জুলাই সনদকে অপ্রয়োজনীয় বলায় সংসদে হইচই

জুলাই জাতীয় সনদকে অপ্রয়োজনীয় বলা নিয়ে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে হইচই হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) মাগরিবের নামাজের বিরতির আগে এ ঘটনা ঘটে। এসময় রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপির সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল করিম একপর্যায়ে বিরোধীদলের উদ্দেশে বলেন, ‘এই সংসদের প্রথম দিন থেকেই আননেসেসারি (অপ্রয়োজনীয়) একটি জুলাই সনদ নিয়ে বিতর্ক শুরু করেছে।’ মঞ্জুরুল করিমের বক্তব্যের পর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়ান জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার গঠন হয়েছে জানিয়ে বলেন, ‘আজকে এই মহান সংসদে জুলাইকে অপ্রয়োজনীয় বলা হয়েছে...এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। জুলাই সনদকে অপ্রয়োজনীয় বলা হয়েছে। এটা কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য…।’ এসময় সংসদ সদস্যরা হইচই শুরু করেন। তখন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা যা কিছু বলবেন স্পিকারকে উদ্দেশ করে বলবেন। সদস্যবৃন্দ এখানে তো বিভিন্ন দলের প্রতিনিধি। প্রত্যেকের কি একই অনুভব হতে পারে? গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হলো মতভিন্নতা। সুতরাং এ বাকস্বাধীনতার সফলতা নিয়ে, বাকস্বাধীনতার কারণে যে যার বক্তব্য খো

জুলাই সনদকে অপ্রয়োজনীয় বলায় সংসদে হইচই

জুলাই জাতীয় সনদকে অপ্রয়োজনীয় বলা নিয়ে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে হইচই হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) মাগরিবের নামাজের বিরতির আগে এ ঘটনা ঘটে।

এসময় রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপির সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল করিম একপর্যায়ে বিরোধীদলের উদ্দেশে বলেন, ‘এই সংসদের প্রথম দিন থেকেই আননেসেসারি (অপ্রয়োজনীয়) একটি জুলাই সনদ নিয়ে বিতর্ক শুরু করেছে।’

মঞ্জুরুল করিমের বক্তব্যের পর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়ান জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার গঠন হয়েছে জানিয়ে বলেন, ‘আজকে এই মহান সংসদে জুলাইকে অপ্রয়োজনীয় বলা হয়েছে...এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। জুলাই সনদকে অপ্রয়োজনীয় বলা হয়েছে। এটা কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য…।’

এসময় সংসদ সদস্যরা হইচই শুরু করেন। তখন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা যা কিছু বলবেন স্পিকারকে উদ্দেশ করে বলবেন। সদস্যবৃন্দ এখানে তো বিভিন্ন দলের প্রতিনিধি। প্রত্যেকের কি একই অনুভব হতে পারে? গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হলো মতভিন্নতা। সুতরাং এ বাকস্বাধীনতার সফলতা নিয়ে, বাকস্বাধীনতার কারণে যে যার বক্তব্য খোলাখুলিভাবে জাতীয় সংসদে প্রকাশ করতে পারেন।’

তারপরও সংসদ সদস্যরা হইচই করতে থাকেন। তখন হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘যখন স্পিকার কথা বলেন, অনুগ্রহ করে সবাই চুপ করে বসে থাকবেন নিজের আসনে। আমি যেটা বলতে চাই, সবারই বাকস্বাধীনতা আছে এবং যদি কোনো বক্তব্য আপনাদের পছন্দ না হয়, এরপরই তো আপনারা একজন বক্তব্য রাখবেন। এই বক্তব্যের বিরুদ্ধে আপনাদের মতামত প্রচার করতে পারেন। সুন্দর ও শালীনভাবে যে যার বক্তব্য জাতীয় সংসদে রাখবেন, এটাই আমরা আশা করি। অহেতুক একজন বক্তাকে কেউ বিরক্ত করবেন না। আপনার সুযোগ যখন আসবে, আপনি বক্তব্য সুবিধামতো দেবেন।’

এরপর মাগরিবের নামাজের জন্য অধিবেশনে বিরতি দেওয়া হয়। বিরতির পরে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হলে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম বলেন, তিনি সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল করিমকে বিষয়টি নিয়ে জিজ্ঞাসা করেছেন। ওই সদস্য বলেছেন, অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক করা যাবে না। প্রয়োজন হলে এটি এক্সপাঞ্জ করে দেওয়ার কথা বলেন তিনি। পরে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। 

এমওএস/একিউএফ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow