চট্টগ্রামের চেনা টাইগারপাসে ফিরেছে নতুন প্রাণ
অভিলাষ মাহমুদ চট্টগ্রাম নগরীর ব্যস্ততম ও ঐতিহাসিক প্রবেশপথগুলোর একটি টাইগারপাস। প্রতিদিন হাজারো যানবাহন, কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও পর্যটকের পদচারণায় মুখর থাকে এলাকাটি। কিন্তু দীর্ঘদিনের ধুলোবালি, বৃষ্টি আর অযত্নে পাহাড়ঘেঁষা এই সৌন্দর্য অনেকটাই ম্লান হয়ে গিয়েছিল। এবার সেই চেনা টাইগারপাসে ফিরেছে নতুন প্রাণ। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে চারুকলার শিক্ষার্থীদের রংতুলির ছোঁয়ায় নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে ঐতিহাসিক এ এলাকা। টাইগারপাসের পাহাড়ঘেঁষা দেওয়াল, বাঘের ভাস্কর্য এবং আশপাশের বিভিন্ন অংশে এখন দেখা মিলছে ব্যস্ত সময় পার করা তরুণ শিল্পীদের। কেউ রং মেশাচ্ছেন, কেউ দেওয়ালে তুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তুলছেন বাঘের মুখাবয়ব, পাহাড়, প্রকৃতি কিংবা চট্টগ্রামের ঐতিহ্যের নানা অনুষঙ্গ। তাদের সৃজনশীল কাজের মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে পুরো এলাকার চেহারা। চারুকলার শিক্ষার্থীরা বলছেন, শ্রেণিকক্ষের বাইরে বাস্তব নগর পরিবেশে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাদের জন্য অনন্য। বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ না থেকে নিজেদের শিল্পচর্চাকে জনসাধারণের সামনে তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছেন তারা। একইসঙ্গে নগর সৌন্দর্য বর্ধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে যুক
অভিলাষ মাহমুদ
চট্টগ্রাম নগরীর ব্যস্ততম ও ঐতিহাসিক প্রবেশপথগুলোর একটি টাইগারপাস। প্রতিদিন হাজারো যানবাহন, কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও পর্যটকের পদচারণায় মুখর থাকে এলাকাটি। কিন্তু দীর্ঘদিনের ধুলোবালি, বৃষ্টি আর অযত্নে পাহাড়ঘেঁষা এই সৌন্দর্য অনেকটাই ম্লান হয়ে গিয়েছিল। এবার সেই চেনা টাইগারপাসে ফিরেছে নতুন প্রাণ। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে চারুকলার শিক্ষার্থীদের রংতুলির ছোঁয়ায় নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে ঐতিহাসিক এ এলাকা।
টাইগারপাসের পাহাড়ঘেঁষা দেওয়াল, বাঘের ভাস্কর্য এবং আশপাশের বিভিন্ন অংশে এখন দেখা মিলছে ব্যস্ত সময় পার করা তরুণ শিল্পীদের। কেউ রং মেশাচ্ছেন, কেউ দেওয়ালে তুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তুলছেন বাঘের মুখাবয়ব, পাহাড়, প্রকৃতি কিংবা চট্টগ্রামের ঐতিহ্যের নানা অনুষঙ্গ। তাদের সৃজনশীল কাজের মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে পুরো এলাকার চেহারা।
চারুকলার শিক্ষার্থীরা বলছেন, শ্রেণিকক্ষের বাইরে বাস্তব নগর পরিবেশে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাদের জন্য অনন্য। বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ না থেকে নিজেদের শিল্পচর্চাকে জনসাধারণের সামনে তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছেন তারা। একইসঙ্গে নগর সৌন্দর্য বর্ধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে যুক্ত হতে পারায় নিজেদের গর্বিতও মনে করছেন।
টাইগারপাস শুধু একটি সড়ক মোড় নয়, এটি চট্টগ্রামের পরিচয়েরও অংশ। শহরে প্রবেশের সময় স্থানটি অনেকের চোখে প্রথম ধরা পড়ে। তাই এলাকাটিকে নান্দনিকভাবে গড়ে তোলার উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন নগরবাসী। অনেকে মনে করছেন, কাজ শেষ হলে এটি আবারও নগরীর অন্যতম আকর্ষণীয় স্পটে পরিণত হবে। বিশেষ করে তরুণদের জন্য এটি হতে পারে জনপ্রিয় ‘সেলফি জোন’ কিংবা স্বল্প সময়ের জন্য একটু স্বস্তি নেওয়ার জায়গা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, আগে টাইগারপাসের পাহাড়ি দেওয়ালগুলো অনেকটাই বিবর্ণ ও অপরিচ্ছন্ন দেখাতো। এখন সেখানে রঙিন শিল্পকর্ম ফুটে ওঠায় পুরো পরিবেশেই এক ধরনের প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ব্যস্ত নগর জীবনের মাঝেও এই রঙিন দেওয়াল পথচারীদের মনে এনে দিচ্ছে আলাদা প্রশান্তি।
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, একটি শহরের সৌন্দর্য শুধু বড় বড় স্থাপনা দিয়ে তৈরি হয় না; বরং উন্মুক্ত স্থান, দেওয়ালচিত্র, ভাস্কর্য ও সবুজ পরিবেশ মিলেই গড়ে ওঠে একটি মানবিক ও বাসযোগ্য নগর। সেই জায়গা থেকে টাইগারপাসে নেওয়া এ উদ্যোগ চট্টগ্রামের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। এটি একদিকে যেমন ঐতিহ্য সংরক্ষণের কাজ করছে, অন্যদিকে নতুন প্রজন্মের শিল্পচর্চাকেও উৎসাহিত করছে।
চট্টগ্রাম পাহাড়, নদী আর সবুজের শহর হিসেবে পরিচিত। সেই পরিচয়কে আরও শৈল্পিকভাবে তুলে ধরার এ প্রয়াস নগরবাসীর মাঝেও আশাবাদ তৈরি করেছে। শিল্প আর প্রকৃতির মেলবন্ধনে টাইগারপাস যেন আবারও ফিরে পাচ্ছে তার হারানো সৌন্দর্য।
রঙের কাজ পুরোপুরি শেষ হলে টাইগারপাস শুধু একটি সড়ক মোড় হিসেবেই নয় বরং চট্টগ্রামের নান্দনিকতার প্রতীক হিসেবেও নতুনভাবে পরিচিতি পাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
লেখক: কবি ও গল্পকার।
এসইউ
What's Your Reaction?