জীবন বাঁচানোর যুদ্ধে শিক্ষক, প্রয়োজন সবার সহযোগিতা

একজন বাবার জীবনের দুই দশক কেটেছে সন্তানের চিকিৎসার পেছনে ছুটতে ছুটতে। দেশে-বিদেশে হাসপাতাল, চিকিৎসকের পরামর্শ, ওষুধ আর চিকিৎসার ব্যয়—সবকিছুর ভার কাঁধে নিয়ে নিজের সঞ্চয় বলতে কিছুই রাখেননি মো. আলী আনোয়ার। কিন্তু নিয়তি যেন তার জন্য আরও কঠিন পরীক্ষা রেখে দিয়েছিল। ২০২৫ সালের অক্টোবর। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন আনোয়ার। চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে জানতে পারেন, তার দুটি কিডনিই কার্যক্ষমতা হারিয়েছে। এখন সপ্তাহে দুই দিন ডায়ালাইসিস নিতে হচ্ছে তাকে। চিকিৎসকের পরামর্শ, দ্রুত কিডনি প্রতিস্থাপন করতে হবে। সন্তানের চিকিৎসায় দীর্ঘদিনের সঞ্চয় শেষ করে ফেলা এই শিক্ষকের সামনে এখন নিজের চিকিৎসার বিপুল ব্যয়। ফলে জীবন বাঁচাতে চিকিৎসার পাশাপাশি তাকে এখন মানুষের সহযোগিতারও প্রয়োজন হচ্ছে। আলী আনোয়ার রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুলের আজিমপুর শাখায় ইংরেজি বিভাগের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। জীবন শুরু সংগ্রাম দিয়ে আনোয়ারের জন্ম নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার মাঝগ্রাম ইউনিয়নের আগরান গ্রামে। তিনি মৃত মসলেম উদ্দিন ভূইয়ার ছেলে। তার বয়স যখন মাত্র দুই বছর, তখন তার বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করেন। দুই বছর পর বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হলে চার বছর বয়সেই মা

জীবন বাঁচানোর যুদ্ধে শিক্ষক, প্রয়োজন সবার সহযোগিতা

একজন বাবার জীবনের দুই দশক কেটেছে সন্তানের চিকিৎসার পেছনে ছুটতে ছুটতে। দেশে-বিদেশে হাসপাতাল, চিকিৎসকের পরামর্শ, ওষুধ আর চিকিৎসার ব্যয়—সবকিছুর ভার কাঁধে নিয়ে নিজের সঞ্চয় বলতে কিছুই রাখেননি মো. আলী আনোয়ার। কিন্তু নিয়তি যেন তার জন্য আরও কঠিন পরীক্ষা রেখে দিয়েছিল।

২০২৫ সালের অক্টোবর। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন আনোয়ার। চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে জানতে পারেন, তার দুটি কিডনিই কার্যক্ষমতা হারিয়েছে। এখন সপ্তাহে দুই দিন ডায়ালাইসিস নিতে হচ্ছে তাকে। চিকিৎসকের পরামর্শ, দ্রুত কিডনি প্রতিস্থাপন করতে হবে।

সন্তানের চিকিৎসায় দীর্ঘদিনের সঞ্চয় শেষ করে ফেলা এই শিক্ষকের সামনে এখন নিজের চিকিৎসার বিপুল ব্যয়। ফলে জীবন বাঁচাতে চিকিৎসার পাশাপাশি তাকে এখন মানুষের সহযোগিতারও প্রয়োজন হচ্ছে।

আলী আনোয়ার রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুলের আজিমপুর শাখায় ইংরেজি বিভাগের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।

জীবন শুরু সংগ্রাম দিয়ে

আনোয়ারের জন্ম নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার মাঝগ্রাম ইউনিয়নের আগরান গ্রামে। তিনি মৃত মসলেম উদ্দিন ভূইয়ার ছেলে। তার বয়স যখন মাত্র দুই বছর, তখন তার বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করেন। দুই বছর পর বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হলে চার বছর বয়সেই মায়ের হাত ধরে বাবার বাড়ি ছাড়তে হয় তাকে।

মায়ের সঙ্গে আশ্রয় নেন পাশের উপজেলা গুরুদাসপুরের চন্দ্রপুর গ্রামে নানাবাড়িতে। কিন্তু সেখানেও সচ্ছলতা ছিল না। ছেলের পড়াশোনা চালিয়ে নিতে মা অন্যের বাড়িতে কাজ করতেন। বাবার কাছ থেকে ভরণপোষণ পাওয়া তো দূরের কথা, জীবনের দীর্ঘ সময়েও বাবার তেমন খোঁজ পাননি আনোয়ার।

এরপর বাবার মৃত্যুর আগেই সৎ ভাইয়েরা পৈতৃক সম্পত্তি নিজেদের নামে লিখে নেন। ফলে উত্তরাধিকার থেকেও বঞ্চিত হন তিনি।

তবু থেমে থাকেননি আনোয়ার। পড়াশোনায় মেধাবী হওয়ায় স্থানীয় শিক্ষকেরা তার পাশে দাঁড়ান। স্কুলের মাসিক বেতন ও পরীক্ষার ফি মওকুফ করে তাকে পড়ার সুযোগ করে দেন তারা। এসএসসি পরীক্ষার আগে এক বছর প্রধান শিক্ষক তাকে নিজের বাড়িতে রেখে পড়িয়েছেন।

