জাগো নিউজের সঙ্গে এক লেখকের বেড়ে ওঠার গল্প

এক যুগের সাফল্যগাথা! আজ জাগো নিউজ টুয়েন্টিফোর-এর ১২ বছর পূর্তি। ১২ বছরের এই পথচলা যেমন সাহসিকতার, তেমনি এটি তারুণ্যের জয়গানেরও প্রতিচ্ছবি। আমার লেখকজীবনের প্রথম বড় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে জাগো নিউজ সবসময়ই হৃদয়ের খুব কাছে। এই প্রতিষ্ঠানটি কেবল সংবাদ পরিবেশন করেনি, বরং আমার মতো অসংখ্য উদীয়মান লেখকের ভাষা আর সৃষ্টির আনন্দ জুগিয়েছে। এক যুগের এই পথ চলায় সাক্ষী হতে পারা গর্বের এবং আনন্দের। জাগো নিউজের সঙ্গে আমার পথচলাটা ছিল অন্যরকমভাবে। মফস্বলের এক ছোট শহর থেকে উঠে আসা একজন তরুণের জন্য দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে লেখার সুযোগ পাওয়া সহজ কোনো ব্যাপার ছিল না। তখন লেখালেখি ছিল প্রবল ভালোবাসার জায়গা, কিন্তু নিজের ভেতরে প্রশ্নও ছিল-আসলেই কি পারবো? আমার লেখা কি জাতীয় পর্যায়ের কোনো পত্রিকায় জায়গা পাবে? ঠিক সেই সময়েই জাগো নিউজ আমার আসে আমার প্রেরণার উৎস হিসেবে। আর এই যাত্রার শুরুটা হয়েছিল জাগো নিউজের সহ-সম্পাদক সালাহ উদ্দিন মাহমুদ ভাইয়ের হাত ধরে। তিনিই প্রথম আমার লেখার ওপর আস্থা রেখেছিলেন। একজন নতুন, অচেনা তরুণের লেখার ভেতরে সম্ভাবনা খুঁজে পাওয়া এবং সেটিকে প্রকাশের সুযোগ করে দেওয়া, এটি শুধু

জাগো নিউজের সঙ্গে এক লেখকের বেড়ে ওঠার গল্প

এক যুগের সাফল্যগাথা! আজ জাগো নিউজ টুয়েন্টিফোর-এর ১২ বছর পূর্তি। ১২ বছরের এই পথচলা যেমন সাহসিকতার, তেমনি এটি তারুণ্যের জয়গানেরও প্রতিচ্ছবি। আমার লেখকজীবনের প্রথম বড় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে জাগো নিউজ সবসময়ই হৃদয়ের খুব কাছে। এই প্রতিষ্ঠানটি কেবল সংবাদ পরিবেশন করেনি, বরং আমার মতো অসংখ্য উদীয়মান লেখকের ভাষা আর সৃষ্টির আনন্দ জুগিয়েছে। এক যুগের এই পথ চলায় সাক্ষী হতে পারা গর্বের এবং আনন্দের।

জাগো নিউজের সঙ্গে আমার পথচলাটা ছিল অন্যরকমভাবে। মফস্বলের এক ছোট শহর থেকে উঠে আসা একজন তরুণের জন্য দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে লেখার সুযোগ পাওয়া সহজ কোনো ব্যাপার ছিল না। তখন লেখালেখি ছিল প্রবল ভালোবাসার জায়গা, কিন্তু নিজের ভেতরে প্রশ্নও ছিল-আসলেই কি পারবো? আমার লেখা কি জাতীয় পর্যায়ের কোনো পত্রিকায় জায়গা পাবে?

ঠিক সেই সময়েই জাগো নিউজ আমার আসে আমার প্রেরণার উৎস হিসেবে। আর এই যাত্রার শুরুটা হয়েছিল জাগো নিউজের সহ-সম্পাদক সালাহ উদ্দিন মাহমুদ ভাইয়ের হাত ধরে। তিনিই প্রথম আমার লেখার ওপর আস্থা রেখেছিলেন। একজন নতুন, অচেনা তরুণের লেখার ভেতরে সম্ভাবনা খুঁজে পাওয়া এবং সেটিকে প্রকাশের সুযোগ করে দেওয়া, এটি শুধু সম্পাদকীয় দায়িত্ব নয়, একজন লেখকের জীবনে বড় অনুপ্রেরণাও।

আজও মনে আছে, প্রথম ফিচার প্রকাশ হওয়ার অনুভূতিটা। নিজের নামের নিচে প্রকাশিত একটি লেখা। নিজের স্বপ্নকে প্রথমবার স্পর্শ করার মুহূর্ত। মনে হয়েছিল, মফস্বলের ছোট্ট শহর থেকে লেখা শব্দগুলোও হয়তো সারাদেশের মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে।

এছাড়া আরও একটি বিষয় আজও গভীর আবেগ নিয়ে মনে পড়ে সেটা হলো লেখালেখির বিনিময়ে জীবনের প্রথম সম্মানী পাওয়ার অনুভূতি। জাগো নিউজই আমাকে প্রথম শিখিয়েছে, শব্দেরও মূল্য আছে। মানুষের গল্প লিখেও সম্মান পাওয়া যায়। হয়তো অঙ্কে খুব বড় কিছু ছিল না, কিন্তু সেই সম্মানী হাতে নিয়ে মনে হয়েছিল, এটি একজন তরুণ লেখকের স্বপ্নের প্রথম স্বীকৃতি। সেদিন নিজের ওপর বিশ্বাসটা আরও দৃঢ় হয়েছিল।

