ট্রাম্প-ইনফান্তিনো বিতর্ক নিয়ে যে কারণে তদন্ত করতে রাজি নয় আইওসি

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্কের মাধ্যমে অলিম্পিকের রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার নীতি লঙ্ঘনের যে অভিযোগ উঠেছে, সেটির তদন্ত করবে না আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি)। আইওসি জানিয়েছে, অভিযোগটি মূলত ফিফার অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত, প্রশাসন ও পরিচালনা-সংক্রান্ত হওয়ায় তাদের নৈতিকতা কমিশনের এখতিয়ারের বাইরে পড়ে। মানবাধিকার সংস্থা ফেয়ারস্কয়ার চলতি মাসের শুরুতে আইওসির কাছে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেয়। অভিযোগে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুনের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক প্রভাব থাকতে পারে। সংস্থাটির দাবি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে ইনফান্তিনোর কাছে লাল কার্ডের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছিলেন, এরপরই ফিফা বালোগুনের স্বয়ংক্রিয় নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে। যদিও ইনফান্তিনো আইওসির সদস্য, তবুও আইওসির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, নৈতিকতা কমিশন অভিযোগটি বিস্তারিত পর্যালোচনা করে দেখেছে এবং সিদ্ধান্তে এসেছে যে এটি তাদের তদন্তের আওতায় পড়ে না। আইওসির বিবৃতিতে বলা হয়, অলিম্পিক সনদ অ

ট্রাম্প-ইনফান্তিনো বিতর্ক নিয়ে যে কারণে তদন্ত করতে রাজি নয় আইওসি

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্কের মাধ্যমে অলিম্পিকের রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার নীতি লঙ্ঘনের যে অভিযোগ উঠেছে, সেটির তদন্ত করবে না আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি)।

আইওসি জানিয়েছে, অভিযোগটি মূলত ফিফার অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত, প্রশাসন ও পরিচালনা-সংক্রান্ত হওয়ায় তাদের নৈতিকতা কমিশনের এখতিয়ারের বাইরে পড়ে।

মানবাধিকার সংস্থা ফেয়ারস্কয়ার চলতি মাসের শুরুতে আইওসির কাছে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেয়। অভিযোগে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুনের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক প্রভাব থাকতে পারে। সংস্থাটির দাবি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে ইনফান্তিনোর কাছে লাল কার্ডের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছিলেন, এরপরই ফিফা বালোগুনের স্বয়ংক্রিয় নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে।

যদিও ইনফান্তিনো আইওসির সদস্য, তবুও আইওসির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, নৈতিকতা কমিশন অভিযোগটি বিস্তারিত পর্যালোচনা করে দেখেছে এবং সিদ্ধান্তে এসেছে যে এটি তাদের তদন্তের আওতায় পড়ে না।

আইওসির বিবৃতিতে বলা হয়, অলিম্পিক সনদ অনুযায়ী প্রতিটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ফেডারেশন নিজেদের প্রশাসন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বাধীন। আইওসির নৈতিকতা বিধি কেবল আন্তর্জাতিক ফেডারেশনগুলোর সঙ্গে আইওসির সম্পর্কের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ফেয়ারস্কয়ারের অভিযোগে ফিফার প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক এবং ফুটবলের নিয়ম বাস্তবায়নের বিষয়গুলো উঠে এসেছে, যা আইওসির নৈতিকতা বিধির আওতার বাইরে। তাই অভিযোগটি তদন্তের এখতিয়ার তাদের নেই।

তবে আইওসি জানিয়েছে, সাম্প্রতিক অধিবেশনেও যেমন পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে, অলিম্পিক আন্দোলনের অধীন সংস্থাগুলোর মধ্যে সুশাসন জোরদার এবং দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা আরও স্পষ্ট করতে তারা কাজ চালিয়ে যাবে।

অন্যদিকে, ফেয়ারস্কয়ার গত বছরের ডিসেম্বরে ফিফার নৈতিকতা কমিটির তদন্ত শাখার কাছেও ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে পৃথক অভিযোগ দায়ের করে। সেখানে অভিযোগ করা হয়, চারটি ভিন্ন ঘটনায় ইনফান্তিনো প্রকাশ্যে ট্রাম্পের বিভিন্ন পদক্ষেপ ও নীতির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

এছাড়া ২০২৬ বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে ফিফা পিস প্রাইজ চালু করা এবং সেই পুরস্কার ট্রাম্পকে দেওয়ার সিদ্ধান্তও তদন্তের দাবি জানায় সংস্থাটি। তাদের অভিযোগ, এসব সিদ্ধান্ত ফিফার নিজস্ব প্রক্রিয়াগত নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

ফেয়ারস্কয়ার জানিয়েছে, ফিফার নৈতিকতা কমিটি অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও এরপর আর কোনো অগ্রগতির তথ্য জানায়নি।

এরই মধ্যে নতুন বিতর্ক তৈরি হয় ফোলারিন বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের ঘটনায়। গত ৫ জুলাই ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি জানায়, মোনাকোর এই ফরোয়ার্ডের এক ম্যাচের স্বয়ংক্রিয় নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা হয়েছে। পরদিন ট্রাম্প নিজেই প্রকাশ করেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে ইনফান্তিনোর কাছে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেছিলেন।

যদিও ইনফান্তিনো দাবি করেছেন, ফিফার বিচারিক কমিটিগুলো সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেয়, তবুও কেন বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা হলো, সে বিষয়ে ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি এখনো কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়নি।

এদিকে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা এই সিদ্ধান্তকে 'অভূতপূর্ব, বোধগম্য নয় এবং কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়' বলে সমালোচনা করেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্দার চেফেরিন এই ইস্যুসহ ফিফার প্রশাসন নিয়ে আরও কিছু উদ্বেগের কারণে গত বিশ্বকাপ ফাইনালে উপস্থিত হননি।

এমএমআর

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow