চলাচলের রাস্তায় নামাজ আদায়ের বিধান

মুসলমানদের জন্য পৃথিবীর যে কোনো জায়গাই মসজিদ বা সিজদার স্থান হতে পারে যদি অপবিত্রতা, অপরিচ্ছন্নতা, শিরকের সাদৃশ্য ইত্যাদি সমস্যা না থাকে। তাই মুসলমানরা মসজিদে যেমন নামাজ আদায় করেন, ঘরে, অফিসে, খোলা মাঠ বা যানবাহনেও নামাজ আদায় করেন। তবে হাদিসে কিছু জায়গাকে নামাজ আদায়ের স্থান হওয়ার অনুপযুক্ত গণ্য করা হয়েছে ওই জায়গাগুলোতে অপবিত্রতা, অপরিচ্ছন্নতা, শিরকের আশংকা অথবা মানুষের অসুবিধা ইত্যাদি সমস্যা থাকায় এগুলোর মধ্যে চলাচলের রাস্তা অন্যতম। আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) সাতটি স্থানে নামাজ আদায় করতে নিষেধ করেছেন: ১. ময়লা ফেলার স্থান ২. কসাইখানা ৩. কবরস্থান ৪. চলাচলের রাস্তা ৫. গোসলখানা ৬. উটের আস্তাবল ৭. বায়তুল্লাহর ছাদ (সুনানে তিরমিজি: ৩৪৬) মানুষ চলাচল করে এমন রাস্তায় নামাজ আদায় করলে যেহেতু মানুষের স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। তাই বিকল্প জায়গা থাকলে চলাচলের রাস্তায় নামাজ আদায় করতে নিষেধ করা হয়েছে। কিন্তু জুমা বা ঈদের নামাজে মুসল্লির সংখ্যা বেশি হওয়ায় অনেক সময় মসজিদের ভেতরে নামাজ আদায়ের জায়গা পাওয়া যায় না। রাস্তায় না দাঁড়ালে জুমা বা ঈদের নামাজ ছুটে যাওয়ার আশংকা তৈরি হয়। এ রকম

চলাচলের রাস্তায় নামাজ আদায়ের বিধান

মুসলমানদের জন্য পৃথিবীর যে কোনো জায়গাই মসজিদ বা সিজদার স্থান হতে পারে যদি অপবিত্রতা, অপরিচ্ছন্নতা, শিরকের সাদৃশ্য ইত্যাদি সমস্যা না থাকে। তাই মুসলমানরা মসজিদে যেমন নামাজ আদায় করেন, ঘরে, অফিসে, খোলা মাঠ বা যানবাহনেও নামাজ আদায় করেন।

তবে হাদিসে কিছু জায়গাকে নামাজ আদায়ের স্থান হওয়ার অনুপযুক্ত গণ্য করা হয়েছে ওই জায়গাগুলোতে অপবিত্রতা, অপরিচ্ছন্নতা, শিরকের আশংকা অথবা মানুষের অসুবিধা ইত্যাদি সমস্যা থাকায় এগুলোর মধ্যে চলাচলের রাস্তা অন্যতম।

আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) সাতটি স্থানে নামাজ আদায় করতে নিষেধ করেছেন:

১. ময়লা ফেলার স্থান

২. কসাইখানা

৩. কবরস্থান

৪. চলাচলের রাস্তা

৫. গোসলখানা

৬. উটের আস্তাবল

৭. বায়তুল্লাহর ছাদ (সুনানে তিরমিজি: ৩৪৬)

মানুষ চলাচল করে এমন রাস্তায় নামাজ আদায় করলে যেহেতু মানুষের স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। তাই বিকল্প জায়গা থাকলে চলাচলের রাস্তায় নামাজ আদায় করতে নিষেধ করা হয়েছে।

কিন্তু জুমা বা ঈদের নামাজে মুসল্লির সংখ্যা বেশি হওয়ায় অনেক সময় মসজিদের ভেতরে নামাজ আদায়ের জায়গা পাওয়া যায় না। রাস্তায় না দাঁড়ালে জুমা বা ঈদের নামাজ ছুটে যাওয়ার আশংকা তৈরি হয়। এ রকম পরিস্থিতিতে রাস্তায় নামাজ আদায়ের অনুমতি রয়েছে।

প্রথমত মসজিদে নামাজ আদায়ের চেষ্টা করতে হবে। মসজিদে জায়গা থাকা সত্ত্বেও রাস্তায় নামাজ আদায় করা যাবে না। আর বাধ্য হয়ে রাস্তায় নামাজে দাঁড়ালে পথচারীদের চলাচলের জন্য কিছু জায়গা রেখে দাঁড়াতে হবে। রাস্তায় জুমার নামাজ আদায় করলে ফরজ শেষ হওয়ার সাথে সাথে রাস্তা ছেড়ে দিতে হবে। দোয়া বা সুন্নত নামাজের জন্য রাস্তা আটকে রাখা যাবে না। ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য রাস্তায় দাঁড়ালে নামাজ শেষ হওয়ার পরপরই রাস্তা ছেড়ে দিতে হবে। খুতবা মসজিদের ভেতরে ঢুকে বসে বা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে শুনতে হবে।

রাস্তায় নামাজ আদায়ের ব্যাপারে ভারতের নদওয়াতুল উলামার দারুল ইফতা থেকে দেওয়া ফতোয়ায় বলা হয়েছে, বিকল্প জায়গা না পাওয়ায় রাস্তায় দাঁড়িয়ে জুমার নামাজ আদায় করলে নামাজ শুদ্ধ হবে। তবে এর আগে মুসল্লিকে জুমার নামাজ পড়তে এমন মসজিদে যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে, যে মসজিদ যথেষ্ট প্রশস্ত। যদি প্রথম মসজিদে জায়গার সংকুলান না হয়, তাহলে অন্য মসজিদে যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। সেখানেও যদি জায়গা না পায়, তাহলে চলাচলের রাস্তায় শুধু জুমার দুই রাকাত ফরজ পড়বে। বাকি সুন্নাত ও দোয়া-দরুদ অন্য কোনো জায়গায় গিয়ে পড়তে হবে।

ওএফএফ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow