জাবির আবাসিক হলে চুরির অভিযোগে এক নারীকে পুলিশে সোপর্দ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) নারী শিক্ষার্থীদের আবাসিক হলে চুরির সময় এক নারী চোরকে হাতেনাতে আটক করেছে হল প্রশাসন। পরে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। রোববার (২১ জুন) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম রোকেয়া হল ও শহিদ ফেলানী খাতুন হলে এ ঘটনা ঘটে।  হল প্রশাসন ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, আটক নারী হলে প্রবেশের সময় মোবাইল ফোনে কথা বলার ভান করে স্বাভাবিকভাবে ভেতরে ঢুকে পড়েন। এরপর তিনি শহিদ ফেলানী খাতুন হলের তৃতীয় ও চতুর্থ তলার বারান্দায় শুকাতে দেওয়া শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন মূল্যবান পোশাক ও ব্যক্তিগত সামগ্রী গোপনে নিজের ব্যাগে ভরতে থাকেন। চুরির একপর্যায়ে তিনি একটি কক্ষের সামনে রাখা শিক্ষার্থীদের দামি প্রসাধনসামগ্রী ও ফেসওয়াশ ব্যাগে ভরতে শুরু করেন। এ সময় কক্ষের ভেতরে থাকা এক আবাসিক শিক্ষার্থী বিষয়টি লক্ষ্য করেন। সন্দেহ হলে তিনি ওই নারীর পরিচয় জানতে চান। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তার আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় শিক্ষার্থীরা তাকে আটক করে হল অফিসে নিয়ে যান। আটকের পর প্রাথমিকভাবে তার কাছ থেকে একটি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। ওই ব্যাগে কিছু কাপড় ও ফেসওয়াশ পাওয়া যায়। এ সময় তিনি কান্নাকাটি শুরু করেন এব

জাবির আবাসিক হলে চুরির অভিযোগে এক নারীকে পুলিশে সোপর্দ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) নারী শিক্ষার্থীদের আবাসিক হলে চুরির সময় এক নারী চোরকে হাতেনাতে আটক করেছে হল প্রশাসন। পরে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। রোববার (২১ জুন) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম রোকেয়া হল ও শহিদ ফেলানী খাতুন হলে এ ঘটনা ঘটে।  হল প্রশাসন ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, আটক নারী হলে প্রবেশের সময় মোবাইল ফোনে কথা বলার ভান করে স্বাভাবিকভাবে ভেতরে ঢুকে পড়েন। এরপর তিনি শহিদ ফেলানী খাতুন হলের তৃতীয় ও চতুর্থ তলার বারান্দায় শুকাতে দেওয়া শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন মূল্যবান পোশাক ও ব্যক্তিগত সামগ্রী গোপনে নিজের ব্যাগে ভরতে থাকেন। চুরির একপর্যায়ে তিনি একটি কক্ষের সামনে রাখা শিক্ষার্থীদের দামি প্রসাধনসামগ্রী ও ফেসওয়াশ ব্যাগে ভরতে শুরু করেন। এ সময় কক্ষের ভেতরে থাকা এক আবাসিক শিক্ষার্থী বিষয়টি লক্ষ্য করেন। সন্দেহ হলে তিনি ওই নারীর পরিচয় জানতে চান। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তার আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় শিক্ষার্থীরা তাকে আটক করে হল অফিসে নিয়ে যান। আটকের পর প্রাথমিকভাবে তার কাছ থেকে একটি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। ওই ব্যাগে কিছু কাপড় ও ফেসওয়াশ পাওয়া যায়। এ সময় তিনি কান্নাকাটি শুরু করেন এবং নিজের সন্তান রয়েছে উল্লেখ করে সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করেন। তবে ঘটনার তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। হলের দায়িত্বে থাকা এটেনডেন্টরা ভবনের দ্বিতীয় তলা থেকে আরও দুটি পরিত্যক্ত ব্যাগ উদ্ধার করেন। এর মধ্যে একটিতে বিপুল পরিমাণ চুরি করা জামা-কাপড় পাওয়া যায়। অপর ব্যাগটি ছিল বিভিন্ন ফ্রিজ থেকে চুরি করা মাছ ও মাংসে ভর্তি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, শহিদ ফেলানী খাতুন হলে প্রবেশের আগে তিনি বেগম রোকেয়া হলের বিভিন্ন কক্ষের ফ্রিজ থেকে মাছ ও মাংস চুরি করেছিলেন। পরে সেগুলো ব্যাগে ভরে অন্য হলে নিয়ে যান। ঘটনার পরপরই হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশুলিয়া থানায় খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে নারী পুলিশ সদস্যসহ পুলিশের একটি দল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আসে। পরে আটক নারীকে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে হল প্রশাসন বাদী হয়ে ওই নারীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে। শহিদ ফেলানী খাতুন হলের প্রভোস্ট শামীমা নাসরীন জলি বলেন, হলের দুজন স্টাফকে থানায় পাঠানো হয়েছে। তারা বাদি হয়ে ওই নারীর বিরুদ্ধে মামলা করবেন। পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow