চাঁদপুরে স্থায়ী টার্মিনাল না থাকায় ঈদযাত্রায় বিড়ম্বনা

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের অন্যতম কেন্দ্র চাঁদপুর লঞ্চ টার্মিনালে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়ছে। বিভিন্ন স্থান থেকে কর্মব্যস্ত মানুষ পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে বাড়ির পথে রওনা দিচ্ছেন। তবে ঘাটে স্থায়ী টার্মিনাল না থাকায় বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে যাত্রীদের। বুধবার (১৮ মার্চ) সকাল থেকেই টার্মিনালে যাত্রীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ঈদযাত্রায় যাত্রীদের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে টার্মিনাল এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। শৃঙ্খলা রক্ষা ও যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এদিকে ঈদ উপলক্ষে আগত যাত্রীদের জন্য টার্মিনাল এলাকায় নেই পর্যাপ্ত ছাউনি, বসার জায়গা কিংবা বিশ্রামের ব্যবস্থা। ফলে রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করেই খোলা জায়গায় দাঁড়িয়ে বা মাটিতে বসে লঞ্চের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে অনেককে। অন্যদিকে টার্মিনাল এলাকায় অটোরিকশা ও সিএনজি চালকদের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন যাত্রীরা। অভিযোগ রয়েছে, ভাড়া নিয়ে অতিরিক্ত আদায়, যাত্রীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং টার্মিনাল এলাকায় বিশৃঙ্খল যানজটের কার

চাঁদপুরে স্থায়ী টার্মিনাল না থাকায় ঈদযাত্রায় বিড়ম্বনা

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের অন্যতম কেন্দ্র চাঁদপুর লঞ্চ টার্মিনালে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়ছে। বিভিন্ন স্থান থেকে কর্মব্যস্ত মানুষ পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে বাড়ির পথে রওনা দিচ্ছেন। তবে ঘাটে স্থায়ী টার্মিনাল না থাকায় বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে যাত্রীদের।

বুধবার (১৮ মার্চ) সকাল থেকেই টার্মিনালে যাত্রীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

ঈদযাত্রায় যাত্রীদের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে টার্মিনাল এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। শৃঙ্খলা রক্ষা ও যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

এদিকে ঈদ উপলক্ষে আগত যাত্রীদের জন্য টার্মিনাল এলাকায় নেই পর্যাপ্ত ছাউনি, বসার জায়গা কিংবা বিশ্রামের ব্যবস্থা। ফলে রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করেই খোলা জায়গায় দাঁড়িয়ে বা মাটিতে বসে লঞ্চের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে অনেককে।

অন্যদিকে টার্মিনাল এলাকায় অটোরিকশা ও সিএনজি চালকদের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন যাত্রীরা। অভিযোগ রয়েছে, ভাড়া নিয়ে অতিরিক্ত আদায়, যাত্রীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং টার্মিনাল এলাকায় বিশৃঙ্খল যানজটের কারণে দুর্ভোগ আরও বাড়ছে।

টার্মিনালে আসা ফেরদৌসী বেগম, ইকবাল ও জাফরসহ বেশ কয়েকজন যাত্রী জানান, ঈদের সময় বাড়তি ভিড় সামলাতে কোনো ধরনের পরিকল্পিত ব্যবস্থা দেখা যাচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী নৌ টার্মিনাল নির্মাণের দাবি থাকলেও তা এখনও বাস্তবায়ন হয়নি। নৌযাত্রাটি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি বলেই সবসময় এই পথে যাতায়াত করি। তবে নো টার্মিনাল হলে আমাদের যাত্রা আরও আরামদায়ক হতো। পন্টুনের অবস্থা খুবই খারাপ। স্থায়ী সমাধান না হলে দুর্ভোগ কমার সম্ভাবনা নেই।

চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএ’র উপ-পরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, ঈদ উপলক্ষে ঢাকা চাঁদপুরসহ বিভিন্ন রুটে অর্ধশতাধিক লঞ্চ যাতায়াত করবে। এখন আপাতত অস্থায়ী টার্মিনালে আমাদের কার্যক্রম চলছে। এ কাজ শেষ হলে মানুষ আরও নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারবে। স্থায়ী টার্মিনাল হলে লঞ্চঘাটের ভিতরে যাত্রীদের যেসব অভিযোগ রয়েছে তা আর থাকবে না। এছাড়া চালকদের মাধ্যমে যাত্রীরা যাতে হয়রানি না হয়, এর জন্য সার্বক্ষণিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছে।

জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. নাজমুল ইসলাম সরকার বলেন, ঈদে যাত্রীরা যাতে নির্বিঘ্নে আসা-যাওয়া করতে পারেন, তার জন্য লঞ্চ টার্মিনাল পুরোপুরি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বিশেষ যাত্রীদের নিরাপত্তায় লঞ্চঘাটে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। সেখানে নৌ পুলিশ, কোস্ট গার্ড, ফায়ার সার্ভিসের টিমসহ সার্বক্ষণিক একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত থাকবে। প্রতিদিন মনিটরিংয়ের মাধ্যমে নৌযান চলাচল ও যাত্রীদের নিরাপত্তায় কাজ করা হবে।

শরীফুল ইসলাম/এনএইচআর/এমএস

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow