জেলার সব সাব-রেজিস্ট্রি অফিসই কর্মকর্তা শূন্য, জনদুর্ভোগ চরমে

জমি ক্রয়-বিক্রয়, দলিল নিবন্ধন ও সরকারি রাজস্ব আদায়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবা দেওয়ার কথা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোর। কিন্তু লালমনিরহাট জেলার পাঁচটি উপজেলার সবকটি সাব-রেজিস্ট্রার পদই বর্তমানে শূন্য। ফলে অন্য জেলার কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে কোনোমতে চালানো হচ্ছে এসব অফিসের কার্যক্রম। সপ্তাহে পাঁচ দিনের পরিবর্তে মাত্র এক বা দুই দিন অফিস চালু থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সেবাগ্রহীতারা। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সরকারের রাজস্ব আদায়। জেলা রেজিস্ট্রারের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলার সদর, পাটগ্রাম, কালীগঞ্জ, হাতীবান্ধা ও আদিতমারী—পাঁচটি উপজেলার কোনো সাব-রেজিস্ট্রি অফিসেই বর্তমানে নিজস্ব কর্মকর্তা নেই। বিভিন্ন জেলার কর্মকর্তারা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করলেও তাদের মূল কর্মস্থলের পাশাপাশি অতিরিক্ত চাপ সামলাতে গিয়ে সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে শূন্য রয়েছে পাটগ্রাম সাব-রেজিস্ট্রার পদ। ২০১৭ সালে সর্বশেষ কর্মকর্তা বদলি হওয়ার পর প্রায় নয় বছরেও সেখানে নতুন কোনো কর্মকর্তা পদায়ন হয়নি। বর্তমানে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার রাশেদুজ্জামান সপ্তাহে মাত্র একদিন সেখানে দা

জেলার সব সাব-রেজিস্ট্রি অফিসই কর্মকর্তা শূন্য, জনদুর্ভোগ চরমে

জমি ক্রয়-বিক্রয়, দলিল নিবন্ধন ও সরকারি রাজস্ব আদায়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবা দেওয়ার কথা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোর। কিন্তু লালমনিরহাট জেলার পাঁচটি উপজেলার সবকটি সাব-রেজিস্ট্রার পদই বর্তমানে শূন্য। ফলে অন্য জেলার কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে কোনোমতে চালানো হচ্ছে এসব অফিসের কার্যক্রম। সপ্তাহে পাঁচ দিনের পরিবর্তে মাত্র এক বা দুই দিন অফিস চালু থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সেবাগ্রহীতারা। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সরকারের রাজস্ব আদায়।

জেলা রেজিস্ট্রারের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলার সদর, পাটগ্রাম, কালীগঞ্জ, হাতীবান্ধা ও আদিতমারী—পাঁচটি উপজেলার কোনো সাব-রেজিস্ট্রি অফিসেই বর্তমানে নিজস্ব কর্মকর্তা নেই। বিভিন্ন জেলার কর্মকর্তারা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করলেও তাদের মূল কর্মস্থলের পাশাপাশি অতিরিক্ত চাপ সামলাতে গিয়ে সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে শূন্য রয়েছে পাটগ্রাম সাব-রেজিস্ট্রার পদ। ২০১৭ সালে সর্বশেষ কর্মকর্তা বদলি হওয়ার পর প্রায় নয় বছরেও সেখানে নতুন কোনো কর্মকর্তা পদায়ন হয়নি। বর্তমানে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার রাশেদুজ্জামান সপ্তাহে মাত্র একদিন সেখানে দায়িত্ব পালন করেন। একই সঙ্গে তিনি লালমনিরহাট সদর উপজেলাতেও অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছেন।

অন্যদিকে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে সদর ও কালীগঞ্জের সাব-রেজিস্ট্রার বদলি হওয়ার পর পদ দুটি শূন্য হয়ে পড়ে। বর্তমানে কালীগঞ্জ অফিস পরিচালনা করছেন রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার রিপন চন্দ্র মণ্ডল।

হাতীবান্ধা উপজেলায় সাব-রেজিস্ট্রার আরিফ ইশতিয়াক বিসিএস ক্যাডারে যোগ দেওয়ার পর থেকে পদটি শূন্য রয়েছে। সেখানে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার সিরাজুল ইসলাম।

জেলার সব সাব-রেজিস্ট্রি অফিসই কর্মকর্তা শূন্য, জনদুর্ভোগ চরমে

জেলার পাঁচটি উপজেলার মধ্যে আদিতমারীতে শিউলী খাতুন নামে একজন কর্মকর্তা পদায়নকৃত থাকলেও তিনি বর্তমানে প্রশিক্ষণে রয়েছেন। ফলে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার কামরুন নাহারকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা সপ্তাহে মাত্র এক-দুদিন আসায় সেবাগ্রহীতাদের দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। সুমন ময়া নামের এক জমি ক্রেতা তার ভোগান্তির কথা জানিয়ে বলেন, কয়েকদিন ঘুরে সাব-রেজিস্ট্রার না পেয়ে ফিরে গেছি। তিনি আসেন মাত্র একদিন, সেদিন আবার জমির দাতা ছুটি পান না। এভাবে করে তিন মাস ধরে দলিল করতে পারছিলাম না। বিক্রেতাও বিপাকে, টাকার অভাবে মেয়ের বিয়ে দিতে পারছেন না।

দলিল লেখক আব্দুল খালেক সরকার বলেন, অন্য জেলার সাব-রেজিস্ট্রাররা নিজেদের অফিসের চাপ সামলে তারপর আমাদের এখানে আসেন। ৫ দিনের কাজ ১ দিনে করতে গিয়ে যা হওয়ার তাই হচ্ছে। দলিল লেখক, নকলনবিশ থেকে শুরু করে ক্রেতা-বিক্রেতা সবাই বিপাকে পড়ছেন। এতে দ্রুত সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না এবং সরকারের রাজস্ব আদায়ও কমে যাচ্ছে।

আরেক দলিল লেখক আব্দুল লতিফ সরকার জানান, রাজস্ব আদায়ের অন্যতম বড় মাধ্যম এ অফিসগুলো কর্মকর্তা শূন্য থাকায় সরকার বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে। ধার করা অফিসার দিয়ে সুষ্ঠু সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি দ্রুত কর্মকর্তা পদায়নের দাবি জানান।

সার্বিক বিষয়ে লালমনিরহাট জেলা রেজিস্ট্রার সাখাওয়াত হোসেন শূন্য পদের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, জেলার পাঁচটি কার্যালয়েই বাইরের জেলার কর্মকর্তাদের দিয়ে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করানো হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ এসব পদ শূন্য থাকায় অফিসের কার্যক্রমে স্থবিরতা এসেছে। জনভোগান্তি লাঘবে সাব-রেজিস্ট্রার পদায়নের জন্য আমরা মন্ত্রণালয়ে কয়েক দফায় চিঠি পাঠিয়েছি। দ্রুত পদায়ন দেওয়া হলে এ দুর্ভোগ কেটে যাবে।

মহসীন ইসলাম শাওন/কেএইচকে/এমএস

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow