ঝুঁকিপূর্ণ সেতুতে দুর্ভোগ চরমে, আতঙ্কে তিন ইউনিয়নের মানুষ
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার খালিশা চাপানী ইউনিয়নের গোডাউনের হাট সংলগ্ন ধুম নদীর ওপর নির্মিত একমাত্র পাকা সেতুটি দীর্ঘদিনের অবহেলা ও সংস্কারের অভাবে এখন ভয়াবহ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বয়সের ভারে নড়বড়ে হয়ে পড়া সেতুটি এলাকাবাসীর কাছে এখন ‘মরণফাঁদ’ হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি। সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার খালিশা চাপানী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় থেকে প্রায় ৩০০ গজ পশ্চিমে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ এ সেতুর মাঝখানের অংশসহ অন্তত তিনটি স্থানে দেবে গিয়ে উঁচু-নিচু হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন স্থানে পিচ ও কংক্রিট উঠে গিয়ে বড় বড় ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। সেতুর রেলিংয়ের কিছু অংশও ক্ষতিগ্রস্ত। ফলে যানবাহন চলাচলের সময় ঝুঁকি আরও বাড়ছে। বিশেষ করে ট্রাক ও ট্রাক্টরের মতো ভারী যানবাহন পারাপারের সময় আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়। স্থানীয়রা জানান, নাউতারা, গয়াবাড়ী ও খালিশা চাপানী ইউনিয়নের হাজারো মানুষ প্রতিদিন এই সেতু ব্যবহার করে যাতায়াত করেন। ট্রাক, ট্রাক্টর, মাইক্রোবাস, অটোরিকশা, ভ্যান ও মোটরসাইকেলসহ শতাধিক যানবাহন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ত সেতুটি পারাপ
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার খালিশা চাপানী ইউনিয়নের গোডাউনের হাট সংলগ্ন ধুম নদীর ওপর নির্মিত একমাত্র পাকা সেতুটি দীর্ঘদিনের অবহেলা ও সংস্কারের অভাবে এখন ভয়াবহ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বয়সের ভারে নড়বড়ে হয়ে পড়া সেতুটি এলাকাবাসীর কাছে এখন ‘মরণফাঁদ’ হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার খালিশা চাপানী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় থেকে প্রায় ৩০০ গজ পশ্চিমে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ এ সেতুর মাঝখানের অংশসহ অন্তত তিনটি স্থানে দেবে গিয়ে উঁচু-নিচু হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন স্থানে পিচ ও কংক্রিট উঠে গিয়ে বড় বড় ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। সেতুর রেলিংয়ের কিছু অংশও ক্ষতিগ্রস্ত। ফলে যানবাহন চলাচলের সময় ঝুঁকি আরও বাড়ছে। বিশেষ করে ট্রাক ও ট্রাক্টরের মতো ভারী যানবাহন পারাপারের সময় আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়।
স্থানীয়রা জানান, নাউতারা, গয়াবাড়ী ও খালিশা চাপানী ইউনিয়নের হাজারো মানুষ প্রতিদিন এই সেতু ব্যবহার করে যাতায়াত করেন। ট্রাক, ট্রাক্টর, মাইক্রোবাস, অটোরিকশা, ভ্যান ও মোটরসাইকেলসহ শতাধিক যানবাহন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ত সেতুটি পারাপার করছে। সন্ধ্যার পর সেতুতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বাড়ে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সেতুটির বেহাল অবস্থার বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। মাঝে মধ্যে সামান্য সংস্কার কাজ করা হলেও তা টেকসই হয়নি।
এই সেতুর ওপর নির্ভরশীল তিন ইউনিয়নের কৃষক ও ব্যবসায়ীরা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। কৃষিপণ্য নিয়ে গোডাউনের হাট, নাউতারা হাট, নতুন বাজার ও শুটিবাড়ী হাটে যেতে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিতে হচ্ছে তাদের। অনেক সময় ভারী যানবাহন বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে বাধ্য হওয়ায় বাড়ছে সময় ও পরিবহন ব্যয়। এতে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষি অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
শুধু ব্যবসা-বাণিজ্য নয়, শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগও বেড়েছে কয়েকগুণ। ঐতিহ্যবাহী ছোটখাতা বহুমুখী ফাজিল মাদ্রাসা, গোডাউনের হাট দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়সহ আশপাশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থী প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেতুটি পার হয়ে যাতায়াত করছে।
তিস্তা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী রাকিব হাসান বলেন, প্রতিদিন ভয় নিয়ে সেতু পার হয়ে কলেজে যেতে হয়। সেতুর মাঝখানে ফাটল ও দেবে যাওয়া অংশ থাকায় সব সময় আতঙ্কে থাকতে হয়। বিশেষ করে বৃষ্টি হলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। মনে হয়, যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, প্রতিদিন ভয় নিয়ে সেতু পার হতে হয়। কখন কী ঘটে সেই আতঙ্ক সব সময় কাজ করে।
ছোটখাতা বহুমুখী ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা বজলার রহমান বলেন, প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের এই সেতু দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। সব সময় আতঙ্কে থাকি, যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, তার দায় কে নেবে?
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও সেতুটির বেহাল অবস্থার কথা স্বীকার করেছেন। খালিশা চাপানী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মইনুল হক বলেন, সেতুটি অনেক আগেই ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে গেছে। দ্রুত এটি ভেঙে নতুন সেতু নির্মাণ করা জরুরি।
সাবেক চেয়ারম্যান সামছুল হক হুদা বলেন, বড় দুর্ঘটনা ঘটার আগেই ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠবে।
খালিশা চাপানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সহিদুজ্জামান সরকার বলেন, সেতুটি পুনর্নির্মাণের জন্য একাধিকবার উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) আবেদন করা হয়েছে। তবে এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মো. সোহেল রানা বলেন, সেতুটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত অবগত নই। দ্রুত সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, জনস্বার্থ বিবেচনায় সেতুটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
What's Your Reaction?