কৈশোরে অন্যের জমিতে কৃষিশ্রমিকের কাজও করেছেন আনোয়ার। সেই উপার্জন দিয়ে চালিয়েছেন নিজের পড়াশোনা।

১৯৯০ সালে গুরুদাসপুর উপজেলার হালসা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ১৯৯২ সালে নাটোরের নবাব সিরাজ-উদ্-দৌলা সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। এরপর কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় কুষ্টিয়া শহরের একটি মেসে থেকে টিউশনি করে নিজের খরচ চালিয়েছেন।

২০০০ সালের গোড়ার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করে ঢাকায় আসেন আনোয়ার। কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির পর বিয়ে করেন। একসময় তার পরিবারে জন্ম নেয় একটি ছেলে সন্তান।

সন্তান জন্মের প্রায় দেড় বছর পর পরিবার জানতে পারে, সে বাকপ্রতিবন্ধী। এরপর সন্তানের চিকিৎসাই হয়ে ওঠে আনোয়ারের জীবনের প্রধান দায়িত্ব।

এ সময় বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে চাকরি পান তিনি। কিন্তু পদায়ন হয় নাটোরের প্রত্যন্ত এলাকায়। সন্তানের চিকিৎসার জন্য রাজধানী থেকে দূরে থাকা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত সরকারি চাকরি ছেড়ে ঢাকার ভিকারুননিসা নূন স্কুলের আজিমপুর শাখায় শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন আলী আনোয়ার।

এরপর কেটে যায় বছরের পর বছর। সন্তানের চিকিৎসার জন্য তাকে দেশে-বিদেশে ছুটতে হয়েছে। বিশেষ করে ভারতের সিএমসি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে নিয়মিত যাতায়াত করতে হয়েছে।

প্রায় দুই দশকের এই চিকিৎসাযাত্রায় নিজের সঞ্চয় বলতে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই তার।

আনোয়ারের সন্তানের বয়স এখন ২২ বছর। এত দীর্ঘ চিকিৎসার পরও তিনি পুরোপুরি সুস্থ হননি। দু-একটি বাক্য বলতে পারলেও স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারেন না।

সন্তানের চিকিৎসা, পরিবারের দায়িত্ব এবং চাকরি—সবকিছু সামলে এতদিন শিক্ষকতার আয় দিয়েই সংসার চালিয়েছেন আনোয়ার। নিজের প্রয়োজনকে পেছনে রেখে সন্তানের চিকিৎসাকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন তিনি।

কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলে গেছে। যে বাবা এতদিন সন্তানের জন্য চিকিৎসার দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন, তাকেই এখন নিজের জীবন বাঁচাতে চিকিৎসার প্রয়োজন হচ্ছে।

২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে অসুস্থ হওয়ার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ধরা পড়ে, আনোয়ারের দুটি কিডনিই অকার্যকর হয়ে গেছে। এরপর থেকে ধীরে ধীরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে।

বর্তমানে সপ্তাহে দুই দিন ডায়ালাইসিস নিতে হচ্ছে তাকে। চিকিৎসকরা দ্রুত কিডনি প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু কিডনি প্রতিস্থাপনসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যয় বহন করার মতো আর্থিক সামর্থ্য তার নেই।

দীর্ঘদিন সন্তানের চিকিৎসায় ব্যয় করে প্রায় নিঃস্ব হয়ে পড়ার পর এবার নিজের চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতে গিয়ে দিশেহারা আনোয়ার।

তিনি বলেন, জীবনের শুরু থেকেই সংগ্রাম করে এসেছেন। সন্তানের চিকিৎসার জন্য নিজের সাধ্যের সবটুকু ব্যয় করেছেন। এখন নিজের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ একার পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব নয়।

আলী আনোয়ারের ভাষায়, সমাজের সামর্থ্যবান ও হৃদয়বান মানুষ পাশে দাঁড়ালে তিনি আবার সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চান।

সহায়তার আবেদন

পরিবারের পক্ষ থেকে মানবিক সহায়তা গ্রহণের জন্য ব্যাংক হিসাব ও বিকাশ নম্বর দেওয়া হয়েছে।

ব্যাংক হিসাব: ০০১২১০০০৩৬৮৫০
হিসাবের নাম: উম্মে কুলসুম কান্তা (স্ত্রী)
ব্যাংক: সাউথইস্ট ব্যাংক পিএলসি, ধানমণ্ডি শাখা, ঢাকা
বিকাশ: ০১৭১৫৮৬৫১৬১

দুই দশক ধরে সন্তানের চিকিৎসার জন্য লড়াই করেছেন যে শিক্ষক, আজ তাকেই নিজের জীবন বাঁচানোর লড়াই করতে হচ্ছে। একসময় অন্যের সহযোগিতায় পড়াশোনা চালিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়েছিলেন আনোয়ার। আজও মানুষের সহযোগিতাই তার সামনে নতুন করে বেঁচে থাকার আশার দরজা খুলে দিতে পারে।

এমএমএআর

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow