টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণে মানতে হবে ১১ নির্দেশনা

সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য, প্রতিবেশগত ভারসাম্য ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জেলা প্রশাসন। হাওরের পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) সীমানার অভ্যন্তরে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব ধরনের হাউজবোট এবং পর্যটকবাহী নৌযান প্রবেশ ও চলাচল সস্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণাসহ ১১টি জরুরি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। একইসঙ্গে হাওরে চলাচলকারী সব নৌযানের মালিক ও পরিচালনাকারীদের ১০ আগস্টের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রোববার (২ আগস্ট) রাতে জেলা প্রশাসন সুনামগঞ্জের ফেসবুক পেজে এই গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান সই করা গণবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, টাঙ্গুয়ার ও হাকালুকি হাওর সুরক্ষা আদেশ, ২০২৫’ এর আলোকে পরিবেশ রক্ষা ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ১১ দফা জরুরি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত টাঙ্গুয়ার হাওরের ইকোলজিক্যালি ক্রিটিক্যাল এরিয়া ঘোষিত সীমানায় সব ধরনের হাউজবোট এবং পর্যটকবাহী নৌযানের প্রবেশ ও চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। এতে আরও বলা হয়, ১০ আগস্টের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ নি

টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণে মানতে হবে ১১ নির্দেশনা

সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য, প্রতিবেশগত ভারসাম্য ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জেলা প্রশাসন।

হাওরের পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) সীমানার অভ্যন্তরে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব ধরনের হাউজবোট এবং পর্যটকবাহী নৌযান প্রবেশ ও চলাচল সস্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণাসহ ১১টি জরুরি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। একইসঙ্গে হাওরে চলাচলকারী সব নৌযানের মালিক ও পরিচালনাকারীদের ১০ আগস্টের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২ আগস্ট) রাতে জেলা প্রশাসন সুনামগঞ্জের ফেসবুক পেজে এই গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান সই করা গণবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, টাঙ্গুয়ার ও হাকালুকি হাওর সুরক্ষা আদেশ, ২০২৫’ এর আলোকে পরিবেশ রক্ষা ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ১১ দফা জরুরি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত টাঙ্গুয়ার হাওরের ইকোলজিক্যালি ক্রিটিক্যাল এরিয়া ঘোষিত সীমানায় সব ধরনের হাউজবোট এবং পর্যটকবাহী নৌযানের প্রবেশ ও চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।

এতে আরও বলা হয়, ১০ আগস্টের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ নির্ধারিত ফরমে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে হাউজবোটের নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন না করলে বা অনুমতি না থাকলে কোনো নৌযান পরিচালনা করা যাবে না।

হাউজবোটে উচ্চস্বরে গান-বাজনা, মাইক বাজানো বা পার্টির আয়োজন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নৌযানে পানি বিশুদ্ধকারী ফিল্টার রাখতে হবে।

‌‘হাউসবোটে বাধ্যতামূলকভাবে সেপটিক ট্যাংক ও অন্তত দুটি ডাস্টবিন স্থাপন করতে হবে। হাওর বা জলাশয়ে কোনো ধরনের বর্জ্য ফেলা যাবে না। হাউজবোটের দৈর্ঘ্য সর্বোচ্চ ১০০ ফুটের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট, লাইফবয় রিং, অগ্নি-নির্বাপক যন্ত্র রাখা এবং গ্যাস সিলিন্ডারের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। পর্যটকদের জন্য আচরণবিধি দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করতে হবে এবং ট্যুর শুরুর আগেই তা পর্যটকদের অবহিত করতে হবে।’

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগের জন্য জেলা/উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও হাসপাতালের নম্বর দৃশ্যমান স্থানে ঝুলিয়ে রাখতে হবে। প্রতিটি ট্যুরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় পর্যটক পরিবহন সম্পূর্ণরুপে নিষিদ্ধ থাকবে। আকস্মিক ঝড়, প্রবল বৃষ্টিপাত বা বজ্রপাতের আশঙ্কাকালীন পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি কেউ যদি এই ১১ নির্দেশনা অমান্য করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মিনহাজুর রহমান বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওর রক্ষায় নানা পদক্ষেপ ও নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। কেউ এই নির্দেশনা অমান্য করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

লিপসন আহমেদ/এসআর/এএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow