চোরকে ধরে ইফতার করালেন শিক্ষার্থীরা 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আবাসিক শিক্ষার্থীদের কক্ষে চুরি করতে এসে ধরা পড়া এক যুবক শাস্তির বদলে মানবিকতার ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্তের মুখোমুখি হয়েছেন। মারধর বা অপমানের পথ বেছে না নিয়ে তাকে ইফতার করানো, কোরআন তেলাওয়াত করানো এবং পরে আইনি প্রক্রিয়ায় প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ইফতারির ঠিক পূর্ব মুহূর্তে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন সাউথ ক্যাম্পাসের মিনহাজ ভবনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। জানা যায়, রমজান মাসে একটি ভবনে চুরি করতে প্রবেশ করেছিল ওই যুবক। শিক্ষার্থীরা তাকে মারধর না করে ভিন্নধর্মী সিদ্ধান্ত নেন। তাকে কোরআন তেলাওয়াত করতে বলা হয় এবং শর্ত দেওয়া হয় শুদ্ধভাবে তেলাওয়াত করতে পারলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে। এ সময় যুবকটি চুরি করতে আসার কথা স্বীকারও করে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ইফতারের সময় ঘনিয়ে এলে শিক্ষার্থীরা যুবকটির মাথায় নামাজের টুপি পরিয়ে দেন এবং সুরা নাস তেলাওয়াত করতে বলেন। এরপর তাকে নিজেদের সঙ্গে বসিয়ে ইফতার করান। খেজুর, পানি ও অন্যান্য খাবারের পাশাপাশি তার পছন

চোরকে ধরে ইফতার করালেন শিক্ষার্থীরা 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আবাসিক শিক্ষার্থীদের কক্ষে চুরি করতে এসে ধরা পড়া এক যুবক শাস্তির বদলে মানবিকতার ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্তের মুখোমুখি হয়েছেন। মারধর বা অপমানের পথ বেছে না নিয়ে তাকে ইফতার করানো, কোরআন তেলাওয়াত করানো এবং পরে আইনি প্রক্রিয়ায় প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ইফতারির ঠিক পূর্ব মুহূর্তে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন সাউথ ক্যাম্পাসের মিনহাজ ভবনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

জানা যায়, রমজান মাসে একটি ভবনে চুরি করতে প্রবেশ করেছিল ওই যুবক। শিক্ষার্থীরা তাকে মারধর না করে ভিন্নধর্মী সিদ্ধান্ত নেন। তাকে কোরআন তেলাওয়াত করতে বলা হয় এবং শর্ত দেওয়া হয় শুদ্ধভাবে তেলাওয়াত করতে পারলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে। এ সময় যুবকটি চুরি করতে আসার কথা স্বীকারও করে।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ইফতারের সময় ঘনিয়ে এলে শিক্ষার্থীরা যুবকটির মাথায় নামাজের টুপি পরিয়ে দেন এবং সুরা নাস তেলাওয়াত করতে বলেন। এরপর তাকে নিজেদের সঙ্গে বসিয়ে ইফতার করান। খেজুর, পানি ও অন্যান্য খাবারের পাশাপাশি তার পছন্দ অনুযায়ী জিলাপিও কিনে আনা হয়। এমনকি মুড়ির সঙ্গে জিলাপি মিশিয়ে তাকে খাওয়ানো হয়, যা শিক্ষার্থীদের ভাষায় তার জন্য বিশেষ আয়োজন।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শী সাব্বির হাসান সাকিন বলেন, ‘আমাদের এক বন্ধু একজন অপরিচিত ব্যক্তিকে ফ্ল্যাটে প্রবেশ করতে দেখে সন্দেহ করেন। পরে ছাদে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়। তখন অনেকে তাকে আঘাত করতে চেয়েছিল, কিন্তু আমরা শিক্ষার্থীরা তা করতে দিইনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কোনো ভয়-ভীতি না দেখিয়ে তাকে তার পছন্দের খাবার জিলাপি খাইয়ে আমাদের সঙ্গে ইফতার করাই। ইফতার শেষে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে তার মা এসে অনুনয় ও বিনয়ের সঙ্গে অনুরোধ করেন, যেন তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি আমরা প্রশাসনের কাছে তুলে ধরি।’

ঘটনার খবর পেয়ে সেখানে উপস্থিত হন যুবকের মা। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। মাত্র তিন দিন আগে মাদক মামলায় হাজতবাস শেষে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছে। ছেলের পরিস্থিতির কথা ভেবে তাকে ক্ষমা করে দেন।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত শাহেদ ইসলাম কালবেলাকে বলেন, ‘ঘটনার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা দপ্তরের প্রধান ডেপুটি রেজিস্ট্রার আব্দুর রহিম স্যারের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করি। চুরির সন্দেহে ওই যুবককে নিরাপত্তা দপ্তরে আনা হয়। তবে তাকে আটক করা শিক্ষার্থীরা তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা করেননি। পরে তাকে হাটহাজারী থানা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তার বিরুদ্ধে পূর্বেও মামলা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।’

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow