জিডিপিতে বিনিয়োগ ৩১.৪ শতাংশে নেওয়ার পরিকল্পনা, বাস্তবায়নযোগ্য কতটা?
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিনিয়োগ বর্তমানে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়। একদিকে, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) চূড়ান্ত হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জিডিপির তুলনায় বিনিয়োগের হার নেমে এসেছে ২৮ দশমিক ৫৪ শতাংশে। অন্যদিকে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সরকার এ হার বাড়িয়ে ৩১ দশমিক ৪ শতাংশে উন্নীত করার উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করতে যাচ্ছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বিনিয়োগের এ ব্যবধান কেবল পরিসংখ্যানগত পার্থক্য নয়, এটি অর্থনীতির বাস্তব অবস্থা ও সরকারের প্রত্যাশার মধ্যকার দূরত্বকেই তুলে ধরে। তাদের ভাষ্য, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় বিনিয়োগে এমন বড় ধরনের উল্লম্ফন অর্জন করা বেশ চ্যালেঞ্জিং এবং লক্ষ্যটি অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী। তাদের মতে, বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। একদিকে প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর প্রয়োজন, অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক খাতের সংস্কার এবং বিনিয়োগ পুনরুদ্ধারের চ্যালেঞ্জ। এ পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনাই সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য শুধু বাজেটে উচ্চ লক্ষ্য নির্ধারণ নয়, বরং স্থিতিশীল অর্থনীতি, সহজ ব্যবসা পরি
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিনিয়োগ বর্তমানে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়। একদিকে, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) চূড়ান্ত হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জিডিপির তুলনায় বিনিয়োগের হার নেমে এসেছে ২৮ দশমিক ৫৪ শতাংশে। অন্যদিকে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সরকার এ হার বাড়িয়ে ৩১ দশমিক ৪ শতাংশে উন্নীত করার উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করতে যাচ্ছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বিনিয়োগের এ ব্যবধান কেবল পরিসংখ্যানগত পার্থক্য নয়, এটি অর্থনীতির বাস্তব অবস্থা ও সরকারের প্রত্যাশার মধ্যকার দূরত্বকেই তুলে ধরে। তাদের ভাষ্য, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় বিনিয়োগে এমন বড় ধরনের উল্লম্ফন অর্জন করা বেশ চ্যালেঞ্জিং এবং লক্ষ্যটি অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী।
তাদের মতে, বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। একদিকে প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর প্রয়োজন, অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক খাতের সংস্কার এবং বিনিয়োগ পুনরুদ্ধারের চ্যালেঞ্জ। এ পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনাই সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য শুধু বাজেটে উচ্চ লক্ষ্য নির্ধারণ নয়, বরং স্থিতিশীল অর্থনীতি, সহজ ব্যবসা পরিবেশ এবং বিশ্বাসযোগ্য নীতিগত কাঠামো নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বিবিএসের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট বিনিয়োগ জিডিপির ২৮ দশমিক ৫৪ শতাংশে নেমে এসেছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৩০ দশমিক ৭০ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বিনিয়োগ কমেছে ২ দশমিক ১৬ শতাংশ পয়েন্ট।
সবচেয়ে বেশি কমেছে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বেসরকারি বিনিয়োগ ছিল জিডিপির ২৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ। এক বছর পর তা কমে দাঁড়িয়েছে ২২ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশে। সরকারি বিনিয়োগও সামান্য কমে ৫ দশমিক ৮০ শতাংশে নেমেছে।
আরও পড়ুন
ইসলামী ব্যাংক নিয়ে আইন মেনেই সিদ্ধান্ত: বাংলাদেশ ব্যাংক
শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ এখন কতটা নিরাপদ?
আইএমএফের সঙ্গে নতুন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু সরকারের
একই সময়ে সঞ্চয়ের হারও কমেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশীয় সঞ্চয় জিডিপির ২১ দশমিক ৯৮ শতাংশে নেমে এসেছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ২৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ। জাতীয় সঞ্চয়ের হার ২৮ দশমিক ৪২ শতাংশ থেকে কমে ২৭ দশমিক ৬৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে আগামী (২০২৬-২৭) অর্থবছরের বাজেটে মোট বিনিয়োগ জিডিপির ৩১ দশমিক ৪০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করতে যাচ্ছে সরকার। এর মধ্যে বেসরকারি বিনিয়োগ ২৪ দশমিক ৯০ শতাংশ এবং সরকারি বিনিয়োগ ৬ দশমিক ৫০ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকার একই সঙ্গে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি, ৭ দশমিক ৫ শতাংশ মূল্যস্ফীতি, জিডিপির ১০ দশমিক ১৭ শতাংশ রাজস্ব আয় এবং ৩ দশমিক ৪৪ শতাংশ বাজেট ঘাটতির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে যাচ্ছে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের জিডিপির আকার ৬৮ লাখ ৩১ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকায় পৌঁছাবে বলে প্রক্ষেপণ করা হয়েছে। এ হিসাবে আগামী অর্থবছরে বিনিয়োগের পরিমাণ টাকার অঙ্কে দাঁড়াবে ২১ লাখ ৪৫ হাজার ১৩৩ কোটি টাকা। চলতি (২০২৫-২৬) অর্থবছরে মোট বিনিয়োগ জিডিপির ৩১ দশমিক ৩ শতাংশ ধরা হয়েছিল, যা টাকার অঙ্কে ১৯ লাখ ৫৪ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা।
এদিকে, আগামী অর্থবছরে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ ২৪ দশমিক ৯০ শতাংশ ধরা হলে টাকার পরিমাণে তা দাঁড়াবে ১৭ লাখ ১ হাজার ৭৭ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছর বেসরকারি বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় জিডিপির ২৪ দশমিক ৭০ শতাংশ। টাকার অঙ্কে এর পরিমাণ ১৫ লাখ ৪২ হাজার ৪১৬ কোটি টাকা।
অন্যদিকে, সরকারি বিনিয়োগ ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ ধরা হলে টাকার পরিমাণে তা দাঁড়াবে ৪ লাখ ৪৪ হাজার ৫৬ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে সরকারি বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৬ দশমিক ৬০ শতাংশ। টাকার অঙ্কে এর পরিমাণ ৪ লাখ ১২ হাজার ১৪৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ টাকার অঙ্কে আগামী অর্থবছরে সরকারি বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়লেও, জিডিপির শতাংশের হারের দিক থেকে কম ধরা হচ্ছে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ?
অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান এবং শিল্পায়নের প্রধান চালিকাশক্তি হলো বিনিয়োগ। নতুন কারখানা, অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বিনিয়োগ অর্থনীতির সম্প্রসারণ ঘটায়। বিশ্বব্যাপী দ্রুত উন্নয়নশীল দেশগুলোর অভিজ্ঞতা বলছে, দীর্ঘমেয়াদে উচ্চ প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে হলে জিডিপির ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ বা তারও বেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন হয়।
আরও পড়ুন
ভ্যাটের আওতায় আসছে লক্ষাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান
কোরবানির ঈদে ৪ লাখ কোটি টাকার বাণিজ্যের আভাস দোকান ব্যবসায়ী সমিতির
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে উদ্বেগ অর্থনীতিবিদদের
আমাদের দেশে বিনিয়োগ কমার সরাসরি আঘাতটি আসে দেশের তরুণ প্রজন্মের ওপর। প্রতিবছর শ্রমবাজারে লাখ লাখ শিক্ষিত তরুণ যুক্ত হচ্ছেন। কিন্তু নতুন কলকারখানা বা ব্যবসা গড়ে না উঠলে এই বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য মানসম্মত কর্মসংস্থান তৈরি করা অসম্ভব। ফলে দেশে শিক্ষিত বেকারত্বের হার বাড়ছে, যা সামাজিক বৈষম্য আরও তীব্র করছে।
এদিকে, সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য ঘোষণা করেছে। সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য বিনিয়োগ বৃদ্ধিকে বাজেটের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিনিয়োগ বাড়াতে কী করতে হবে?
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, শুধু উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করলেই বিনিয়োগ বাড়বে না। এজন্য বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
তার মতে, বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রধানত তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতার ওপর আস্থা থাকতে হবে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি দীর্ঘস্থায়ী হলে, ব্যাংকিং খাত দুর্বল অবস্থায় থাকলে এবং বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের ব্যবস্থাপনা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলে বিনিয়োগকারীরা নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ হারান।
শুধু উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করলেই বিনিয়োগ বাড়ে না, এজন্য প্রয়োজন বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ। অর্থনীতির স্থিতিশীলতা, নিয়ন্ত্রিত মূল্যস্ফীতি, শক্তিশালী ব্যাংকিং খাত এবং বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে আস্থা থাকলেই বিনিয়োগকারীরা নতুন বিনিয়োগে আগ্রহী হন।— বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন
তিনি বলেন, বিনিময় হার নির্ধারণে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ভূমিকা কী হবে, আর্থিক খাতের সংস্কারে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের কর্মপরিকল্পনা কী এসব বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি।
দ্বিতীয়ত, বিনিয়োগ-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসনিক জটিলতা দূর করতে হবে বলে মনে করেন এই বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ। তিনি বলেন, বর্তমানে একটি ব্যবসা বা শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের ক্ষেত্রে কোম্পানি নিবন্ধন, জমি রেজিস্ট্রেশন, পরিবেশগত ছাড়পত্র, শ্রম আইন প্রতিপালনসহ নানা ধরনের অনুমোদন প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা রয়েছে।
তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে একটি আবেদন নিষ্পত্তি হতে ছয় থেকে সাত মাস পর্যন্ত সময় লাগে। ফলে বিনিয়োগকারীদের অতিরিক্ত খরচ ও হয়রানির মুখে পড়তে হয়। সরকার যেহেতু ‘ডিরেগুলেশন’ বা নিয়ন্ত্রক জটিলতা কমানোর কথা বলছে, তাই কোন কোন ক্ষেত্রে কী ধরনের সংস্কার আনা হবে সে বিষয়ে সুস্পষ্ট রূপরেখা দিতে হবে।
তৃতীয়ত, নীতির ধারাবাহিকতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করতে হবে- বলে মনে করেন ড. জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীরা জানতে চান সরকারের ঘোষিত নীতিগুলো কতটা স্থায়ী এবং কোন পরিস্থিতিতে সেগুলো পরিবর্তিত হতে পারে।
আরও পড়ুন
রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধিতে স্থিতিশীল করনীতি, ব্যবসা সহজীকরণ জরুরি
বাড়ছে উৎসে কর, নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে দুশ্চিন্তায় সাধারণ মানুষ
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে একটি স্বচ্ছ সূত্র থাকলে বিনিয়োগকারীরা আগে থেকেই সম্ভাব্য পরিবর্তন সম্পর্কে ধারণা রাখতে পারেন। একইভাবে ব্যাংক একীভূতকরণসহ অন্যান্য অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচির ক্ষেত্রেও ধারাবাহিকতা থাকা জরুরি। এই নীতিগত বিশ্বাসযোগ্যতা বা ‘ক্রেডিবিলিটি’ বিনিয়োগ আকর্ষণের অন্যতম শর্ত।
বাজেটে কী করতে চায় সরকার?
সরকারের বাজেট পরিকল্পনায় বিনিয়োগ পরিবেশের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে ডিরেগুলেশন কার্যক্রম গ্রহণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি আর্থিক খাত পুনর্গঠনের মাধ্যমে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, উদ্যোক্তা সৃষ্টি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন, গবেষণা ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগ এবং বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া কল্যাণকর অর্থনীতির ভিত্তি স্থাপনে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তার খাত সম্প্রসারণ, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলা, স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন এবং সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশকেও বাজেটের অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। জনগণের দোরগোড়ায় উন্নত চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও বাজেটে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে বিনিয়োগের গতি বাড়বে এবং অর্থনীতি আবার উচ্চ প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরবে।
বাস্তবতা বনাম লক্ষ্য
ড. জাহিদ হোসেন মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে অল্প সময়ের মধ্যে মোট বিনিয়োগের হার জিডিপির ২৮ শতাংশ থেকে ৩১ দশমিক ৪০ শতাংশে উন্নীত করা বাস্তবসম্মত নয়। এটি একটি উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য হতে পারে, তবে বিনিয়োগকে প্রথমে ঘুরে দাঁড়ানোর পথে ফিরিয়ে আনা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা কিংবা বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এসব ঝুঁকি শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, সব দেশের জন্যই প্রযোজ্য। তাই সরকারের উচিত এমন একটি নীতিগত পরিবেশ তৈরি করা, যাতে বিনিয়োগকারীরা বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও ব্যবসা পরিচালনার আস্থা পান।
এমএএস/এমএএইচ/এমএফএ
What's Your Reaction?