চবি নিয়োগ ইস্যুতে জবাবদিহি না পেয়ে ছাত্রদলের সভা ত্যাগ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) নিয়োগে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগে দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম শেষে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় বসেও কোনো সমাধান না পেয়ে বৈঠক বর্জন করেছে চবি শাখা ছাত্রদল। সোমবার (১৮ জানুয়ারি) দুপুর আড়াইটায় উপাচার্যের সভাকক্ষে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভা চলাকালে এক পর্যায়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সভাস্থল ত্যাগ করেন। এ সময় তারা ‘ভুয়া ভুয়া’ ও ‘ম্যাংগো বার ভিসি, নিয়োগ পেলেই খুশি’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। ছাত্রদল সূত্র জানায়, স্বজনপ্রীতি ও নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে ঘোষিত ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটামের পর প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় বসেন তারা। আলোচনায় দলীয়করণ, স্বজনপ্রীতি, আবাসন সংকট, নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও প্রকাশ, পূর্ববর্তী নিয়োগের বৈধতা, বিভিন্ন অনিয়ম এবং গুপ্ত হামলার বিষয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলা হয়। তবে এসব বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা না পাওয়ায় বৈঠক বর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, পাঁচ আগস্টের পর বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসব অস্বচ্ছ নিয়োগ ও অনিয়ম হয়েছে, তা নিয়ে আমরা উ

চবি নিয়োগ ইস্যুতে জবাবদিহি না পেয়ে ছাত্রদলের সভা ত্যাগ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) নিয়োগে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগে দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম শেষে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় বসেও কোনো সমাধান না পেয়ে বৈঠক বর্জন করেছে চবি শাখা ছাত্রদল।

সোমবার (১৮ জানুয়ারি) দুপুর আড়াইটায় উপাচার্যের সভাকক্ষে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভা চলাকালে এক পর্যায়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সভাস্থল ত্যাগ করেন। এ সময় তারা ‘ভুয়া ভুয়া’ ও ‘ম্যাংগো বার ভিসি, নিয়োগ পেলেই খুশি’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

ছাত্রদল সূত্র জানায়, স্বজনপ্রীতি ও নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে ঘোষিত ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটামের পর প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় বসেন তারা। আলোচনায় দলীয়করণ, স্বজনপ্রীতি, আবাসন সংকট, নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও প্রকাশ, পূর্ববর্তী নিয়োগের বৈধতা, বিভিন্ন অনিয়ম এবং গুপ্ত হামলার বিষয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলা হয়। তবে এসব বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা না পাওয়ায় বৈঠক বর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, পাঁচ আগস্টের পর বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসব অস্বচ্ছ নিয়োগ ও অনিয়ম হয়েছে, তা নিয়ে আমরা উপাচার্যের সঙ্গে বসেছিলাম। কিন্তু আমাদের প্রশ্নের সরাসরি কোনো উত্তর তিনি দেননি। সর্বশেষ আমরা জানতে চেয়েছিলাম— নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করে স্বচ্ছভাবে নতুন নিয়োগ দেওয়া হবে কি না। এ বিষয়ে কোনো আশ্বাস না পেয়ে আমরা বৈঠক বর্জন করেছি। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় বলেন, নিয়োগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সংগঠন অভিযোগ করে আসছে। সে কারণেই আজ আমরা প্রশাসনের কাছে জবাবদিহি চাইতে গিয়েছিলাম। কিন্তু উপাচার্য অনিয়ম ও অন্যায়ের বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। আমরা বলেছি তিনি যদি এসব বিষয়ে উত্তর দিতে না পারেন, তাহলে সসম্মানে পদত্যাগ করা উচিত।

এদিকে নিয়োগসংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহইয়া আখতার বলেন, উপ-উপাচার্যের মেয়ে কিংবা রেজিস্ট্রারের ভাইকে নিয়োগ দেওয়া হবে, তা আগে থেকে জানার কোনো সুযোগ নেই। প্রতিটি নিয়োগের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ নিয়ম ও পদ্ধতি রয়েছে এবং ইন্টারভিউতেও সেগুলো অনুসরণ করা হয়। আমরা কাউকে কারো পরিচয় জানতে চাই না এবং অন্যদেরও এ বিষয়ে প্রশ্ন করতে নিরুৎসাহিত করি।

তিনি আরও বলেন, কলেজে অধ্যক্ষ নিয়োগের ক্ষেত্রে আমরা একজন যোগ্য প্রার্থী খুঁজছিলাম। আমরা জানতাম না তিনি রেজিস্ট্রারের ভাই। তিনি ইংরেজি বিষয়ে যোগ্য হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষতা রাখেন। তিনি দেশে অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দেশের বাইরেও অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow