চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে মাস্টার রোল কর্মচারীদের বিক্ষোভ

দৈনিক মজুরিভিত্তিক ও মাস্টার রোলে কর্মরত কর্মচারীদের চাকরি স্থায়ীকরণ, বিতর্কিত আউটসোর্সিং প্রথা বাতিল এবং বিনা কারণে চাকরিচ্যুত কর্মচারীদের পুনর্বহালের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছেন ভুক্তভোগী কর্মচারীরা। রোববার (২৬ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে বাংলাদেশ দৈনিক মজুরি ভিত্তিক কর্মচারী সমিতির ব্যানারে ভুক্তভোগীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যান। সেখানে তারা জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। পরে আদালত চত্বরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। এসময় তারা আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান উদ্যোগ না নিলে ৯ আগস্ট সচিবালয় অভিমুখে পদযাত্রার কর্মসূচি ঘোষণা করেন। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও মাঠপর্যায়ের সরকারি কার্যালয়ে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে মাস্টার রোলে রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবা দিয়ে আসছেন। কিন্তু গত ১৫ এপ্রিল ২০২৫ অর্থ বিভাগ কর্তৃক জারিকৃত ‘দৈনিক ভিত্তিতে সাময়িক শ্রমিক নিয়োজিতকরণ নীতিমালা, ২০২৫’ কর্মচারীদের সাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন করেছে। পরে এই নীতিমালার অজুহাতে

চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে মাস্টার রোল কর্মচারীদের বিক্ষোভ

দৈনিক মজুরিভিত্তিক ও মাস্টার রোলে কর্মরত কর্মচারীদের চাকরি স্থায়ীকরণ, বিতর্কিত আউটসোর্সিং প্রথা বাতিল এবং বিনা কারণে চাকরিচ্যুত কর্মচারীদের পুনর্বহালের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছেন ভুক্তভোগী কর্মচারীরা।

রোববার (২৬ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে বাংলাদেশ দৈনিক মজুরি ভিত্তিক কর্মচারী সমিতির ব্যানারে ভুক্তভোগীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যান।

সেখানে তারা জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। পরে আদালত চত্বরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। এসময় তারা আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান উদ্যোগ না নিলে ৯ আগস্ট সচিবালয় অভিমুখে পদযাত্রার কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও মাঠপর্যায়ের সরকারি কার্যালয়ে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে মাস্টার রোলে রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবা দিয়ে আসছেন। কিন্তু গত ১৫ এপ্রিল ২০২৫ অর্থ বিভাগ কর্তৃক জারিকৃত ‘দৈনিক ভিত্তিতে সাময়িক শ্রমিক নিয়োজিতকরণ নীতিমালা, ২০২৫’ কর্মচারীদের সাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন করেছে।

পরে এই নীতিমালার অজুহাতে মিটফোর্ড হাসপাতাল, সমাজসেবা অধিদপ্তর, ডাক বিভাগ, খাদ্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ রেলওয়েসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ইতোমধ্যে তিন হাজারেরও বেশি কর্মচারীকে বিনা কারণে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।

বিক্ষুব্ধ কর্মচারীরা অভিযোগ করেন, বর্তমানে সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মাস্টার রোল কর্মচারীদের আউটসোর্সিং ব্যবস্থার আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে। এই সিদ্ধান্তকে ‘আধুনিক দাসপ্রথা’ আখ্যা দিয়ে তারা বলেন, এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত কর্মচারীদের চাকরির নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

এ সময় তারা প্রধানমন্ত্রীর মানবিক নেতৃত্ব ও বিচক্ষণতার প্রতি আস্থা প্রকাশ করে বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে কর্মচারীদের ভবিষ্যৎ নিরাপদ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে তারা আশা করেন।

কর্মচারীদের দাবিগুলো হলো- বৈধ কারণ ও সুষ্ঠু তদন্ত ছাড়া অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত তিন হাজারেরও বেশি কর্মচারীকে অবিলম্বে স্ব-স্ব পদে পুনর্বহাল করতে হবে, দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারীদের আউটসোর্সিং ব্যবস্থায় হস্তান্তরের সব কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং ‌‘দৈনিক ভিত্তিতে সাময়িক শ্রমিক নিয়োজিতকরণ নীতিমালা, ২০২৫’ বাতিল করে বয়সসীমা শিথিলের মাধ্যমে মাস্টার রোল কর্মচারীদের চাকরি স্থায়ী করার কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

এসময় তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী ৩১ জুলাই ২০২৬-এর মধ্যে এসব দাবি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় আগামী ৯ আগস্ট ২০২৬ অর্থ সচিবের পদত্যাগের দাবিতে দেশব্যাপী বিক্ষোভ সমাবেশ এবং সচিবালয় অভিমুখে পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করা হবে।

মনির হোসেন মাহিন/এসজেডএইচ/এএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow