তবে যদি এটি প্রতিদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়, তবে সতর্ক হওয়া জরুরি । যদি পেশীর ঝাঁকুনি ঘনঘন হয় এবং এর সঙ্গে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দেয়, তবে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে:
- ঘুমের মধ্যে খিঁচুনি হওয়া।
- মুখ থেকে ফেনা বের হওয়া।
- ঘুমের মধ্যেই অজান্তে প্রস্রাব করে ফেলা।
- অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অস্বাভাবিক শক্ত হয়ে যাওয়া।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই লক্ষণগুলো দীর্ঘস্থায়ী স্নায়বিক সমস্যা, মৃগীরোগ বা ডিমেনশিয়ার প্রাথমিক সংকেত হতে পারে। তাই সাধারণ হিপনিক জার্ক নিয়ে ভয়ের কিছু না থাকলেও, অতিরিক্ত ক্যাফেইন বর্জন এবং পর্যাপ্ত মানসিক প্রশান্তি নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি নিরবচ্ছিন্ন ও সুস্থ ঘুম পাওয়া সম্ভব।
তথ্যসূত্র: বিবিসি
What's Your Reaction?