জনবল সংকট দূর করতে স্বাস্থ্যখাতে অধিক বরাদ্দ রেখেছে সরকার

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, জনবল সংকট দূর করতে স্বাস্থ্যখাতে অধিক বরাদ্দ রেখেছে সরকার। অনেক জেলায় আড়াইশ শয্যার হাসপাতালের অবকাঠামো তৈরি করা হলেও সেটি জনবলের অভাবে চালু করা যাচ্ছে না। তাই সরকার উদ্যোগী হয়ে দ্রুত জনবল নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রাঙ্গণে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হিসেবে আলোচনা সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। আগামী দুই মাসের মধ্যে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নতুন করে ১০টি আইসিইউ শয্যা যুক্ত করে ২০ শয্যায় ইউনিটকে উন্নীত করা হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, হাসপাতালে রোগীর সঙ্গে একজন টেনসেন্টের থাকার সুবিধা নেই, সেটি দ্রুত নিশ্চিত করা হবে। অ্যানেস্থেশিয়ার অভাবে অপারেশনে সমস্যা হচ্ছে। এ কারণে রোগীর মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ছে, আবার কোনো ক্ষেত্রে রোগী মারাও যাচ্ছে। অপারেশন চালু করতে প্রয়োজনীয় ঔষধ সরবরাহ করা হবে। তিনি বলেন, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উত্তরের দুই কোটি মানুষের চিকিৎসারস্থল হলেও এ হাসপাতালে নিরাপত্তার জন্য নেই কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা। তাই আগামী এক মাসের মধ্যে হাসপাতাল

জনবল সংকট দূর করতে স্বাস্থ্যখাতে অধিক বরাদ্দ রেখেছে সরকার

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, জনবল সংকট দূর করতে স্বাস্থ্যখাতে অধিক বরাদ্দ রেখেছে সরকার। অনেক জেলায় আড়াইশ শয্যার হাসপাতালের অবকাঠামো তৈরি করা হলেও সেটি জনবলের অভাবে চালু করা যাচ্ছে না। তাই সরকার উদ্যোগী হয়ে দ্রুত জনবল নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রাঙ্গণে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হিসেবে আলোচনা সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

আগামী দুই মাসের মধ্যে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নতুন করে ১০টি আইসিইউ শয্যা যুক্ত করে ২০ শয্যায় ইউনিটকে উন্নীত করা হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, হাসপাতালে রোগীর সঙ্গে একজন টেনসেন্টের থাকার সুবিধা নেই, সেটি দ্রুত নিশ্চিত করা হবে। অ্যানেস্থেশিয়ার অভাবে অপারেশনে সমস্যা হচ্ছে। এ কারণে রোগীর মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ছে, আবার কোনো ক্ষেত্রে রোগী মারাও যাচ্ছে। অপারেশন চালু করতে প্রয়োজনীয় ঔষধ সরবরাহ করা হবে।

তিনি বলেন, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উত্তরের দুই কোটি মানুষের চিকিৎসারস্থল হলেও এ হাসপাতালে নিরাপত্তার জন্য নেই কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা। তাই আগামী এক মাসের মধ্যে হাসপাতালে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। চুরি, ছিনতাই রোধে এক সপ্তাহের ভেতরে গোটা মেডিকেল ক্যাম্পাসে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন লাইট জ্বালিয়ে আলোকিত করা হবে। হাসপাতাল প্রাঙ্গণে জলাবদ্ধতা দূরীকরণসহ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে সিটি কর্পোরেশন।

জনবল সংকট মোকাবিলা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আউটসোর্সিং হিসেবে ১২৪ জন জনবল রয়েছে। এদের মাধ্যমে হাসপাতালে সঠিক সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই রংপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পক্ষ থেকে ১০ জন, রংপুর-৩ আসনের এমপির পক্ষ থেকে ৫ জনসহ জেলার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের আর্থিক সহযোগিতায় ৫০ জন আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগ করা হবে। এতে করে হাসপাতালে দালাল চক্র, ট্রলির মাধ্যমে পয়সা নেয়া বন্ধ হবে। প্রতিটি কর্মচারীকে বাধ্যতামূলকভাবে নির্ধারিত পোশাক পরানো ও পরিচয়পত্র নিশ্চিত করা হবে।

তিনি বলেন, নিরাপত্তার ক্ষেত্রে রংপুর মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প চালু করা হয়েছে। নার্সরা যেন রোগীদের সঙ্গে ভালো আচরণ করেন সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ডাক্তাররা যেন সময়মতো ডিউটি করেন, সেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমরা সবাই মিলে সহযোগিতা করতে পারলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চিকিৎসাক্ষেত্রে মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারবে।

লাশ পরিবহনে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট নিয়ে মন্ত্রী বলেন, লাশ পরিবহনের ক্ষেত্রে সিন্ডিকেট কাজ করে। আগামীতে অ্যাম্বুলেন্সগুলোকে হাসপাতালের তালিকাভুক্ত হতে হবে। তারা মাইলেজ অনুযায়ী ভাড়া নির্ধারণ করবে এবং চালানের মাধ্যমে টাকা দেওয়া হবে। এ নিয়ে সিটি কর্পোরেশন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও অ্যাম্বুলেন্স মালিক আলোচনা করবে। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৫ তলা ভবনে ৪৬০ শয্যার একটি ক্যান্সার, কিডনি, হৃদরোগ বিভাগের ভবন নির্মাণ চলছে। এটির কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে গণপূর্ত অধিদপ্তরকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ভবনটি চালু হলে হাসপাতালে রোগীর চাপ কমবে। এছাড়া হাসপাতালে যেসব যন্ত্রপাতি অকেজো রয়েছে এবং মেরামত যোগ্য নয় সেটি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলে নিলামে বিক্রির ব্যবস্থা করা হবে।

এ সময় রংপুর-৩ আসনের এমপি মাহবুবুর রহমান বেলাল, সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রেজেকা সুলতানা ফেন্সি, বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু, জেলা পরিষদ প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান, রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আনোয়ার হোসেন ও রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে, সকাল সাড়ে ১১টায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
তিনি ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের সাথে প্রায় ৪ ঘণ্টা বৈঠক করেন। এরপর তিনি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১৪ নম্বর ওয়ার্ড পরিদর্শন করেন।

জিতু কবীর/কেএইচকে/জেআইএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow