টানা ৯০ দিন চা পান না করলে কী ঘটে শরীরে, জানালেন বিশেষজ্ঞ
সকালে এক কাপ ধোঁয়া ওঠা গরম চায়ের কাপে চুমুক না দিলে অনেকেরই দিন শুরু হয় না। ক্লান্তি দূর করতে কিংবা কাজের মাঝে নিজেকে চনমনে রাখতে চায়ের ওপর আমাদের নির্ভরতা এক অবিচ্ছেদ্য অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কিন্তু আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন, যদি টানা ৯০ দিন বা তিন মাস এই প্রিয় পানীয়টি পান করা ছেড়ে দেন, তবে আপনার শরীরে ঠিক কী কী পরিবর্তন ঘটবে? ভারতের থানের কিমস হাসপাতালের ডায়াবেটোলজি বিভাগের প্রধান ডা. বিজয় নেগালুর জানান, চা পান বন্ধ করলে শরীর প্রথমে ক্যাফেইনের আকস্মিক অভাব অনুভব করে এবং পরবর্তীতে ধীরে ধীরে নতুন এক ভারসাম্য খুঁজে নেয়। দীর্ঘ তিন মাসের এই যাত্রায় ক্যাফেইনের ওপর নির্ভরতা কাটিয়ে শরীর কীভাবে আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে, তারই এক চমকপ্রদ বিশ্লেষণ দিয়েছেন এই বিশেষজ্ঞ। প্রথম দুই সপ্তাহ: আসক্তি মুক্তির লড়াই যারা নিয়মিত চা পান করেন, তাদের জন্য প্রথম এক থেকে দুই সপ্তাহ বেশ চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। এ সময় ক্যাফেইন না পাওয়ার কারণে শরীরে কিছু প্রত্যাহারজনিত লক্ষণ দেখা দেয়। এ সময় প্রচণ্ড মাথাব্যথা, ক্লান্তি, খিটখিটে মেজাজ এবং কাজে মনোযোগ দিতে সমস্যা হতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে চায়ের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষাও কা
সকালে এক কাপ ধোঁয়া ওঠা গরম চায়ের কাপে চুমুক না দিলে অনেকেরই দিন শুরু হয় না। ক্লান্তি দূর করতে কিংবা কাজের মাঝে নিজেকে চনমনে রাখতে চায়ের ওপর আমাদের নির্ভরতা এক অবিচ্ছেদ্য অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কিন্তু আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন, যদি টানা ৯০ দিন বা তিন মাস এই প্রিয় পানীয়টি পান করা ছেড়ে দেন, তবে আপনার শরীরে ঠিক কী কী পরিবর্তন ঘটবে?
ভারতের থানের কিমস হাসপাতালের ডায়াবেটোলজি বিভাগের প্রধান ডা. বিজয় নেগালুর জানান, চা পান বন্ধ করলে শরীর প্রথমে ক্যাফেইনের আকস্মিক অভাব অনুভব করে এবং পরবর্তীতে ধীরে ধীরে নতুন এক ভারসাম্য খুঁজে নেয়। দীর্ঘ তিন মাসের এই যাত্রায় ক্যাফেইনের ওপর নির্ভরতা কাটিয়ে শরীর কীভাবে আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে, তারই এক চমকপ্রদ বিশ্লেষণ দিয়েছেন এই বিশেষজ্ঞ।
প্রথম দুই সপ্তাহ: আসক্তি মুক্তির লড়াই
যারা নিয়মিত চা পান করেন, তাদের জন্য প্রথম এক থেকে দুই সপ্তাহ বেশ চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। এ সময় ক্যাফেইন না পাওয়ার কারণে শরীরে কিছু প্রত্যাহারজনিত লক্ষণ দেখা দেয়। এ সময় প্রচণ্ড মাথাব্যথা, ক্লান্তি, খিটখিটে মেজাজ এবং কাজে মনোযোগ দিতে সমস্যা হতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে চায়ের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষাও কাজ করে। ডা. নেগালুর জানান, এগুলো মূলত ক্যাফেইন না পাওয়ায় শরীরের সাময়িক প্রতিক্রিয়া, যা সময়ের সাথে সাথে কমে আসে।
তৃতীয় ও চতুর্থ সপ্তাহ: স্থিতিশীলতা ফিরে আসা
প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে তিন থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে শরীর নতুন অভ্যাসের সাথে মানিয়ে নিতে শুরু করে। এ সময় শক্তির মাত্রা সারাদিন স্থিতিশীল থাকে এবং চা পানের পর যে সাময়িক চনমনে ভাব বা পরবর্তীতে ক্লান্তিবোধের চক্র, তা দূর হয়ে যায়। চায়ের ওপর নির্ভর না করেই অনেকে আগের চেয়ে বেশি সতেজ বোধ করতে শুরু করেন এবং অহেতুক চায়ের তৃষ্ণা কমে আসে।
উন্নত ঘুম ও মানসিক প্রশান্তি
চায়ে থাকা ক্যাফেইন অনেকের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। চা ছেড়ে দিলে বা কমিয়ে দিলে ঘুমের মান নাটকীয়ভাবে উন্নত হয়। বিশেষ করে যারা বিকেলের পর চা পান করতেন, তারা লক্ষ্য করবেন যে এখন আরও দ্রুত ঘুম আসছে এবং গভীর ঘুম হচ্ছে। উন্নত মানের ঘুমের ফলে পরদিন মেজাজ ফুরফুরে থাকে এবং কাজের প্রতি একাগ্রতা বাড়ে।
হজমশক্তি ও দীর্ঘমেয়াদী সুফল
অনেকেই খালি পেটে চা পান করেন, যা থেকে অ্যাসিডিটি, পেট ফাঁপা বা হজমের সমস্যা হতে পারে। ৯০ দিনের এই যাত্রায় এ ধরনের অস্বস্তি অনেকটাই কমে যায়। তিন মাস পর শরীর পুরোপুরি অভ্যস্ত হয়ে গেলে শক্তির স্থিতিশীল মাত্রা বজায় থাকে এবং ক্যাফেইনের ওপর চিরস্থায়ী নির্ভরতা কমে যায়। এছাড়া মাত্রাতিরিক্ত চা পানের অভ্যাস ছাড়লে তা হৃদস্বাস্থ্যের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং দাঁতের হলদেটে ছোপ বা দাগ ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে।
সবশেষে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ
সুস্থ থাকার জন্য যে চা পুরোপুরি বর্জন করতে হবে, বিষয়টি তেমন নয়। ডা. নেগালুর জানান, পরিমিত পরিমাণে চা পান করা ক্ষতিকর নয়। সমস্যা তখনই হয় যখন কেউ ক্লান্তির সাথে লড়াই করতে অতিরিক্ত চায়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। তাই চা পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়ার চেয়ে নিজের সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত ব্যায়াম এবং মানসিক চাপের ব্যবস্থাপনার দিকে নজর দেওয়া বেশি জরুরি।
তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
What's Your Reaction?