জাগো নিউজের সঙ্গে আমার সম্পর্ক শুধু কিছু লেখা প্রকাশ হওয়ার নয়; এটি আমার শেখার, বদলে যাওয়ার, মানুষকে আরও কাছ থেকে দেখার একটি জায়গা।

ফিচার সাংবাদিকতা আমাকে সবসময় টেনেছে। কারণ এখানে শুধু তথ্য থাকে না; থাকে মানুষ। থাকে সংগ্রাম, কান্না, আশা আর বেঁচে থাকার গল্প। করোনাকালীন সময়ে বগুড়ার সোনাতলার এক জুতা সেলাইকারীর গল্প লিখেছিলাম, ‘লকডাউনের ৫ দিনে দিলিপের আয় ১৫ টাকা!’। মহামারির সেই ভয়াবহ সময়ে মানুষটি প্রায় কর্মহীন হয়ে পড়েছিলেন। সংসারে অনিশ্চয়তা, চোখে হতাশা। প্রতিবেদনটি প্রকাশ হওয়ার পর বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ তার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। কেউ আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন, কেউ খোঁজ নিয়েছেন। তখন উপলব্ধি করেছি, একটি লেখা কখনো কখনো একজন মানুষের জীবনেও আলো হয়ে আসতে পারে।

আবার ‘কষ্টের জীবন থেকে ফিরে আসতে চান বেদেরা’ শিরোনামে বেদে পল্লীর মানুষদের নিয়ে কাজ করেছিলাম। তাদের শিশুদের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ, শিক্ষা থেকে দূরে থাকা, সমাজের অবহেলা, এসব কাছ থেকে দেখেছিলাম। প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন তাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল। কেউ শিক্ষাসামগ্রী দিয়েছে, কেউ খাদ্য সহায়তা, কেউ দীর্ঘমেয়াদি সাহায্যের আশ্বাস। তখন মনে হয়েছিল, সাংবাদিকতার সবচেয়ে সুন্দর দিক হয়তো এটিই-মানুষকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া।

এমন আরও অনেক গল্প আছে। করোনাকালীন কিশোরী, ফেরিওয়ালা কিংবা সমাজের প্রান্তিক মানুষের জীবন নিয়ে কাজ করতে গিয়ে বুঝেছি, ফিচার মানে শুধু শব্দের কারুকাজ নয়; ফিচার মানে মানুষের না-বলা গল্পগুলো তুলে আনা।

এই এক যুগে সংবাদমাধ্যমের জগৎ অনেক বদলেছে। দ্রুততার প্রতিযোগিতা বেড়েছে, তথ্যের ভিড়ে সত্যকে আলাদা করা কঠিন হয়েছে। কিন্তু তারপরও কিছু সংবাদমাধ্যম মানুষের গল্পকে গুরুত্ব দিয়েছে, প্রান্তিক মানুষের কণ্ঠ তুলে ধরেছে, সমাজের অদেখা দিকগুলো সামনে এনেছে। জাগো নিউজ সেই জায়গাটিতেই নিজের আলাদা অবস্থান তৈরি করেছে।

সবচেয়ে বড় কথা, এই প্ল্যাটফর্ম নতুনদের বিশ্বাস করতে জানে। একজন তরুণ লেখকের হাত ধরে তাকে এগিয়ে যাওয়ার সাহস দিতে জানে। আমি নিজেই তার একটি উদাহরণ।

আজ যখন পেছনে তাকাই, তখন মনে হয়-জাগো নিউজে প্রকাশিত লেখাগুলো শুধু কনটেন্ট ছিল না; এগুলো আমার জীবনেরই অংশ। কোনো গল্প লিখতে গিয়ে মানুষের চোখের জল দেখেছি, কখনো নিজেরও চোখ ভিজেছে। আবার কোনো প্রতিবেদন প্রকাশের পর কারো মুখে হাসি ফিরেছে শুনে বুক ভরে গেছে। একজন লেখকের জন্য এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কী হতে পারে?

আজকের এই এক যুগপূর্তিতে তাই শুধু শুভেচ্ছা নয়, গভীর কৃতজ্ঞতাও জানাতে চাই। বিশেষ করে সালাহ উদ্দিন মাহমুদ ভাইয়ের প্রতি, যিনি প্রথম বিশ্বাস করেছিলেন। সেই সম্পাদকদের প্রতি, যারা পাশে ছিলেন। আর সেই পাঠকদের প্রতি, যারা প্রতিটি লেখাকে আপন করে নিয়েছেন।

জীবনে হয়তো আরও অনেক জায়গায় লেখা হবে, আরও অনেক প্ল্যাটফর্ম আসবে। কিন্তু কিছু জায়গা সবসময় হৃদয়ের গভীরে থেকে যায়। জাগো নিউজ আমার কাছে ঠিক তেমনই, প্রথম বড় প্ল্যাটফর্ম। প্রথম জাতীয় পর্যায়ের অনলাইন সংবাদমাধ্যমে কাজ করার অভিজ্ঞতা। প্রথম প্রকাশিত স্বপ্ন। প্রথম সম্মানী। আর মানুষের জন্য লেখার প্রথম বিদ্যালয়।

জাগো নিউজের আগামী পথচলা হোক আরও সাহসী, আরও মানবিক, আরও সত্যনিষ্ঠ। কারণ সংবাদ শুধু তথ্য নয়, সংবাদ মানুষের গল্পও। আর সেই গল্পগুলো বলার সুযোগ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ, জাগো নিউজ। শুভ জন্মদিন।

কেএসকে

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow