চার বছরেও শেষ হয়নি সড়কের কাজ, দুর্ভোগে এলাকাবাসী

পিরোজপুরের কাউখালীতে উপজেলার চিরাপাড়া-পারসাতুরিয়া ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় ফাজিল মাদ্রাসার সামনে নির্মাণাধীন বক্স কালভার্ট ও ৯০০ মিটার সড়কের কাজ দীর্ঘদিনেও সম্পন্ন না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রায় চার বছর আগে শুরু হওয়া প্রকল্পটির কাজ ঠিকাদারের খামখেয়ালিপনায় এখনো শেষ না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে এলাকাবাসীর মধ্যে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, জিয়ানগর উপজেলার মেসার্স ফয়সাল এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠান ১ কোটি ৩১ লাখ ৪২ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির কাজ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায়। ২০২২ সালের ১৯ অক্টোবর কাজ শুরু হয়ে ২০২৩ সালের ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে দীর্ঘ সময় পার হলেও এখন পর্যন্ত সড়কের পিচ ঢালাই ও বক্স কালভার্ট নির্মাণকাজ শুরুই হয়নি।  সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কালভার্টটি জরাজীর্ণ ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় খানাখন্দ। সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে পুরো রাস্তাটি চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ফলে প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী হাজারো মানুষ চর

চার বছরেও শেষ হয়নি সড়কের কাজ, দুর্ভোগে এলাকাবাসী
পিরোজপুরের কাউখালীতে উপজেলার চিরাপাড়া-পারসাতুরিয়া ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় ফাজিল মাদ্রাসার সামনে নির্মাণাধীন বক্স কালভার্ট ও ৯০০ মিটার সড়কের কাজ দীর্ঘদিনেও সম্পন্ন না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রায় চার বছর আগে শুরু হওয়া প্রকল্পটির কাজ ঠিকাদারের খামখেয়ালিপনায় এখনো শেষ না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে এলাকাবাসীর মধ্যে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, জিয়ানগর উপজেলার মেসার্স ফয়সাল এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠান ১ কোটি ৩১ লাখ ৪২ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির কাজ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায়। ২০২২ সালের ১৯ অক্টোবর কাজ শুরু হয়ে ২০২৩ সালের ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে দীর্ঘ সময় পার হলেও এখন পর্যন্ত সড়কের পিচ ঢালাই ও বক্স কালভার্ট নির্মাণকাজ শুরুই হয়নি।  সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কালভার্টটি জরাজীর্ণ ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় খানাখন্দ। সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে পুরো রাস্তাটি চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ফলে প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী হাজারো মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। স্থানীয়দের দাবি, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। সড়কের পাশে রয়েছে চিরাপাড়া কেন্দ্রীয় ফাজিল মাদ্রাসা, ইউনিয়ন ভূমি অফিস, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নূরানী মাদ্রাসা, হাফিজি মাদ্রাসাসহ দুটি সরকারি আবাসন এলাকার প্রবেশপথ। অথচ দীর্ঘদিন ধরে সড়ক ও কালভার্টটির উন্নয়নকাজ রহস্যজনকভাবে বন্ধ রয়েছে। এলাকার বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম দুলাল হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অনেক দিন ধরে সড়ক ও কালভার্টটির কোনো সংস্কার হয়নি। বৃষ্টির সময় পানি জমে চলাচল খুবই কষ্টকর হয়ে পড়ে। ঠিকাদার কাজ শুরু করার নাম করে আগেই রাস্তার পুরোনো ইট তুলে নেওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ এখন আরও কয়েক গুণ বেড়েছে। চিরাপাড়া কেন্দ্রীয় ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা হোসাইন আহমেদ বলেন, আমাদের মাদ্রাসাটি এই অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষাকেন্দ্র। কালভার্টটি বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকায় প্রতিদিন শিক্ষার্থী ও পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। চিরাপাড়া-পারসাতুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লাইকুজ্জামান মিন্টু বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এই সড়ক ও কালভার্টের বেহাল দশার বিষয়ে আমি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিত ও মৌখিকভাবে অবহিত করেছি। কিন্তু দুঃখের বিষয়, এখনো পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের ব্যবহৃত নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। জানতে চাইলে কাউখালী উপজেলা প্রকৌশলী ইমতিয়াজ হোসাইন রাসেল বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না করায় এবং কাজ বন্ধ রাখায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বারবার লিখিত নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু তাদের পক্ষ থেকে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। তাই কাজের গাফিলতির কারণে পিরোজপুর জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চুক্তি বাতিলের জন্য চূড়ান্ত সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সড়কের এ জনগুরুত্বপূর্ণ কাজটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চরম অবহেলার কারণে আটকে আছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। ইতোমধ্যে এলজিইডির পক্ষ থেকে ঠিকাদারের চুক্তি বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।  তিনি আরও বলেন, আমরা চেষ্টা করছি দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নতুন কোনো ব্যবস্থার মাধ্যমে কিংবা বিকল্প উপায়ে সড়ক ও কালভার্টের কাজ পুনরায় চালু করতে, যাতে বর্ষা মৌসুমে এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ লাঘব করা যায়।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow