জনবল ও ওষুধ সংকটে কিশোরগঞ্জের ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো নিজেই 'অসুস্থ'
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার বাহাগিলী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের নিচতলায় অফিস সহায়ক অলস সময় কাটাচ্ছেন, নেই কোনো রোগী বা মানুষের আনাগোনা। দোতলায় দুজন মহিলা বসে আলাপ করছেন। অথচ এই ভবনটি ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবাসহ ওষুধ নিশ্চিত করার কথা। চিকিৎসক, উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা, আয়া না থাকায় গত তিন মাস ধরে এই কেন্দ্রে চিকিৎসা সেবা বন্ধ রয়েছে। অফিস সহায়ক শুধু ভবন খোলেন আর বন্ধ করেন। মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে এই চিত্র দেখা যায়, যা প্রমাণ করে ইউনিয়ন পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র ও উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলো নিজেই যেন অসুস্থ।উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ জানায়, উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র এবং দুটি ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে। এসব কেন্দ্রে স্বাস্থ্য বিভাগের একজন চিকিৎসক, একজন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, একজন ফার্মাসিস্ট, একজন আয়া, একজন পিয়ন পদ রয়েছে। পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের একজন উপসহকারী মেডিকেল অফিসার, একজন স্বাস্থ্য পরিদর্শিকা পদ রয়েছে। তারা প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বেলা ২টা ৩০ মিনিট পর্য
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার বাহাগিলী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের নিচতলায় অফিস সহায়ক অলস সময় কাটাচ্ছেন, নেই কোনো রোগী বা মানুষের আনাগোনা। দোতলায় দুজন মহিলা বসে আলাপ করছেন। অথচ এই ভবনটি ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবাসহ ওষুধ নিশ্চিত করার কথা। চিকিৎসক, উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা, আয়া না থাকায় গত তিন মাস ধরে এই কেন্দ্রে চিকিৎসা সেবা বন্ধ রয়েছে। অফিস সহায়ক শুধু ভবন খোলেন আর বন্ধ করেন।
মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে এই চিত্র দেখা যায়, যা প্রমাণ করে ইউনিয়ন পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র ও উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলো নিজেই যেন অসুস্থ।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ জানায়, উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র এবং দুটি ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে। এসব কেন্দ্রে স্বাস্থ্য বিভাগের একজন চিকিৎসক, একজন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, একজন ফার্মাসিস্ট, একজন আয়া, একজন পিয়ন পদ রয়েছে। পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের একজন উপসহকারী মেডিকেল অফিসার, একজন স্বাস্থ্য পরিদর্শিকা পদ রয়েছে। তারা প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বেলা ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত রোগীদের পরামর্শ ও ওষুধ সরবরাহ করে সেবা দেওয়ার কথা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাহাগিলী স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে একজন চিকিৎসক, একজন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, একজন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা, একজন আয়া ও একজন অফিস সহায়ক—এই পদগুলো থাকলেও অফিস সহায়ক ছাড়া আর কোনো পদে লোক নেই। গর্ভবতী মাসহ সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতে আয়রন, ফলিক এসিড ও ক্যালসিয়াম ট্যাবলেটসহ ২৩ প্রকারের ওষুধ এই কেন্দ্র থেকে দেওয়া হতো। কিন্তু ওষুধ সরবরাহ না থাকায় সাধারণ গরিব চিকিৎসা সেবা প্রত্যাশীরা কেন্দ্রবিমুখ হয়ে পড়েছে। ফলে কেন্দ্রটি এখন শুধু একটি ভবনভিত্তিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
বাহাগিলী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের অফিস সহায়ক ফরতাছ আলী জানান, উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার অবসরে গেছেন এবং পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা বদলি হয়েছেন। তিনি নিজেই একমাত্র কর্মচারী। তার কাজ শুধু অফিস খোলা আর বন্ধ করা। ওষুধ বা চিকিৎসক না থাকায় কোনো রোগীও আসে না।
কেন্দ্রের দোতলায় থাকা দুজন মহিলাকে জিজ্ঞাসা করলে তারা জানান, তারা গর্ভবতী মায়েদের সেবায় 'ল্যাম্ব' প্রকল্পে কাজ করেছেন। প্রকল্প শেষ হলেও দোতলায় থেকে এখনো এই ইউনিয়নের গর্ভবতী মায়েদের সেবা প্রদান করছেন। সাবিনা নামের একজন বলেন, তারা গর্ভবতী নারীদের নরমাল ডেলিভারি, প্রসব পরবর্তী সেবা ও নবজাতকের পরামর্শ দেন। মায়েরা যে টাকা দেন, তা দিয়েই তারা চলেন। সাংবাদিকরা যখন প্রশ্ন করেন যে তারা তো এই কেন্দ্রের কেউ নন এবং টাকার বিনিময়ে সেবা দিচ্ছেন, তখন তিনি কৌশলে বলেন, এই কেন্দ্রে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার কেউ নেই, তাই তারা গর্ভবতী মায়েদের চিকিৎসা সেবা চালিয়ে যাচ্ছেন।
একই চিত্র দেখা গেছে উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতেও। চিকিৎসক ছাড়া অন্য পদে জনবল থাকলেও সঠিক সময়ে অফিসে না আসা, ফিল্ডের কথা বলে অফিস ফাঁকি দেওয়াই যেন তাদের চাকরিতে পরিণত হয়েছে। ফলে কিশোরগঞ্জের সাতটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসা সেবা ভেঙে পড়েছে।
একই দিন দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে নিতাই ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা ও আয়াকে পাওয়া গেলেও উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার, ফার্মাসিস্ট ও অফিস সহায়ককে পাওয়া যায়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার রুবেল নিয়মিত অফিস ফাঁকি দেন। নিজের খেয়াল খুশি মতো অফিস করেন—সকাল ১০টা থেকে ১১টায় অফিসে আসেন, আবার দুপুর ১২টায় চলে যান। একই চিত্র মাগুড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রেরও। ফলে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সাতটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র এবং উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের দুটি ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে গ্রামের সাধারণ মানুষরা চিকিৎসা ও ওষুধ পাচ্ছে না। তাদের কষ্ট করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা জেলা শহরে যেতে হচ্ছে, এতে গরীব ও সাধারণ চিকিৎসা সেবা প্রত্যাশীরা দুর্ভোগে পড়ছে। এই কেন্দ্রগুলো যেন 'লাইফ সাপোর্টে' রয়েছে।
বাহাগিলী ময়নাকুড়ি গ্রামের আজহারুল জানান, এই পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে চিকিৎসক বা কোনো ওষুধ নেই। শুধু অফিস খোলা আর বন্ধ করাই যেন তাদের কাজ। গ্রামের রোগীরা কার্যত কোনো চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে না।
নিতাই বেলতলি গ্রামের সোহাগ জানান, উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার রুবেল সকাল ১০টা-১১টার দিকে অফিসে আসেন এবং দুপুর ১২টার দিকে চলে যান। গ্রামের মানুষরা ওষুধ বা চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে না। তারা খেয়ালখুশি মতো অফিস করেন। ফলে গ্রামের দরিদ্র ও সাধারণ রোগীরা প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তিনি নিজেও গতকাল এসে ফেরত গেছেন।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ডাঃ জগদীশ জানান, বাহাগিলী কেন্দ্রের বিষয়টি তিনি শুনেছেন এবং বিষয়টি দেখছেন। তবে জনবল সংকট ও ওষুধ না থাকায় তাদের খুব সমস্যা হচ্ছে। কেন্দ্রগুলোতে স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতে তারা আরও মনিটরিং জোরদার করছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: নীল রতন দেব জানান, উপজেলার নয়টি ইউনিয়নের একটিতেও চিকিৎসক নেই। এছাড়াও জনবল সংকট তো রয়েছে। যারা চিকিৎসা সেবায় গাফিলতি করছে, ঠিকমতো অফিস করছে না বা গ্রামের মানুষদের সাথে চিকিৎসায় গাফিলতি করছে, খোঁজ নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জনবল সংকট সমস্যা সমাধান ও ওষুধ সরবরাহ স্বাভাবিক হলে সব সমস্যা কেটে যাবে বলে এই কর্মকর্তা জানান।
What's Your Reaction?