চ্যাম্পিয়ন ‘যাযাবর’ নৌবাহিনী

জাতীয় অ্যাথলেটিকসে আবারও সেরা বাংলাদেশ নৌবাহিনী। এটা নতুন খবর নয়—২০১৬ সাল থেকে টানা চ্যাম্পিয়ন হচ্ছে সংস্থাটি। এই সাফল্যর পেছনে রয়েছে অনেক শ্রম, ঘাম এবং প্রতিকূলতার গল্প। নৌবাহিনী দলে একঝাঁক তারকা অ্যাথলেট থাকলেও দলের অ্যাথলেটিকসের সুনির্দিষ্ট কোনো কাঠামো নেই। কখনো ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়াম, কখনো ঢাকার বাইরের ভেন্যুতে অনুশীল করতে হয়। এমন ‘যাযাবর’ প্রস্তুতির লক্ষণ ময়দানি লড়াইয়ে নেই—অ্যাথলেটিকস ছাড়া সাঁতার, কাবাডিসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ক্রীড়া ডিসিপ্লিনে শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠা করছে নৌবাহিনী। অ্যাথলেটিকসে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর নিজস্ব অবকাঠামোর দাবি উচ্চারিত হচ্ছে জোরেশোরে। ‘সাফল্যর জন্য সম্ভাব্য সবকিছু করছেন নৌবাহিনীর স্যাররা। ক্রীড়াবিদদের মাঝেও নিবেদনের ঘাটতি নেই। তাতে আমরা কৃতজ্ঞ। নিজস্ব অবকাঠামোগত সুবিধা পেলে সাফল্যর পথটা আরও মসৃণ হবে। আমি নৌবাহিনীর দায়িত্বশীলদের কাছে অনুরোধ করব—যাতে অবকাঠামোর বিষয়টি নিশ্চিত করেন’—কালবেলাকে বলছিলেন সংস্থাটির জাম্প বিভাগের প্রধান কোচ আল আমিন। ২০০৯ সালে লং জাম্পে ৭.৬১ মিটার লাফিয়ে জাতীয় রেকর্ড গড়া সাবেক এই অ্যাথলেট আরও বলেন, ‘নির্দিষ্ট অবকাঠামো না থাকায় একেক

চ্যাম্পিয়ন ‘যাযাবর’ নৌবাহিনী
জাতীয় অ্যাথলেটিকসে আবারও সেরা বাংলাদেশ নৌবাহিনী। এটা নতুন খবর নয়—২০১৬ সাল থেকে টানা চ্যাম্পিয়ন হচ্ছে সংস্থাটি। এই সাফল্যর পেছনে রয়েছে অনেক শ্রম, ঘাম এবং প্রতিকূলতার গল্প। নৌবাহিনী দলে একঝাঁক তারকা অ্যাথলেট থাকলেও দলের অ্যাথলেটিকসের সুনির্দিষ্ট কোনো কাঠামো নেই। কখনো ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়াম, কখনো ঢাকার বাইরের ভেন্যুতে অনুশীল করতে হয়। এমন ‘যাযাবর’ প্রস্তুতির লক্ষণ ময়দানি লড়াইয়ে নেই—অ্যাথলেটিকস ছাড়া সাঁতার, কাবাডিসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ক্রীড়া ডিসিপ্লিনে শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠা করছে নৌবাহিনী। অ্যাথলেটিকসে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর নিজস্ব অবকাঠামোর দাবি উচ্চারিত হচ্ছে জোরেশোরে। ‘সাফল্যর জন্য সম্ভাব্য সবকিছু করছেন নৌবাহিনীর স্যাররা। ক্রীড়াবিদদের মাঝেও নিবেদনের ঘাটতি নেই। তাতে আমরা কৃতজ্ঞ। নিজস্ব অবকাঠামোগত সুবিধা পেলে সাফল্যর পথটা আরও মসৃণ হবে। আমি নৌবাহিনীর দায়িত্বশীলদের কাছে অনুরোধ করব—যাতে অবকাঠামোর বিষয়টি নিশ্চিত করেন’—কালবেলাকে বলছিলেন সংস্থাটির জাম্প বিভাগের প্রধান কোচ আল আমিন। ২০০৯ সালে লং জাম্পে ৭.৬১ মিটার লাফিয়ে জাতীয় রেকর্ড গড়া সাবেক এই অ্যাথলেট আরও বলেন, ‘নির্দিষ্ট অবকাঠামো না থাকায় একেক সময়, একেক ভেন্যুতে প্রস্তুতি নিতে হয়। এটা কষ্টসাধ্য।’ ২১ স্বর্ণ, ১৬ রুপা ও ১০ ব্রোঞ্জ পদক নিয়ে সেরার স্বীকৃতি পেয়েছে নৌবাহিনী। সম্মিলিত পদক তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অর্জন ১৭ স্বর্ণ, ২০ রুপা ও ২০ ব্রোঞ্জ পদক। ২ স্বর্ণ, ৩ রুপা ও ৪ ব্রোঞ্জ পদক নিয়ে তৃতীয় স্থান পেয়েছে বিকেএসপি। স্বর্ণ দুটি জিতেছেন দুই উদীয়মান—লং জাম্পে তামিম হোসেন ও ১০০ মিটার হার্ডলসে তাসমিয়া হোসেন। দুজনের বয়স এবং নৈপুণ্যে আশাব্যঞ্জক। জাতীয় অ্যাথলেটিকস ঘিরে সাবেক-বর্তমান ক্রীড়াবিদের মিলন মেলায় পরিণত হয়েছিল ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়াম কমপ্লেক্স। আসর দেখতে আসা নৌবাহিনীর সাবেক এক ক্রীড়াবিদও অবকাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানালেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই ক্রীড়াবিদ কালবেলাকে বলছিলেন, ‘সম্মিলিত পদক তালিকার সেরা তিন দলের মাঝে সবচেয়ে কম সুযোগ-সুবিধায় প্রস্তুতি নিয়েছেন নৌবাহিনীর ক্রীড়াবিদরা। তাদের প্রস্তুতির সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করাটা এখন সময়ের দাবি। তাতে একদিকে বাহিনীর ক্রীড়াবিদরা আরও শানিত হবেন। আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদদের সাফল্যর পথও সুগম হবে। এটা কেবল আমাদের দাবি নয়, এটা বর্তমান ক্রীড়াবিদদেরও দাবি। আশা করছি, আমাদের এই দাবিটা বিবেচনা করবে নৌবাহিনী কর্তৃপক্ষ।’

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow